আল কুরআন পর্ব – ১

পবিত্র কুরআনের কিছু আয়াত সমূহের অনুবাদ ও ব্যাখ্যা যা আপনার ব্রেন ও মন কে বদলাতে সহযোগিতা করবে।

কালেমা তৈয়বা শরীফের ফজীলত

আমরা সারাদিন এতো ব্যাস্ত থাকি যে, আল্লাহ্‌ কে ডাকা ভুলে যাই। নামাজের কথা বললে সবার পেন্ট এ সমস্যা, এই সমস্যা ঐ সমস্যা নানা অজুহাত শুরু হয়ে যায়। আশাকরি এই আয়াত ও তাঁর ব্যাখ্যা সমূহ হয় তো আপনার এই চিন্তা-চেতনা কে বদলিয়ে দিতে পারে। তাই সামান্য সময় নিয়ে হলেও নিজের জন্য হলেও একটু কুরআন পড়ুন আপনার রুহ টাও শান্তি পাবে।

আয়াতাংশ

আল্লাহ্‌ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলছেন-

al quran

অর্থঃ

পুরুষ এবং নারীর মধ্যে যে কেউ মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, আমি অবশ্যই তাকে শান্তিময় জীবন দান করব। এবং তারা যা আমল করত তাঁর তুলনায় আমি অবশ্যই তাঁদের কে উত্তম পুরস্কার দিব।

(সূরা নাহল, আয়াত – ৯৭)

ব্যাখ্যাঃ

আল্লাহ্‌ কে আমরা দেখিনি কিন্তু এরপর ও আমরা তাকে নিজের জীবনের চাইতেও বেশি বিশ্বাস করি। এক কোথায় আমরা আল্লাহ্‌ বলতে অন্ধ্য। তাই এমন নারী-পুরুষ যারা আছে তারা যদি বিন্দু পরিমাণ ও নেক কাজ করে ও আমল করে, আল্লাহ্‌ তায়ালা এর পরিবর্তে কেয়ামতের দিন তাঁর আমল সমূহ কে ৭০ গুন বৃদ্ধি করে দিবেন। এবং তাঁদের উপহার হিসেবে দিবেন চিরস্থায়ী জান্নাত। যদি তারা মুমিন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।

আয়াতাংশ

আল্লাহ্‌ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলছেন-

কুরআন

নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে তাঁদের জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস আপ্যায়ন স্বরূপ।

যেখানে তারা চিরস্থায়ী থাকবে, সেখান থেকে তারা স্থানন্তর কামনা করবেনা।

(সূরা কাহাফ, আয়াত – ১০৬:১০৭)

ব্যাখাঃ

এই আয়াতের দ্বারা আমরা স্পষ্ট ভাবে বুঝতে পারছি যে, নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ্‌ কে নেক আমল করার মাধ্যমে সন্তুষ্ট করেছে বা করবে আল্লাহ্‌ তায়ালা তাঁদের কে সর্বোচ্চ জান্নাত, জান্নাতুল ফিরদাউস দান করবেন। যেখানে এমন চিরস্থায়ী শান্তি বিদ্যমান থাকবে যা থেকে কেউ কখনো বের হতে চাইবেনা।

আলহামদুলিল্লাহ্‌।

আয়াতাংশ

ইসলাম

তোমরা কি মনে কর যে, কোন নেক আমল ব্যতীত তোমরা এমনিতেই জান্নাতে চলে যাবে? অথচ আল্লাহ্‌ জানেন তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করেছেন এবং কারা ধৈর্যশীল।

(সূরা আল ইমরান, আয়াত – ১৪২)

ব্যাখাঃ

এই আয়াত থেকে আমরা শিখতে পাই যে, আল্লাহ্‌ তায়ালা যেমন জান্নাতে যাওয়া সহজ করেছেন বান্দার জন্য, ঠিক তেমনি বান্দার জন্য শাস্তি স্বরূপ জাহান্নাম ও রয়েছে। তাই জান্নাতে জেতে হলে ঈমান আনায়নের পরে অবশ্যই তাকে দুঃখ, কষ্ট, ও পরীক্ষায় আল্লাহ্‌ তায়ালা ফেলবেন। যেমন কিনা আমাদের নবীজীকে আল্লাহ্‌ তায়ালা দিয়েছিলেন। তাই পরীক্ষা বা কোন মানুষ কষ্ট না ভোগ করে এত সহজে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা। তাই আল্লাহ্‌ যখন আমাদের পরীক্ষায় বা দুঃখ, কষ্টে ফেলেন তেমনি কষ্টের পরে সুখ ও দান করেন। তাই হতাশ না হয়ে আমাদের সর্বদা আল্লাহর কাছে প্রার্থনায় লিপ্ত থাকা উচিৎ।

আয়াতাংশ

Islam

আর মন্দের (গুনাহের) প্রতিফলন অনুরুপ মন্দ। অতঃপর যে ক্ষমা দেয় এবং আপোস নিষ্পত্তি করে, তাঁর পুরুস্কার আল্লাহর নিকট রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ যালিমদের পছন্দ করেন না।

(সূরা আস শুরা, আয়াত – ৪০)

ব্যাখাঃ

ক্ত আয়াত থেকে আমরা শিখতে পাই যে, প্রতিটি জিনিষের ডান পিঠ ও বাম পিঠ রয়েছে। ঠিক তেমনি এই দুনিয়াতে ভাল কাজ করলে ভাল প্রতিদান রয়েছে। ও খারাপ কাজ করলে খারাপ কাজ করলে খারাপ প্রতিদান ও রয়েছে। তাই কোন ব্যক্তি যদি কারো থেকে কষ্ট পায় এবং এর পরিবর্তে অন্য কে ক্ষমা করে দেয় তবে তাঁর জন্য স্বয়ং আল্লহার কাছে পুরস্কার জমা রয়েছে। অতএব আল্লাহ্‌ তায়ালা জুলুমকারী কে পছন্দ করেন না। এবং এই আয়াত দ্বারা প্রমানিত হয় যে, ক্ষমা মহৎ গুন।

আয়াতাংশ

Modern Islam

অতএব কেউ যদি অণু পরিমাণ নেক কাজ করে তাও সে দেখতে পাবে। এবং অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করলেও তা সে দেখতে পাবে।

(সূরা জিলজাল, আয়াত – ৭:৮)

ব্যাখ্যাঃ

আমরা যখন মন্দ কাজ করতে থাকি তখন ভাবি যে, শেষ বয়সে আল্লাহ্‌ কে ডাকবো আল্লাহ্‌ ক্ষমা করে দিবে। কিন্তু আমরা তা জানা শর্তেও ভুলে যাই যে, কেয়ামতের দিন আমাদের হাত-পা সহ আমাদের সকল অঙ্গ কথা বলতে শুরু করবে যে, আমাকে উনি এভাবে ব্যবহার করেছে। এভাবে আমার দ্বারা অন্যের ক্ষতি সাধন করেছে। তখন বান্দার লজ্জিত হওয়া ছাড়া আর কোন গতি থাকবেনা। তাই নিজেদের নিজেরা পরিশুদ্ধ করি।

শেষ কথাঃ

আল্লাহ্‌ আমাদের অনেক বড় নেয়ামত দিয়েছেন আর তা হচ্ছে, এই পবিত্র কুরআন। যা থেকে আমরা চাইলে সব কিছুই শিখতে পারি বড় বড় বিজ্ঞানীরাও কুরআন ছাড়া রিসার্চ এ নামতেই পারেনা। তারা সাধারণ মানুষের চাইতেও অনেক বেশি জানে। কিন্তু শিকার করেনা মৃত্যুর ও আত্মমর্যাদার ভয়ে। কিন্তু আমরা সবি জানি কিন্তু আল্লাহর কাজ করে ও না বরং কিছু হলে আল্লাহ্‌ কে দোষারোপ করতে কোন অংশে ছাড়ি না। তাই আমাদের উচিৎ শত ব্যাস্ততার মাঝেও আল্লাহ্‌ কে ডাকা। আল্লাহ্‌ আমাদের জীবনে এমনিতেই বরকতে ভরিয়ে দিবেন। আল্লাহ্‌ তায়ালা আমাদের সকল কে দুনিয়াতে আল্লাহর সকল হুকুম-আহকাম মেনে চলার তৌফিক দান করুক।

আমিন।

লেখক পরিচিতিঃ

আর্টিকেল টি লিখেছেন ও ধারাবাহিক ভাবে লিখে যাবেন – হাফেজ মোঃ উবায়দুল্লাহ ফারহান

(জামাতে জালালাইন বিভাগের ছাত্র)

দারুল উলুম আজমপুর, মাদ্রাসাহ

উত্তরা, ঢাকা

 

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here