জীবনের সব সমস্যার সমাধান | HOW TO SOLVE YOUR PROBLEMS IN LIFE

852

আপনি  অন্ধকার একটি ঘরে নিশ্চুপ হয়ে একাকিত্তে বসে আছেন । জীবনের নানা প্রতিকূলতা চাপে আপনি দিশে হারা । এ অসহায়  অবস্থায় ঘরের এক কোণে মাথা হাত দিয়ে নিচু হয়ে বসে ভাবছেন  কিভাবে এরূপ প্রতিকূল অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এ অবস্থা থেকে মুক্তির সঠিক কোন উপায় আপনার জানা নেই  কিন্তু হঠাৎ সুমধুর এক কন্ঠ ভেসে আসে চমৎকার এক আওয়াজ “হাইয়া আলাল ফালাহ” অর্থাৎ সাফল্যের দিকে এসো। আল্লাহ সুবহানা তা’আলা পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআন ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতের মাধ্যমে  আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন যে, একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে।

আল্লাহ্‌ সুবহানা তাআলা জিব্রাইল ( আঃ )এর মাধ্যমে এ সকল পবিত্র বাণী তার সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং নবী করিম (সাঃ) আমাদের কর্তব্য সম্পর্কে জানিয়ে দিয়েছেন। এভাবেই আমাদের কাছে এসেছে রোজা হজ জাকাত ইত্যাদি ফরজ সমূহ কিন্তু আল্লাহর একটি বিশেষ হুকুম  রয়েছে  যা অন্য হুকুম গুলো থেকে কিছুটা  আলাদা । আল্লাহ সুবহানা তাআলা তিনি তার ফেরেশতার মাধ্যমে আদেশ পাঠিয়ে আমাদের উপর নামাজ ফরয করেন নি ।  বরং তিনি তার প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পৃথিবী হতে সাত আসমানের উপরে নিয়ে গিয়েছিলেন। যা আমরা লাইলাতুল মেরাজ হিসাবে জানি এবং রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সেই উচ্চতর স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল যেখানে  জিবরাঈল (আঃ ) পর্যন্ত কখনো যাওয়ার অনুমতি পায়নি। আল্লাহ্‌ সুবহানা তাআলা তার প্রিয় হাবীবকে ( সাঃ ) কে ডেকে নিয়েছিলেন সেই মহিমান্বিত স্থানে।

যখন একজন বাবা তার আদরের সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে পরম মমতার সাথে কোন কথা বলেন। আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কে তার কাছে টেনে নিয়ে গেছেন এর থেকেও লক্ষগুণ বেশি মমতা আর রহমত দিয়ে । এবং আমাদেরকে  আদেশ করে বলেছেন আমরা যেন আল্লাহর সন্তুষ্টি জন্য নামাজ কায়েম করি। নামাজ এর মাধ্যমে আমাদের শরীর এবং মন দুটোই আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করে। যেখানে শরীর এবং মন দুদিকে  খেয়াল রেখে  আল্লাহর ইবাদত করতে হয়। যেমন আমরা পুষ্টিকর খাবার খেলে শরীর সুস্থ থাকে আবার অপুষ্টিকর খাবার খেলে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি  ঠিক তেমনি আমাদের মনও অসুস্থ হয়ে পড়ে নিয়মিত নামাজ না পড়লে এবং বর্তমানে  প্রায় সকল সমস্যার জন্য হলো মনের অসুস্থতা ।

আমাদের চারপাশের থাকা মানুষগুলোকে দেখলে বুঝা যায়  ভালো ভাবে বেঁচে থাকার জন্য যা যা প্রয়োজন সব কিছু থাকার পরও কেন তাদের মাঝে এত হাহাকার?

কেনই বা তাদের মনে এতো অশান্তি?

বর্তমানে দেখা যায়, বাবা মায়েরা তাদের সন্তান পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ না পেলে ভালো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হতে পারলে যতটা কষ্ট পায়, তার সন্তান ফজরের নামাজ না পড়লে ততটা কষ্ট পায় না। বিয়ের সময় শিক্ষা, ধনসম্পদ বংশ পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়। সম্ভাব্য পাত্র পাত্রীর আত্মীক পরিপক্কতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয় না বললেই চলে। ধারাবাহিকভাবে অর্থনৈতিক উন্নতি হচ্ছে ঠিকই যেমন সবার ঘরে এখন টেলিভিশনের, স্মার্টফোন ফ্রীজ ইত্যাদি থাকাটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে কিন্তু অন্যদিকে  সমাজে দেখা দিয়েছে নানাবিদ সমস্যা। যেমন মাদকাসক্ত, ডিপ্রেশন,বিবাহবিচ্ছেদ,আত্মহত্যা এবং ধর্ষণ ইত্যাদি গুরুতর ঘটনাগুলো নিয়মিত ঘটে চলছে।

প্রতিদিন পাঁচবার মন জুড়িয়ে যাওয়া মুয়াজ্জিন আমাদের আহবান করে বলে, সাফল্যের দিকে ছুটে যাওয়ার জন্য । নামাজ পড়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত একজন মুসলিম হিসেবে তা আমরা জানি ও বুঝতে পারি। নিয়মিত নামাজ পড়লে আমাদের মনে অনেক শান্তি ছড়িয়ে পড়ে ও অনেক ভালো লাগে। কিন্তু কি কারণে যেন আমরা  অনেকেই প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার অভ্যাসটা গড়ে তুলতে পারছি না। অথচ প্রতিদিন যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে তাদের কাছে  নামাজ ছেড়ে দেয়াটাই বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাদের মনের  এক অস্বস্তি বোধ কাজ ধরনের করতে থাকে যখন দেখে নামাজের ওয়াক্ত পেরিয়ে ।

১। একটু ভেবে দেখুন তারা কি এভাবেই জন্মেছেন?

২। তাদের মস্তিষ্ক কি অন্য সবার থেকে আলাদা?

মূলত আপনার জন্যও সেই অবস্থায় সহজেই যাওয়া সম্ভব হবে। আপনি যদিও এক ওয়াক্ত নামাজ না পড়ে থাকেন তবুও সেই অবস্থায় সহজেই যেতে পারবেন।

আজকে আপনার ফজরের নামাজে  কাঁচা ঘুম ভেঙ্গে উঠে নামাজ পড়া অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে। ঠিক  কালকেই আপনি ভাবতে শুরু করবেন  ফজরের সময় নামাজ না পড়ে ঘুমিয়ে থাকাটা অনেক কষ্টের।

প্রথমত আমরা নিজেদের নতুন অভ্যাস সময় আগে আমাদের মস্তিষ্ককে বুঝতে হবে । সেই অভ্যাসের সাথে আমাদের মস্তিষ্ককে মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগে। সময়ের সাথে সাথে  সেই অভ্যাসটি  আমাদের জন্য আরও সহজ হতে থাকে । এক সময় বরং তা না করলেই  আমাদের অনেক বেশি অস্বস্তি লাগে। বৈজ্ঞানিক গবেষণার জানা যায় নতুন কোনো অভ্যাস গড়ে উঠতে ২১ দিন সময় লাগে। আবার  অনেকে বলেন সাত দিন মধ্যেও সেই অভ্যাস গড়ে উঠে। মুলত আমাদেরকে বুঝতে হবে যে শুরুরদিকে আমাদের নামাজ পড়তে কষ্ট হলেও যতদিন যাতে থাকবে নামাজ পড়া আরও সহজ হতে থাকবে । এভাবে যদি আমরা নিয়মিত তিন থেকে ছয় মাস  নামাজ পড়তে পারি এবং সেই সাথে আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য নামাজকে সহজ করে দেয় সেই বলে বেশি বেশি দোয়া চাইতে পারি তাহলে আল্লাহর ইচ্ছায় নিয়মিত নামাজ পরা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ ।

হয়ত আপনি ভাবছেন আমি  কিভাবে টানা তিন-চার মাস নামাজ পড়বো?  

তবে একটু দেখুন তো!  কত মানুষ তো আছে যারা নামায পড়েনা কিন্তু রমজান মাসে ঠিকই রোজা রাখে। তাদেরকে কাছে প্রশ্ন করলে জানতে পারবেন, তাদের প্রথম দিনে রোজা রাখা অনেক বেশি কষ্টকর  কিন্তু ২৯ তম দিনে রোজাটি ছিল অনেক সহজ, মনে হয়েছিল কিভাবে যেন দিনটি শেষ হয়ে গেল বুঝতেই পারলাম না। এভাবেই ধারাবাহিকভাবে  আমরা নিয়মিত নামাজ পড়ার অভ্যাসটা গড়ে তুলতে পারি। তাহলে এখন আমি যদি এক ওয়াক্ত নামাজও না পড়ে থাকি তবে প্রথমে  আমি যেকোনো একটি ওয়াক্ত নামাজ পড়া শুরু করতে পারি।

যেমন মাগরিবের নামাজ। আমি নিজে নিজে প্রতিজ্ঞা করবো যে কোনো কিছুর বিনিময়ে হউক মাগরিবের ওয়াক্তেই মাগরিবের নামাজ পড়ব । নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখতে হবে। যদিও শুরুরদিকে অভ্যাসটি করে  অনেক কঠিন বলে মনে হবে।  আজকে ঠিক সময় মতো মাগরিবের নামাজ পড়ে ফেললাম কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা আগামীকাল ধরে রাখতে হলে অনেক কষ্ট করতে হবে। আমি মসজিদে, ঘরে,রাস্তায় যে অবস্থাতেই থাকি না কেন মাগরিবের নামাজটা সঠিকসময়ে পড়ে নিব। এ জন্য দরকার হলে বাসায় আমি  একটি চেক লিস্ট বানিয়ে রাখতে পারি। সেই চেক লিস্টে নিয়মিত মাগরিবের নামাজ পড়ে টিক চিহ্ন দিয়ে রাখব ।আর ঠিক এভাবে যদি একমাস আমি সফলতার সাথে একদিন বাদ না দিয়ে নিয়মিত মাগরিবের নামাজ পড়তে পারি তাহলে আমি যেন পরের ধাপে পৌঁছে গেলাম।

এখন থেকে আমি মাগরিবের নামাজের পাশাপাশি নিয়মিত আসরের নামাজ পড়ার অভ্যাসটা গড়ে তুলতে পারি। সুতরাং এভাবেই আমরা ধীরে ধীরে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার সুন্দর অভ্যাসটি নিজের মধ্যে গড়ে তুলতে পারি। এখানে আশ্চর্যের বিষয় হলো এই যে, আপনি যখন এভাবে ধীরে ধীরে নিয়মিত নামাজ পড়তে শুরু করবেন। ঠিক তখনই কিভাবে যেন ঠিক হয়ে যাচ্ছে আপনার জীবনের বাকি সব ব্যাপার গুলো। কিছু আগেও আপনার জীবনে এত সমস্যা এত বাধা বিপত্তি  কথা মনে হচ্ছিল কিন্তু এখন আপনার জীবনের সব সমস্যা সুন্দরভাবে সমাধান হয়ে গেসে। ছোট খাটো কিছু সমস্যা পরলেও  নিজেকে আগের মতো এতটা লক্ষ্যহীন অসহায় লাগছে না।

সুতরাং আমাদেরকে  মনে রাখতে হবে আমরা  যদি  পবিত্র কুরআনকে আল্লাহ সুবহানা তাআলার প্রেরিত সর্ব শ্রেষ্ঠ কিতাব হিসাবে মেনে নিই  তাহলে আমাদের অবশ্যই নামাজ কায়েম করতে হবে । এখনো জীবনের অনেক সময় বাকি ভেবে শেষ বয়সে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বো বলে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যেন আল্লাহ্‌ সুবহানা তাআলা দেয়া আমাদের নিজেদের জীবনকে সুন্দর নষ্ট না করি।  কেননা নামাজ শুধুমাত্র আমাদের করব ও আখিরাতে জীবনকেই শান্তিময় করবেন বরং আমাদের প্রাত্যহিক জীবনও সুখ-শান্তিতে উঠবে। নামাজ আমাদের অন্তরের শূন্যতাকে দূরীভূত করে দিবে এছাড়াও সকল প্রকার সমস্যা, বাধা-বিপত্তি, অশান্তি, দুঃখ-কষ্ট সব কিছুর সমাধান করে দেবে। ঠিক তখনই আল্লাহর বান্দা হিসাবে বেঁচে থাকা আমাদের জন্য সার্থক হবে এবং আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য তখনই পূরণ হবে ।

চলুন আজকে থেকেই আমরা যেন মৃত্যু পর্যন্ত নিয়মিত নামাজ আদায় করতে পারি এই প্রতিজ্ঞা করি। যদি আপনার কাছে মনে হয় যে এগুলো তো অসম্ভব আপনাকে দিয়ে এসব হবে না তাহলে আমদের  ভিডিওটি শেষ হওয়া মাত্রই আপনি অজু করে নিন। আর দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর সুবহানা তাআলার কাছে দুহাত তুলে  মন থেকে দোয়া করুন। যেন তিনি আপনাকে আপনার লক্ষ্যে পৌছাতে  সাহায্য করেন । আমি কথা দিচ্ছি, আল্লাহ্‌ সুবহানা তাআলা  আপনাকে অবশ্যই সঠিক পথ দেখাবেন ইনশাল্লাহ এবং অসম্ভব কে সম্ভব করে দিবেন এজন্য অবশ্যই আপনাকে প্রথম ধাপে নিতে হবে।

প্রশ্ন হচ্ছে আপনি সেই প্রস্তুতি নেয়ার জন্য নিজে প্রস্তুত তো?