ইসলামে বদনজর এর কোন অস্তিত্ব আছে কি? | Truth about the Evil Eye in Islam

370
নজর এর কোন অস্তিত্ব আছে কি?,Truth about the Evil Eye in Islam,Modernislam

Evil eye কি? এটা কি সত্যি নাকি কুসংকার। এই ব্যাপারে সহিহ হাদিস রয়েছে,

 ইসলামে বদনজর এর কোন অস্তিত্ব আছে কি?,Truth about the Evil Eye in Islam,Modernislam

“the evil eye is true”

عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ اسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ فَإِنَّ الْعَيْنَ حَقٌّ আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। কেননা বদনজর সত্য বা বাস্তব ব্যাপার।

তোমরা বদ নজরের ক্রিয়া (খারাপ প্রভাব) থেকে রক্ষার জন্যে আল্লাহ তায়ালার সাহায্য প্রার্থনা কর। কেননা তা সত্য।

(সুনানু ইবনে মাযাহ,হাদিস নং-৩৫০৮,পাবলিশার,বাংলা হাদিস)

এবং পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,

وَقَالَ يَٰبَنِىَّ لَا تَدْخُلُوا۟ مِنۢ بَابٍ وَٰحِدٍ وَٱدْخُلُوا۟ مِنْ أَبْوَٰبٍ مُّتَفَرِّقَةٍ ۖ وَمَآ أُغْنِى عَنكُم مِّنَ ٱللَّهِ مِن شَىْءٍ ۖ إِنِ ٱلْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ ۖ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ ۖ وَعَلَيْهِ فَلْيَتَوَكَّلِ ٱلْمُتَوَكِّلُونَ وَلَمَّا دَخَلُوا۟ مِنْ حَيْثُ أَمَرَهُمْ أَبُوهُم مَّا كَانَ يُغْنِى عَنْهُم مِّنَ ٱللَّهِ مِن شَىْءٍ إِلَّا حَاجَةً فِى نَفْسِ يَعْقُوبَ قَضَىٰهَا ۚ وَإِنَّهُۥ لَذُو عِلْمٍ لِّمَا عَلَّمْنَٰهُ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ

সে বলল,‘হে আমার ছেলেরা, তোমরা এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করো না, বরং ভিন্ন ভিন্ন দরজা দিয়ে প্রবেশ কর এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তের বিপরীতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না। হুকুম একমাত্র আল্লাহরই। তাঁরই উপর আমি তাওয়াক্কুল করছি এবং তাঁরই উপর যেন সকল তাওয়াক্কুলকারী তাওয়াক্কুল করে’। আর যখন তারা প্রবেশ করল, যেভাবে তাদের পিতা তাদেরকে আদেশ করেছিল, তা আল্লাহর হুকুমের বিপরীতে তাদের কোন উপকারে আসেনি, তবে তা ছিল ইয়া’কূবের মনের একটি ইচ্ছা, যা সে ব্যক্ত করেছিল। আর সে ছিল জ্ঞানী, কারণ আমি তাকে শিখিয়েছিলাম। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।

(সূরা ইউসুফ,আয়াতঃ ৬৭-৬৮)

এমনটি তিনি বদ নজরের ভয়ে বলেছিলেন। কেননা তার সন্তানরা খুবই সুন্দর সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন। তাই তাদের উপর লোকদের বদনজরের আশঙ্কা করে উক্ত নির্দেশ দেন ।

কেননা বদনজরের ক্রিয়া বাস্তব; কিন্তু পরে তিনি এও বলেনঃ তবে এ ব্যবস্থা আল্লাহর তাকদীরকে প্রতিহত করতে পারবে না। তিনি যা চাবেন তাই হবে, পরিশেষে তা তাদের জন্য বদনজর হতে প্রতিরোধক হিসেবেই আল্লাহর হুকুমে কাজ হয়েছিল

এই ইয়াকুব এর গল্পটি প্রমান করে যে কেন সে চাইনি তাঁর ১১ টা ছেলে একসাথে ঢুকুক।

ঐ সময়ে ১১ টা ছেলে থাকা, আশীর্বাদ স্বরূপ। সে ayn অর্থাৎ ৩য় চোখ, যাকে আমরা বদ নজর বলে থাকি। এই সম্পর্কে এ তিনি সর্বদা চিন্তিত থাকত।

৪-৫ টি হাদিস রয়েছে ayn সম্পর্কে এবং কুরআনে পরোক্ষ reference আছে।

আমরা, আহলে সুন্নাহ এবং জামাত বিশ্বাস করি যে ayn এর অস্তিত্ব রয়েছে।

অনেক modernist আছে যারা এটা বুঝতে পারে না, তাই তাঁরা ayn কে অস্বীকার করে। কিন্তু কুরআন এবং সুন্নাহ এর মোতাবেক ayn এর অস্তিত্ব রয়েছে। “sharri hasidin idha hasad

হাসাদ মানে হিংসা। যখন কোন মানুষ হিংসা করে,তার মধ্যে EVIL EYE থাকে এবং তা মানুষের উপর প্রভাব ফেলে। Ayn হল হিংসার নেতিবাচক ফলাফল। Ayn চোখের সাথে সম্পর্কিত নয়। কারণ কোন কিছু শুনেও হিংসা করা যায়। Ayn মন থেকে আসে। হিংসা ভালো কাজ কে নষ্ট করে দেয়। হিংসা হাসনাতকে ধ্বংস করে দেয়। হিংসা এমন একটি অকলুষিত জিনিস যা শয়তানকে অন্যের ক্ষতি সাধন করতে সাহায্য করে। এখানে শয়তান মানে খারাপ জীনকেও বুঝানো হয়েছে।

৪টি জিনিষ যা Ayn থেকে আমাদের রক্ষা করবে

১. দুআ ২টি সূরা ফালাক

লোক দেখানোর জন্য কিছু না করা

ইচ্ছাকৃত ভাবে লোক দেখানো কাজ গুনার ন্যায়।

৩. নিজে হিংসাবোধ অনুভব করা

যদি এমনটি হয়, তাহলে সবচেয়ে ভালো উপায় হল… মাশা-আল্লাহ এবং  তাবাকাল্লাহ বলা।

এর প্রমাণ হল সূরা কাআহাফ এর ৩৯ নং আয়াতে। অনেক কিছু নিয়েই মানুষ হিংসা করতে পারে, যেমন- ধনী ব্যক্তি কে দেখে হিংসা,অন্যের দামী গাড়ী, ভালো বাসায় থাকা, অন্যের সৌন্দর্য দেখে হিংসা করা, Happily Marriage.

SCHOLARS রা বলেছেন যারা হিংসায় আবদ্ধ হবে, তাদেরকে হাশরের দিন জবাব দিতে হবে।কেঊ যদি তোমার সৌন্দর্যকে নিয়ে হিংসা করে, তবে এমন হতে পারে যে তোমার মুখের সৌন্দর্য  নষ্ট হতে পারে।

কেঊ যদি তোমার FANCY CAR নিয়ে হিংসা করে, তবে এমনও হতে পারে যে তুমি ACCIDENT করতে পারো। হিংসার প্রতিফলন মৃত্যুও হতে পারে।

৪. কেউ যদি কাঊকে হিংসা করে, এবং তা দ্বারা যদি ঐ ব্যক্তির ক্ষতি সাধিত হয়, তাহলে হিংসাকারী ব্যক্তি যেন ওযু করে সেই পানি ঐ ব্যক্তিকে দেয় যাকে সে হিংসা করে ছিল।  কারণ ওযু হল আশীর্বাদ স্বরূপ এবং ওযু REMOVE EVIL.

ওযু মানুষকে আলোকিত করে। এই কাজটি  তখনই করতে পারবে যখন আমরা জানব কে আমাদেরকে হিংসা করে এবং সে হিংসা শেষ করতে ইচ্ছুক।