বিপদের সময় আমাদের কি করা উচিত? । What should we do in times of danger?

744
modern Islam

করোনা ভাইরাস কি পারবে আমাদের উপলব্ধিতে পরিবর্তন আনতে?

বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ‘করোনা ভাইরাস’ তথা (কভিড ১৯) বর্তমান সময়ে এক অপ্রতিরোধ্য ভয়ঙ্কর প্রাণঘাতী মহামারীরূপে দেখা দিয়েছে। বিশ্ব মিডিয়ার সবটুকু জুড়ে এখন শুধুই করোনার খবর। আজ বিশ্বের কোন কোন দেশে কতজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। কে কে ভ্যাকসিন বানাচ্ছে, কতোদিন পর ভ্যাকসিন বিশ্ববাসীর নাগালে আসতে পারে, লকডাউন কতোদিন চলবে, মোট কতো মানুষ আক্রান্ত হতে পারে, মারা যেতে পারে কতোজন- একটু পর পর আপডেট।

বিশ্বব্যাপী ৭০০ কোটি মানুষের চিন্তা-চেতনার পুরোটাই এখন দখল করে আছে করোনা বা (কভিড ১৯) নামক এই প্রাণঘাতী মহামারী। পুরো পৃথিবীর মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন এই অদেখা ভাইরাস। বিগত হাজার বছরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মহামারী হানা দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ হরণ করেছে। আর তা ছিল দেশ, বড়জোর মহাদেশ-ভিত্তিক। কিন্তু কেন এবার হঠাৎ এই অচেনা অদেখা ভাইরাস পৃথিবীর কোন নির্দিষ্ট দেশ-মহাদেশ বা অঞ্চলকে গ্রাস না করে সমগ্র বিশ্ববাসীর উপর একযোগে আক্রমণ করে বসলো? ইতোপূর্বে এমন অভিনব মহামারী বিশ্ববাসী দেখেছে বা মোকাবেলা করেছে কি না তা আমাদের জানা নেই।

এমন সর্বব্যাপী বিস্তৃত আযাব-গযব হযরত নূহ্ (আ.)-এর মহা প্লাবনের পর বিশ্বের কেউ দেখেছে বা শুনেছে বলেও আমরা জানি না। আর বলতে গেলে এক দিক থেকে ‘করোনা’ নামক এই মহামারী হযরত নূহ্ (আ.)-এর সেই মহা প্লাবনের চাইতেও ব্যাপক ও ভয়ঙ্কর। কেননা, মহা প্লাবনে অন্ততঃ আল্লাহর নবী হযরত নূহ্ (আ.) ও তাঁর কিস্তিতে আরোহনকারীগণ নিশ্চিতরূপে নিরাপদ ছিলেন। পক্ষান্তরে করোনা বা (কভিড ১৯) নামক এই প্রাণঘাতী ভাইরাস থেকে বিশ্বের কোন একটি দেশ, সমাজ, পরিবার কিংবা ব্যক্তিরও কি নিরাপদ থাকার নিশ্চয়তা আছে? বরং বর্তমান বিশ্বের সর্ব্বোচ্চ নিরাপদ পরিবেশ এবং নিরাপত্তা বলয়ে অবস্থানকারীদের বিরাট এক অংশও আজ এই প্রাণঘাতী ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।

অতএব বিষয়টি সম্পর্কে আমাদেরকে আরো একটু গভীরভাবে ভেবে দেখতে হবে। আর ঈমান তথা বিশ্বাসের দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা যা দেখতে পাই, তা হচ্ছে- অতীত যুগে মানব জাতির উপর আপতিত এই ধরণের আযাব-গযবের খবর ওহীর মাধ্যমে জানার পর রাহমাতুল্লিল আলামীন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের দরবারে প্রাণপ্রিয় উম্মতকে জন্য এই ধরণের সর্বব্যাপী আযাব-গযব থেকে নিরাপদ থাকার এবং অদূর ভবিষ্যতে নিরাপদ রাখার আবেদন পেশ করার পর আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরআনের নিম্নোক্ত ঘোষণার মাধ্যমে তাঁর প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই বলে আশ্বস্ত করেন :

وَمَا كَانَ ٱللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمۡ وَأَنتَ فِيهِمۡۚ وَمَا كَانَ ٱللَّهُ مُعَذِّبَهُمۡ وَهُمۡ يَسۡتَغۡفِرُونَ (سُورَةُ الأَنفَالِ : ٣٣)  “আল্লাহ্্্ কখনই তাদের (উম্মতে মুহাম্মদীর) উপর আযাব নাযিল করবেন না- যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন। তাছাড়া তারা যতক্ষণ ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে আল্লাহ্ কখনও তাদের উপর আযাব দিবেন না।” (সূরা আল আনফাল : ৩৩)
অর্থাৎ, হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি পৃথিবীতে থাকা অবস্থায় আল্লাহ্ তা’আলা আপনার উম্মতের উপর আযাব অবতীর্ণ করবেন না। কারণ, সমস্ত নবী-রাসূলগণের ব্যাপারেই আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের নীতি এই যে, তাঁরা যে জনপদে থাকেন তাতে ততক্ষণ পর্যন্ত কোন আযাব নাযিল করেন না, যতক্ষণ না স্বীয় পয়গাম্বরগণকে সেখান থেকে সরিয়ে নেন।
মোটকথা এ আয়াতের সারমর্ম এই যে, হে মানুষ! তোমরা তো কোরআন ও ইসলামের বিরোধিতার কারণে আযাব-গযবেরই যোগ্য, কিন্তু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দুনিয়ার বুকে অবস্থান এই আযাব আসার পথে অন্তরায় হয়ে আছে। আর আযাব আসার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অন্তরায় হচ্ছে :

وَمَا كَانَ ٱللَّهُ مُعَذِّبَهُمۡ وَهُمۡ يَسۡتَغۡفِرُونَ (سُورَةُ الأَنفَالِ :٣٣  “তাছাড়া তারা যতক্ষণ ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে আল্লাহ্ ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের উপর আযাব দিবেন না।” (সূরা আল-আনফাল : ৩৩) (সহীহ্ বোখারী : ৪৬৪৮)
অর্থাৎ, আল্লাহ্ তা’আলা তাদের উপর আযাব নাযিল করবেন না, যখন তারা তাওবা-ইস্তেগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে। এর মর্ম এই যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর যদিও ব্যাপক আযাবের পথে যে অন্তরায় ছিল তা দূর হয়ে গেছে, অর্থাৎ, তাঁর দুনিয়ার বুকে বর্তমান থাকা, কিন্তু তারপরেও আযাব আসার পথে আরেকটি বাধা রয়ে গেছে। আর তা হল এই যে, আল্লাহ্ তা’আলার দরবারে উম্মতের তাওবা-ইস্তেগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা অব্যাহত রাখা।

আর তাই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর হযরত আবু হোরায়রা (রা.)মুসলিম উম্মাহ্কে সম্বোধন করে বলতেন :

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ : “كَانَ فِيكُمْ أَمَانَانِ : مَضَتْ إِحْدَاهُمَا، وَبَقِيَتِ الْأُخْرَى”، {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ، وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ} [سُورَةُ الأَنفَالِ : ٣٣] «هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ مُسْلِمٍ، وَلَمْ يُخَرِّجَاهُ. وَقَدِ اتَّفَقَا عَلَى أَنَّ تَفْسِيرَ الصَّحَابِيِّ حَدِيثٌ مُسْنَدٌ» (مُسْتَدْرَك الحَاكِم : ١٩٨٨)
“হে উম্মতে মুসলিমা! আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের নিম্নোক্ত বাণীর প্রতি মনোনিবেশ কর, যেখানে তিনি ঘোষণা করেছেন : “আল্লাহ্ কখনই তাদের উপর আযাব নাযিল করবেন না যতক্ষণ আপনি (মুহাম্মদ সা.) তাদের মাঝে অবস্থান করবেন। তাছাড়া তারা যতক্ষণ ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে আল্লাহ্ কখনও তাদের উপর আযাব দিবেন না।” (সূরা আল-আনফাল : ৩৩) “আলোচ্য আয়াতে উল্লেখিত আযাব প্রতিহতকারী একটি নেয়ামত তো তোমাদের জীবন থেকে গত হয়ে গেছে, তবে অপরটি (তাওবা-ইস্তেগফার) এখনও অবশিষ্ট রয়েছে।” (মুস্তাদরাক হাকেম : ১৯৮৮)

অর্থাৎ, যে কোন ধরনের আযাব-গযব থেকে এই উম্মতের নিরাপত্তা লাভ করার দুটি নিশ্চিত উপায় স্বয়ং রাব্বুল আলামীন বলে দিয়েছেন- যার একটি হচ্ছে : উম্মতের মাঝে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্বশরীরে উপস্থিতি। আর দ্বিতীয় পন্থাটি হচ্ছে : উম্মতের প্রতিটি সদস্যের তাওবা-ইস্তেগফার অব্যাহত রাখা।
অতএব, চলমান ভয়াবহ এই সঙ্কট থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে উত্তরণ করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই অনতিবিলম্বে জাতীয় পর্যায়ে সম্মিলিতভাবে তাওবা-ইস্তেগফার করতে হবে। সেই সাথে যুলুম-নির্যাতন, সুদ, ঘুষ, ব্যভিচার, বেহায়া-বেলেল্লাপনার অপসংস্কৃতি, ধর্মহীন শিক্ষা-ব্যবস্থা ও বিচারহীনতার অভিশাপ থেকে পরিপূর্ণরূপে বেরিয়ে এসে সকল ক্ষেত্রে ন্যায় বিচার ও ইনসাফপূর্ণ নীতি কার্যকর করতে হবে। অন্যথায় অতীতে যে সকল দুর্যোগ-দুর্বিপাক অল্প কয়েকজন নেককার বান্দার তাওবা-ইস্তেগফার ও রোনাজারির কারণে অপসারিত হয়েছে, এবার তাও হয়তো ব্যর্থ হবে। কেননা, এবারকার মহামারী যে নজীর-বিহীন সর্বগ্রাসী ভয়ঙ্কর আকৃতি ধারণ করেছে, তাতে করে জাতীয়ভাবে তাওবা-ইস্তেগফার করা ছাড়া এ থেকে নিস্কৃতি লাভের আর কোনই বিকল্প আছে বলে আমরা মনে করি না।

আর যারা এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রকৃত কারণ ও এর ভয়াবহ পরিণাম যথাযথ উপলব্ধি না করে বরং ‘শক্ত হাতে একে মোকাবেলা করার’ ফাকা বুলি আওড়াচ্ছেন, তারা মূলতঃ সমগ্র জাতির জন্য পরিস্থিতিকে আরো জটিল ও ভয়াবহ করে তুলছেন। কেননা, এ সকল অন্তসার-শূণ্য ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বাগাড়ম্বরের মাধ্যমে তারা মূলতঃ সর্বশক্তিমানকেই চ্যালেঞ্জ করছেন। কারণ, ইতোমধ্যেই এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে, জাতিগতভাবে যারা আমাদের চেয়ে হাজার গুণ বেশী শক্তিশালী ও উন্নত জীবনমানের অধিকারী- তারাও আজ সকল চেষ্টা-তদবীর শেষে এই মহামারীর মোকাবেলায় পরাজিত ও পর্যুদস্ত। তাদের সকল প্রকার প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে মৃত্যুর মিছিল দিনের পর দিন বেড়েই চলছে। সেখানে আমাদের জন্য কোন ভয়াবহ পরিণাম অপেক্ষা করছে তা উল্লেখিত ফাপড়বাজ শ্রেণীটি ব্যতিত সমগ্র জাতিই মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারছে। অতএব সময়ের অপচয় না করে আমাদের উচিৎ অনতি-বিলম্বে বিগত জীবনের সকল ভুল-ত্রুটি থেকে বেরিয়ে আসার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করতঃ জাতীয়ভাবে তাওবা-ইস্তেগফারের আয়োজন করা।

আর আমাদের এও মনে রাখতে হবে, যে মহান সত্ত্বার হাতে আমাদের জীবন-মরণ, তাঁর ক্রোধ থেকে নিস্কৃতি লাভের সম্ভাব্য যে সকল পন্থা-পদ্ধতি আমরা তালাশ করছি- তা কেবলমাত্র তখনি কার্যকর হবে যখন আমরা তাঁকে সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে তাঁর রহ্মত লাভ করতে পারব। অন্যথায় শয়তানের না না চক্করে পড়ে আখেরে তাঁর ক্রোধ থেকে রক্ষা পাওয়ার সকল প্রচেষ্টাই আমাদের ব্যর্থ হবে। কারণ, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, যেখানে ইতালীর ন্যায় একটি অমুসলিম দেশের প্রধানমন্ত্রী ‘করোনা’র বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সকল শক্তি প্রয়োগ করে ব্যর্থ হবার পর এই বলে আত্মসমর্পণ করেছে যে, “আমরা এখন আকাশের অধিপতির দিকে তাকিয়ে আছি।” সেখানে মুসলিম দেশসমূহের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের কারো মূখ থেকে একটি বারের জন্যও সর্বশক্তিমানের কাছে আত্মসমর্পণের কোন আকুতি আমরা আজ পর্যন্ত শুনতে পেলাম না।

মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও ঈমানী চেতনার এই দৈন্যদশাই আমাদেরকে দিন দিন আরো বেপরোয়া করে তুলছে। আর তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের এই চিরাচরিত কৃতঘœ চরিত্রের কথা ভেবে জনৈক মুসলিম মনীষীর বক্তব্য হচ্ছে : আল্লাহ্ চাহেতো করোনা চলে যাওয়ার পর যদি আমরা নিজেদের সংশোধন করতে না পারি, তবে নিশ্চিতরূপে বিশ্বের জন্য আমরাই হবো করোনা ভাইরাসের পরবর্তী সংস্করণ বা (কভিড ২০) কারণ,

পৃথিবীতে মহামারী শুধুমাত্র মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার জন্যই আসে না। বরং তা আমাদেরকে গাফলতের নিদ্রা থেকে জাগিয়ে তোলার জন্যও আসে। আর এটাই হচ্ছে বালা-মসিবত থেকে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা। অতএব আমরা যদি করোনার তান্ডব থেকে এই শিক্ষা ও উপলব্ধি নিজেদের মধ্যে ধারণ করতে পারি, তবে আশা করা যায় যে, বর্তমান সঙ্কট থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে সক্ষম হবো।

আমরা মহান রাব্বুল আলামীনের রহমত থেকে কখনই নিরাশ হতে পারি না। কারণ, তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি সর্বদা আরহামুর রাহিমীন। তাছাড়া হাদীসে কুদসীতে স্বয়ং আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন বান্দাদের সর্বাবস্থায় তাঁর প্রতি সুধারণা পোষণ করতে বলেছেন। যেমন, সহীহ্ বোখারীতে হযরত আবু হোরায়রা (রা.)থেকে বর্ণিত হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : “قَالَ اللهُ : أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي” (رَوَاهُ البُخَارِيُّ فِيْ كِتَابِ التَّوْحِيْدِ : ٧٥٠٥ “আল্লাহ্ পাক বলেন, বান্দা আমার প্রতি যেরূপ ধারণা পোষণ করে, আমি তার সাথে সেরূপ আচরণই করে থাকি।” (সহীহ্ বোখারী : ৭৫০৫)

তাছাড়া এমন পরিস্থিতিতে অন্তিম সময়ে এসেও বান্দা যদি তাওবা-ইস্তেগফারের মাধ্যমে মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে আত্মসমর্পণ করে, তবুও আল্লাহ্ পাক বান্দার উপর থেকে সকল প্রকার আযাব-গযব ও অকল্যাণ সরিয়ে নেন। যেমন, পবিত্র কোরআনে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন এ সম্পর্কে এরশাদ করেন :

ٱلَّذِينَ تَابُواْ مِن قَبۡلِ أَن تَقۡدِرُواْ عَلَيۡهِمۡۖ فَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ غَفُورٞ رَّحِيمٞ (سُورَةُ المَائ‍ِدَةِ : ٣٤) “তাদের মধ্যে যারা আল্লাহ্ তা’আলা কর্তৃক গ্রেফতার হওয়ার পূর্বেই তাওবা করে নেয়। জেনে রাখ, আল্লাহ্ তাদের প্রতি ক্ষমাশীল, দয়ালু।” (সূরা আল মায়িদাহ্ : ৩৪)

অতএব আমাদের উচিৎ ইতালী, ফ্রান্স, বৃটেন, জার্মানী, স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায় ভয়াবহ পরিণতি বরণ করার পূর্বেই সর্বশক্তিমান রাব্বুল আলামীনের দরবারে তাওবা-ইস্তেগফারের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করা।
আল্লাহ্ পাক আমাদের সকলকে পরিস্থিতির ভয়াবহতা যথাযথ উপলব্ধি করার ও তদনুযায়ী উদ্যোগ গ্রহণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

লিখেছেন: মাওঃ আহমেদ বদরুদ্দীন খান – সম্পাদক মাসিক মদীনা