জিবরাঈল আঃ এর গল্প । রাসুল সাঃ এর ইন্তেকাল । Angel jibreel As

701

জিবরাঈল আঃ এর গল্প – রাসুল সাঃ এর ইন্তেকাল – Angel jibreel As

জিব্রিল (আঃ) ও রাসুল (সাঃ) এর মাঝে ব্যক্তিগত কথাপোকথন। জিব্রিল (আঃ) রাসুল (সাঃ) এর ঘরে বহুবার এসেছিলেন, কোন কোন সাহাবী তাকে দেখতে পেতেন, আবার কেউ কেউ দেখতে পেতেন না। একদিন আব্বাস (রাঃ) তাঁর সন্তান আব্দুল্লাহ (রাঃ) কে নিয়ে রাসুল (সাঃ) এর সাথে সাক্ষাত করতে আসলেন।

আব্বাস (রাঃ) রাসুল (সাঃ) কে সম্বোধন করে কথা বলছিলেন, কিন্তু তিনি সাড়া দিচ্ছিলেন না। রাসুল (সাঃ) কোন কথা না বলাতে আব্বাস (রাঃ) চলে যান।

চলার পথে আব্বাস (রাঃ) আব্দুল্লাহ (রাঃ) কে বলেন, তোমার চাচতো ভাই কেন আমার সাথে কথা বলল না? আব্দুল্লাহ (রাঃ) বললেন, আপনি কি দেখেন নি যে, রাসুল (সাঃ) তাঁর সামনে বসা এক লোকের সাথে কথা বলছিলেন? আব্বাস (রাঃ) বললেন, কোন মানুষের সাথে? আব্বাস (রাঃ) আবার রাসুল (সাঃ) এর কাছে ফিরে আসলেন, এবং জিজ্ঞেশ করলেন, তখন কেউ কি আপনার সাথে কথা বলছিল? রাসুল (সাঃ) বললেন, আপনি কেন এটা জিজ্ঞেশ করছেন? আব্বাস (রাঃ) বললেন, কারন আব্দুল্লাহ তাকে দেখতে পেয়েছিল। রাসুল (সাঃ) বললেন, সে দেখেছে? আব্বাস (রাঃ) বললেন, জি দেখেছে। তারপর রাসুল (সাঃ) আব্দুল্লাহ (রাঃ) এর জন্য দোয়া করলেন যেন আল্লাহ্‌ তাঁর জ্ঞান বাড়িয়ে দেন।

তো রাসুল (সাঃ) এর সাথে জিব্রিল (আঃ) এর ব্যক্তিগত কথাপোকথন টি কেমন ছিল? রাসুল (সাঃ) জিব্রিল (আঃ) কে বললেন, আল্লাহ্‌ বলেছে যে, “আমি আপনাকে সকল জগতবাসীর জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি”। তিনি জিজ্ঞেশ করলেন, আমার রহমতের কোন অংশ কি আপনার পর্যন্ত পৌঁছেছে? উত্তরে তিনি বললেন, “ইয়া মুহাম্মাদ, ওয়াল্লহি ইন্নাকা আহাব্বুল আম্বিয়া” আল্লাহ্‌র শপথ ও মুহাম্মাদ, আপনি আমার সবচেয়ে প্রিয় নবী। আমাকে আজ পর্যন্ত এমন কারো কাছে পাঠানো হয়নি, যাকে আমি আপনার থেকে বেশি ভালবাসি।

তিনি আরো বললেন, আপনার মাধ্যমে আমি নিরাপত্তা লাভ করেছি। আমি আমার ভাগ্য নিয়ে চিন্তায় থাকতাম, যতক্ষণ না আপনার নিকট এই আয়াত অবতীর্ণ হল, “কুও্বা তিন ইন জিল আরশি মাকিন” শক্তিশালী আরশের মালিকের নিকট মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠিত। মাদানী জীবনের ব্যক্তিগত আলোচনা জিব্রিল (আঃ) বার বার রাসুল (সাঃ) কে আশ্বস্ত করতেন, কেন? কারন দেখুন, রাসুল (সাঃ) জানলেন যে – তিনি এবং বিশ্বাসীরা নিরাপদ। কিন্তু রাসুল (সাঃ) এখন কাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন? আমাদের কে নিয়ে যারা পরবর্তীতে আসবে। তিনি “উম্মাতি, উম্মাতি, উম্মাতি” বলে কাঁদতেন। তাই আল্লাহ্‌ জিব্রিল (আঃ) কে পাঠালেন।

জিব্রিল (আঃ) বললেন, ইয়া মুহাম্মাদ! আমরা আপনার উম্মতের বিষয় আপনাকে সন্তুষ্ট করে দিব। আমরা আপনাকে হতাস করবনা। আপনার উম্মত ঠিক থাকবে। তিনি মদিনায় রসুল (সাঃ) কে বার বার নিশ্চয়তা দিতেন। কারন রাসুল (সাঃ) পরবর্তীতে আসা উম্মতদের নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতেন। সাহাবীরা নিরাপদ, কিন্তু যারা পরবর্তীতে আসবে তাদের কি হবে?

আরেকবার ওমর (রাঃ) বলেন, আর এটা বুখারীতে বর্ণিত আছে। আমি একবার মদিনাতে রাসুল (সাঃ) এর সাথে হাটছিলাম, হাটতে হাটতে আমরা মদিনার “হাররা” নামক স্থানে উপস্থিত হলাম। তিনি আমাকে এখানে বস্তে বললেন, হঠাৎ তিনি হাঁটতে লাগলেন, আর স্পষ্ট ভাবে তিনি জিব্রিল (আঃ) এর সাথে কথা বলছিলেন।

তাঁরা কিছুক্ষনের জন্য হাটলেন, আর আমি বসে থাকলাম। আর এই হাঁটা অবস্থায় রাসুল (সাঃ) বলছেন – “ওয়া ইঞ্জানা ওয়া সারাক, ওয়া ইঞ্জারা ওয়া সারাক, ওয়া ইঞ্জানা ওয়া সারাক, – যদি সে যেনা করে, বা চুরি করে, যদি সে যেনা করে বা চুরি করে? আর ওমর (রাঃ) উত্তর শুনতে পাচ্ছিলেন না। ইয়া রাসুলাল্লাহ অইটা কি ছিল? রাসুল (সাঃ) বললেন, ইনি ছিলেন জিব্রিল (আঃ)। তিনি এসেছিলেন আমাকে সুসংবাদ দিতে যে, এই উম্মতের প্রতি ব্যক্তি অবশেষে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এমন কি সে যেনা বা চুরি করে। কিন্তু অবশেষে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

তো তিনি এভাবে রাসুল (সাঃ) কে সান্তনা দিলেন। রাসুল (সাঃ) যখন শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তখন জিব্রিল আঃ কিভাবে সান্তনা দিতেন? রাসুল (সাঃ) যখন অসুস্থ হয়ে পরেন তখন বলেন, জিব্রিল আমার কাছে আসলেন এবং বললেন, ও মুহাম্মাদ আপনি কি অসুস্থ? আমি বললাম হ্যাঁ। তখন জিব্রিল তাঁর হাত দিয়ে আমার বক্ষ এবং মখমন্ডল মুছে দিলেন।

“বিস্মিল্লাহি আরকিকা ওয়া মিন কুল্লি শাই ইন আউজিকা” অর্থাৎ আল্লাহ্‌র নামে আমি আপনার কাছে আরোগ্য প্রার্থনা করছি ঐ সব কিছু থেকে যা আপনার ক্ষতি করছে। “মিন কুল্লি শার রি নাফসিন আওাইনিন, আও হা’সিদ” অর্থাৎ সকল কিছু খারাপ জিনিষ থেকে বা বদ নজর থেকে বা হিংসা থেকে, আল্লাহ্‌ আপনাকে আরগ্য দান করুক। আল্লাহ্‌র কাছে আমি আপনার নামে আরগ্য প্রার্থনা করছি। কিন্তু ব্যাপার টা কেমন ছিল যখন জিব্রিল (আঃ) রাসুল (সঃ) জীবন সম্পর্কে কোন উপদেশ দিতেন?

এখন আমি আপনাদের কাছে যে বিষয় টি বলব, সেটি রাসুল (সাঃ) এর জীবনের শেষ দিকের ঘটনা।

জিব্রিল (আঃ) রাসুল (সঃ) কে এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ, হে মুহাম্মাদ, আচ্চা আল্লাহ্‌ তায়ালা কি কুরআনে কখনো এভাবে বলেছেন? না, বরং আল্লাহ্‌ তায়ালা সর্বদা বলেছেন, “ইয়া নাবিইয়াল্লাহ, ইয়া রাসুলাল্লাহ, ও আল্লাহর নবী ও আল্লার রাসুল”

তাহলে জিব্রিল (আঃ) কি করে ইয়া মুহাম্মাদ বলার সাহস করলেন? ইসলামিক স্কলারস রা বলেন, যখন জিব্রিল (আঃ) বলে, ইয়া মুহাম্মাদ, এর মানে হল, এখন কার বিষয় টি অহীর বাইরের বিষয়। যখন আমি আপনাকে ইয়া মুহাম্মাদ বলি, তখন বিষয় টি আমার এবং আপনার মধ্যকার।

সুতারাং এটা হল, কেবল একক সময় যখন জিব্রিল ইয়া রাসুলাল্লাহ বলে সম্বোধন করলেন না। সুতারাং সে বললেন, হে মুহাম্মাদ

৫ টি উপদেশ দিচ্ছি আপনাকে।

  • আপনি যেভাবে খুশি জীবন – যাপন করুন তবে এ কথা মনে রাখবেন যে, আপনি একদিন মৃত্যু বরণ করবেন।
  • তিনি আরো বলেন, আপনি যাকে খুশিউ ভালবাসুন, কিন্তু মনে রাখবেন, আপনি তাঁর থেকে একদিন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন।
  • আপনি যা খুশি তাই করতে পারেন, তবে এটি মনে রাখবেন যে, আপনার কর্ম অনুযায়ী আপনাকে ফলাফল দেয়া হবে। মানে হল, প্রত্যকটি বিষয় আখিরাতে আসবে। প্রত্যক টি পুরুশকারেই আখিরাতে দেয়া হবে।
  • যেনে রাখুন একজন বিশ্বাসীর জন্য সত্যিকারের আভিজাত্য রাতে নামাজে দাড়ানোর মাঝে। আর তাঁর প্রকৃত মর্জাদা আত্ম নির্ভরশীলতার মাঝে। নিজেকে মানুষের প্রয়োজন থেকে মুক্ত রাখতে চেষ্টা করুন। আর্থিক ভাবে, আবেগের দিক থেকে বা মানুষিক ভাবে বা শারীরিক ভাবেই হোক, একজন মানুষ হিসেবে আপনার সম্মান ও মর্যাদা অন্য মানুষের উপর নির্ভর না হওয়ার প্রচেষ্টা করুন। যে কোন ব্যাপারেই হোক না কেন, নিজেকে মানুষের প্রয়োজন থেকে মুক্ত আখতে চেষ্টা করুন। এরপর রাসুল (সাঃ) জীবনের অন্তিম সময় অনুভব করলেন, আর যখন অবস্থা দিনের দিনের পর দিন খারপ হতে যাচ্ছে।

আবু সাঈদ খুদরি (রাঃ) বর্ননা করেন,  রাসুল (সাঃ) সাহাবাদের মাঝে অবস্থান করছিলেন, তিনি খুব সাধারন ভাবে বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তায়ালা তাঁর এক বান্দা কে এভাবে ইখতিয়ার দিয়েছেন যে, তাঁর বান্দা হয় দুনিয়ার শান শওকত পছন্দ করবে, অথবা যা কিছু আল্লার কাছে রয়েছে তা থেকে পছন্দ করবে। রাসুল (সাঃ) এর বানীতে সবাই কাঁদছিল। কারন তাঁরা সবাই বুঝে পারছিলেন যে, রাসুল (সাঃ) এর অন্তিম সময় চলে এসেছে। তিনি শেষ সময়ের নিকটবর্তি। বিশেষ করে ফাতিমা (রাঃ) ভীষণ ভাবে বিধ্বস্ত হলেন, তাঁর কন্যা “উম্মু আবিহা” তাঁর পিতা, তাঁর মা, সর্বদা ছিলেন তাঁর সাথে। রাসুল (সাঃ) তাঁর প্রতি ভালবাসা দেখালেন, মমতা দেখালেন, এমন কি যখন তিনি কোন ভাবে কথাও বলতে পারছিলেন না, তখন ও তিনি হাতের ইশারায় ফাতিমা (রাঃ) কে ডাকলেন এরপর তিনি কাছে আসলেন।

রাসুল (সাঃ) তাকে আরো নিকটে আসতে বললেন, তাঁর কানে কিছু বললেন, ফাতিমা (রাঃ) আরো বেশি করে কাঁদতে লাগলেন। রাসুল (সঃ) তাকে পূনরায় কাছে আস্বতে বললেন এবং চুপিসারে আরো কিছু কথা বললেন, এবারের কথা শুনে ফাতিমা (রাঃ) হাসিতে মুখরিত হয়ে পড়লেন। আয়েশা (রাঃ) এগুলো দেখে হতবাক হয়ে গেলেন যে, একবার ফাতেমা কাদছে আবার হঠাৎ করে হাসছেন।

সুতারাং তিনি ফাতেমা (রাঃ) কে চাপাচাপি করছিলেন, বলনা কি বলেছেন তিনি। শেষে ফাতিমা (রাঃ) বলতে বাধ্য হলেন যে, জিবরাঈল (আঃ) সাধারণত পুরো রমজান মাসে আমাকে নিয়ে একবার পুরো কুরআন ঝালিয়ে নেন। আর এই বছর রমজানে তিনি ২ বার করে পাকঠ করেছেন। তাঁর মানে তিনি তাকে আরো বেশি শক্তিশালী করে দিলেন।

আর আমার মনে হয় না আমি আর রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করব। আয়েশা (রাঃ) রাসুল (সাঃ) কে যেখানে নিয়ে যাওয়ার কথা সেখানে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তিনি রাসুল (সাঃ) কে দৃঢ় হতে সাহায্য করেন। আর এমত অবস্থায় রাসুল (সাঃ) তাক্র শরীরে হেলান দিয়ে আছেন।

তাঁর দৃষ্টি গুলো আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকরের উপরে। তিনি আয়েশা (রাঃ) আনহার ভাই। তিনি দেখলেন তাঁর পকেটে একটি মিসওয়াক রয়েছে।

আমি বুঝতে চাচ্ছিলাম যে, রাসুল (সাঃ)  এটি পেটে চাচ্ছে। আয়েশা (রাঃ) রাসুল (সাঃ) কে বললেন, আপনি কি মিসওয়াক চান? রাসুল (সাঃ) মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলেন। আঃ রহমান তাঁর অব্যাবহারিত মিসওয়াক টি আয়েশা (রাঃ) কে দিলেন, তিনি এটাকে চিবিয়ে নরম করলেন এবং রাসুল (সাঃ) এর মুখে তুলে দিলেন। এর অর্থ হল, রাসুল (সাঃ) প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতের পুর্বে মিসওয়াক করতেন। কারন তিনি চাইতেন, আল্লাহ্‌র সাথে সাক্ষাত কালে যেন, তাঁর শ্বাস – প্রশ্বাস বিশদ্ধ থাকেন।

প্রতিদিনি ৫ বার, তিনি বললেন, তিনি যদি এটাকে ফরজ করতে পারতেন, যদি উম্মতের জন্য কষ্টকর না হত।

তিনি আল্লাহ্‌র সাথে সাক্ষাতের পুর্বে প্রতিবারি মিসওয়াক করতেন। আয়েশা (রাঃ) বললেন, যখন তিনি মিসওয়াক করা সমাপ্ত করলেন, তখনি জিব্রিল (আঃ) আমাদের মাঝে প্রবেশ করলেন। আয়েশা (রাঃ) তখন, রাসুল (সাঃ) এর দিকে তাকালেন এবং দেখতে পেলেন, তাঁর চেহারা আলোয় উদ্ভাসিত হল। জিবরাঈল (আঃ) যিনি রাসুল (সাঃ) কে উপরের উপদেশ গুলো দিয়েছিলেন, তিনি রাসুল (সাঃ) কে বললেন, শুনুন আমি আপনাকে একটি বিষয় পছন্দ করতে বলব। হয়তো আপনি আপনার সাহাবীদের সাথে থাকবেন এবং সুন্দরভাবে জীবনযাপন করবেন, অথবা আপনি সর্বোচ্চ আল্লাহ্‌র সহচর্জে থাকবেন। তখন রাসুল (সাঃ) উত্তরে বললেন, “আল্লাহুম্মা রাফিকিল আ’লা” অর্থাৎ, ও আল্লাহ্‌ আমি সর্বোচ্চ বন্ধুর সহচর্জ কামনা করি। আয়েশা (রাঃ) আনহা বলেন, যখন তিনি “রকাফিকিল আ’লা বলছেন” তিনি তাঁর সমস্ত শরীর কে ছেড়ে দিচ্ছেন।

“আর রাফিকিল আ’লা” ও আল্লাহ্‌ আল্লাহ্‌র সহচর্জ। এই বলতে বলতে তাঁর হাত পরে গেল। রাসুল (সাঃ) ইন্তিকাল করলেন।

যখন এই ঘটনা ঘটলো আয়েশা (রাঃ) চিৎকার করে উঠলেন, ফাতেমা (রাঃ) যখন আয়েশা (রাঃ) এর চিৎকার শুনতে পেলেন, তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন,

“ইয়া আবা’তা মান রাব্বি হিমা আদনা” হে আমার পিতা আপনি আপনার রবে কতটা সন্নিকটে আছেন এখন?

হে আমার পিতা আমরা জিব্রাইলের নিকট আপনার মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা দিচ্ছি।

“ ইয়া আবাতা জান্নাতুল ফিরদাউসি মা’ আওা” হে আমার পিতা জান্নাতুল ফিরদাউসি আপনার বর্তমান ঠিকানা। এবং এই কথা টি তিনি বার বার বলতে থাকলেন, বলতেই থাকলেন, বলতেই থাকলেন যে, আপনি আপনার রবের কত টা নিকটে আছেন?

জিব্রিলের নিকট আপনার প্রস্থানের ঘোষণা দিচ্ছি। এই জান্নাতুল ফিরদাউসেই আপনার আবাস স্থল।

জিবরাঈল (আঃ) এর মৃত্যুঃ

সুবহানাল্লাহ রাসুল (সাঃ) মৃত্যুবরণ করেছেন, এবং প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করবেন।

রাসুল (সাঃ) বলেছেন, জিব্রিল ও মৃত্যুবরণ করবে। রাসুল (সাঃ) বললেন, শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেবার পর আল্লাহ্‌ যাকে চাবেন তাঁরা ছাড়া আর কেউ স্থির থাকতে পারবেন না, অন্য সবাই মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়াতা আলা, তাদের কে তাঁর সম্মুখে নিয়ে আসবে, আর তাঁরা হলেন, জিব্রিল, ইস্রাফিল, মিকাইল ও মৃত্যু ফেরেশতারা। যারা আল্লাহ্‌র আদেশ সমূহ বাস্তবায়ন করেন।

এবং মৃত্যুর ফেরেশতা কে জিজ্ঞেশ করবেন আর কারা কারা বাকী আছে? ও আল্লাহ্‌ আপনার সম্মানিত পবিত্র চেহারার আপনার বান্দা আমি, আপনার বান্দা জিব্রিল আর আপনার বান্দা মিকাঈল এবং আপনার বান্দা ইস্রাফিল। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলবেন, মিকাঈল এর আত্মা নিয়ে নাও। তখন মিকাঈল এর আত্মা নিয়ে নেয়া হবে। পুনরায় বলবেন আর কে কে বাকি আছে? ও আল্লাহ্‌ আপনি, আমি, জিব্রিল ও ইস্রাফিল।

আল্লাহ্‌ তায়ালা বলবেন, ইস্রাফিলের আত্মা নিয়ে নাও। ইস্রাফিলের আত্মা তাঁর থেকে নিয়ে নেয়া হবে। আল্লাহ্‌ তায়ালা আবার ও বলবেন আর কারা বাকি আছে?

ও আল্লাহ্‌ আপনার পবিত্র চেহারা, আপনার এই বান্দা ও আপনার বান্দা জিব্রিল। আমরা ২ বান্দা সব শেষে বাকি রয়েছি। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলবেন জিব্রিলের আত্মা নিয়ে নাও। রাসুল (সাঃ) বলেন, জিব্রিল তাঁর চেহারা নিয়ে পতিত হবেন এমন অবস্থায় যে তাঁর ডানা গুলো বিস্ত্রিত অবথায় থাকবে। আর সেগুলো আল্লাহ্‌র প্রশংসা করতে থাকবে। তিনি তাসবীহ রত অবস্তাহ্য মৃত্যু বরণ করবেন।

এরপর আল্লাহ্‌ তায়ালা বলবেন আর কে বাকি আছে? ইয়া আল্লাহ্‌ কেবল আপনি আর আমি বাকি আছি। আল্লাহ্‌ মৃত্যুর ফেরেশতা কে আদেশ করবেন মৃত্যুবরণ করার জন্য। আর মৃত্যুর ফেরেশতা মারা যাবেন। আর আল্লাহ্‌ তায়ালা তখন বলবেন, “কুল্লু মান আলাইহা ফান” প্রত্যেক ব্যক্তি ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। “ওয়াব’ক ওয়াজ’হু রাব্বিকা জুল জালালি ওয়াল ইকরাম” আর কেবল আপনার মহামান্বিত রবের চেয়াহারাই বাকি থাকবে। আল্লাহ্‌ নিজেকেই তখন জিজ্ঞেশ করবেন “লিমানিল মুল্কুল ইয়াওম” আজকে রাজত্য কার? আল্লাহ্‌ তায়ালা নিজেই তাঁর প্রতুত্তরে বলবেন, “লিল্লাহিল ওয়াহিদিল কাহহার” কেবল অদ্বিতীয় নিয়ন্ত্রণকারী আল্লাহ্‌র।

রাসুল (সাঃ) বলেন, যখন আখিরাতে আমরা হাজির হব, তখন সমস্ত জমীন আল্লাহ্‌র আনুগত্যের প্রশংসায় একদম সমতল হবে। তিনি বলেন, হাসরের ময়দানে প্রত্যেকেই যেই জায়গায় রয়েছেন, সেই যায়গা থেকে একটুও নরতে পারবেনা। তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র নিকট আমাকে প্রথম আহব্বান করা হবে। অতএব আমি আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়াতা আলার নিকট আমি যাব। আমি সেজদায় পরে যাব। তিনি বলেন, অতঃপর আমি আম্র মস্তক উত্তোলন করব। এবং আকস্মিক ভাবে আমি সর্ব দয়াময় আল্লাহ্‌ তায়ালার ডান পাশে আমি জিব্রিল কে দেখতে পাব।

রাসুল (সাঃ) হাদিসে বলেন, “ওয়াল্লাহি মা র’আহু কাবনা” ইতি পুর্বে জিব্রিল (আঃ) আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়াতা আলা কে কোন দিনি দেখেন নি। রাসুল (সাঃ) জিব্রিলের দিকে ইশারা করে বলবেন, হে আমার রব! এই ব্যক্তি আমাকে বলেছিল যে, আপনি তাকে আমার নিকট পাঠিয়ে ছিলেন। তখন আল্লাহ্‌ তায়ালা বলবেন, তুমি সত্য বলেছ। একই ভাবে জিব্রিল ও রাসুল (সাঃ) কে বলবে, আপনিও সত্য বলছেন।

একি ভাবে জিব্রিল ও রাসুল ( সাঃ) কে বলবে আপনি সত্য বলেছেন। রাসুল (সাঃ) কেন প্রতিদান দিবস কে পছন্দ করলেন? কেন এটির ইচ্ছা পোষণ করলেন? এর কারন হল, প্রতিদান দিবসে প্রত্যাক নবী রাসুল কে জিজ্ঞেশ করা হবে যে, জিব্রিল কি নবুওতের বার্তকা কি ঠিক মত পউছে দিয়েছে কিনা? নবী (সাঃ) জিব্রিলের পক্ষে সাক্ষ্য দিবেন। এবং তাকে জিজ্ঞেশ করার পুর্বেই উনি নিজেই বলবেন যে, তাকে আপনি নিকট পাঠিয়েছিলেন। তিনি তাঁর কাজ ঠিক মত করেছিলান। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলবেন, তুমি সত্য বলছো ।