নামাযে আমরা কি পড়ি? | তাকবির তাহরিমাٱللَّهُ أَكْبَر | আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ | Modernislam

806
নামাজে আমরা কি পড়ি

Table of Contents

নামাযে আমরা কি পড়ি? ২য় পর্ব

১. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাযে দাঁড়াতেন তখন ক্বিবলাহ- র দিকে মুখ করে নিতেন, রফ’উল ইয়াদাইন করতেন(দুই হাত উঠাতেন) ও বলতেনঃ (আল্লাহু আকবার) [1]

“রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন তুমি নামাজের জন্য দাঁড়াবে তখন তুমি তাক্কবীর বলবে।” [2]
.
হাত তোলার পদ্ধতি:
এক বর্ণনাতে এসেছে: “কাঁধ বরাবর হাত তুলতে হবে”। অপর এক বর্ণনাতে এসেছে: “কানের উপর পর্যন্ত হাত তুলতে হবে”। আব্দুল্লাহ্‌বিন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ্ ‌সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি, যখন তিনি নামাযে দাঁড়াতেন তখন তিনি হাতদ্বয় এতটুকু উত্তোলন করতেন; যাতে করে হাতদ্বয় কাঁধদ্বয় বরাবর হত। তিনি এটি করতেন যখন রুকুর জন্য তাকবীর দিতেন, যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন এবং যখন سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন। তিনি সেজদাকালে এভাবে করতেন না।”
[সহিহ বুখারী (৭৩৬) ও সহিহ মুসলিম (৩৯০)]

মালিক বিন আল-হুওয়ারিছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ্‌সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাকবীর (তাহরীমা) উচ্চারণ করতেন তখন হাতদ্বয় এতটুকু উত্তোলন করতেন যাতে করে হাতদ্বয় কানদ্বয় বরাবর হত। যখন রুকু করতেন তখনও হাতদ্বয় এতটুকু উত্তোলন করতেন যাতে করে সে দুটি কানদ্বয় বরাবর হত। যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন এবং سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন তখনও এভাবে করতেন।”

[সহিহ মুসলিম (৩৯১)]

নামাযের তোঁতা পাখি

এর ভিত্তিতে আলেমগণ হাত তোলার পদ্ধতি নিয়ে মতভেদ করেছেন:

কোন কোন আলেমের অভিমত হচ্ছে: কাঁধ পর্যন্ত হাত তোলা। উদ্দেশ্য হচ্ছে— হাতের তালুদ্বয় কাঁধ বরাবর হওয়া। এটি উমর বিন খাত্তাব (রাঃ), তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ (রাঃ) ও আবু হুরায়রা (রাঃ) এর অভিমত। এটি “আল-উম্ম” গ্রন্থে ইমাম শাফেয়ির অভিমত। ইমাম শাফেয়ির ছাত্রগণও এই অভিমত পোষণ করেন। ইমাম মালেক, ইমাম আহমাদ, ইসহাক ও ইবনুল মুনযির প্রমুখ আলেমের অভিমতও এটা; যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে আল-মাজমু গ্রন্থে (৩/৩০৭)।

আর ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর মাযহাব হচ্ছে— কান বরাবর হাত তুলতে হবে।

ইমাম আহমাদ থেকে অন্য এক রেওয়ায়েতে এসেছে— দুটো পদ্ধতির মধ্য থেকে যে কোন একটি নির্বাচন করতে পারবে। একটি পদ্ধতির উপর অপর পদ্ধতির বিশেষ কোন মর্যাদা নেই। ইবনুল মুনযির কিছু কিছু আহলে হাদিস থেকেও এ অভিমতটি বর্ণনা করেছেন এবং এ অভিমতের প্রশংসা করেছেন।

আলবানী বলেন: এটাই হক্ব। উভয়টি সুন্নাহ। আমাদের মুহাক্কিক আলেমগণের অনেকে যেমন- আলী আল-ক্বারী, সিন্দি হানাফী প্রমুখ এ অভিমতের প্রতি ঝুঁকেছেন।

ফুট নোটঃ 

[1] ইবনে মাজাহ ৮০৩; সানাদ সহীহ; সহীহ বলেছেন- তিরমিযীঃ ২০৪; ও ইবনে হিব্বান; আল ইহসানঃ ৮৬২ ও ইবনে খুযাইমাহঃ ৫৮৭। (এই রেওয়াইয়াত) এর রাওয়ী আব্দুল হামীদ বিন জা’ফার মুহাদ্দিসদের নিকটে সিক্কাহ ও সহীহুল হাদীস। দেখুন নূরুল আইনাঈন ফি মাস ‘আলাতি রফ’উল ইয়াদাইন ; পৃঃ ৯৮-৯৯, দ্বিতীয় ত্ববা’আ। এর উপর জারাহ প্রত্যাখ্যাত। মুহাম্মাদ বিন আমর বিন আতা সিক্কাহ (তারীবুত তাহযিব ৬১৮৭)। মুহাম্মাদ বিন ‘আমর বিন ‘আত্ব এর আবু হুমাইদ আস সা’আদি ও সাহাবায়ে কেরাম(রাযিয়াল্লাহু আনহুম) আজমাঈন এর মজলিসে শামিল হওয়া প্রমাণিত। দেখুনঃ সহীহ বুখারি ৮২৮।
অতএব এই রেওয়াইয়াত মুত্তাসিল।
[2] বুখারিঃ ৭৫৭; মুসলিমঃ ৩৯৭

 

লিখেছেন – মোঃ তৌফিকুল ইসলাম
ছাত্র: সাউদার্ন মেডিক্যাল কলেজ (১ম বর্ষ)