মাগফিরাতের মাস রমাদান | Dua for Ramadan | Modernislam

1124

Table of Contents

(২য় পর্ব)

পবিত্র মাহে রমজানের চলে এসেছে। আলহামদুলিল্লাহ্‌ আল্লাহ সুবহানা তাআলা আমাদের সুস্থভাবে রোজা রাখার তৌফিক দান করেন।

আল্লাহ সুবহানা তাআলা রমজানে শয়তানকে বন্দি করে রাখেন।

তিনি শয়তানকে আমাদের থেকে  অনেক দূরে সরিয়ে রাখেন। উনি আমাদের কাজকে অনেক সহজ করে দেন।  

যাতে আমাদের অন্তর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটা সুযোগ পায়।

আমাদের আসল যুদ্ধটা তখনই শুরু হয় যখন রামজান শেষে ঈদ আসবে। বলুন তো কি হবে? রামাদান শেসে শয়তান মুক্তি পাবে। দীর্ঘ একমাস ধরে আপনি যে অনুশীলন করলেন সেটা এখন কাজে দিবে।

কিন্তু আপনি যদি রামাদানে নিজেকে ঠিকমত প্রশিক্ষিত না করেন তাহলে কি হবে? 

মনে করুন, কেউ যখন আর্মিতে যোগ দিতে চায় তাকে শারীরিক প্রশিক্ষণ করতে হয়। তাকে কোন দেয়ালের উপর দিয়ে লাফ দিতে হয়, অথবা দেয়াল বেয়ে উঠতে হয় এদিক সেদিক যেতে হয়।

এখন ধরুন, দুই জন লোক আর্মিতে যোগ দানের পর  প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।

একজন গেল দেওয়ালের উপর দিয়ে লাফিয়ে অন্যজন পাশ এ দিয়ে হেটে ওই পাশে গেল।

ধরুন এই কাজটি তাদেরকে ১০বার  করতে বলা হল। একজন দশবার লাফিতে গেল আর অন্যজন ঠিক ১০ বার ই অন্য পাশ দিয়ে ঘুরে গেল ।

এখন তারা যখন আসল যুদ্ধ ক্ষেত্রে যাবে  তখন তাদেরকে একটি দেয়াল পার হতে হবে। এখন কি বুঝতে পেরেছেন তাদের মধ্যে কে যেতে পারবে আর কে পারবে না? 

তারা দুজনই বলতে পারে যে আমি তো আমার কাজ শেষ করেছি।  সবাই চায় ফিনিশ লাইনে পৌঁছাতে।

ঠিক এভাবেই আপনিও রোজা রাখবেন, আপনার ভাইও রোজা রাখবে। কিন্তু কখনই আপনাদের দুজনের রোজা এক হবে না।

যে মানুষটি সত্যিই নিজেকে প্রশিক্ষিত করেছিল আর যে নিজেকে প্রশিক্ষিত করেনি তারা দুজন কি একই ফল পাবে?

তাই আল্লাহ সুবহানা বলছে, আয়্যামান মাদুদাদ তার মানে ”অল্প কিছুদিন”। আপনারা কি জানেন এই আয়াতটির অর্থ কি?

যে আয়াতটি নিয়ে আলোচনা করলাম সেটা রমজানের আয়াত নয়। এখনো রমজানের কথা আসেনি।

“মাদুদাদ” শব্দটি দিয়ে বুঝায় বা এর অর্থ হল দশের নিচে। এর মানে হল, নয় বা  তারও কম।

এই আয়াতটি দ্বারা আগেকার দিনের যে রোজা ছিল সেটার কথা বলছেন। মানে রমজানের আগে রোজা যেটা ইহুদীরা যে দিন করত, সেই দিনই ছিল বা মাসের  মাঝখানের তিনটি দিন ছিল।

এক কথায় বলতে অল্প কিছু দিন।

Ramadan

আল্লাহ সুবহান তাআলা বলছেন, “আমি তোমাদের উপর রোজা ফরজ করেছি যেমন ফরজ করেছিলাম পূর্ববর্তী নবীদের উপর”

আয়্যামান মাদুদাদ “তবে তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ হবে কিংবা সফরে থাকবে তাহলে অন্যান্য দিনের সংখ্যা পূরণ করে নেবে” 

“যদি তারা তা করতে না পারে কোন গরীব লোককে খাওয়াবে”

এখন আপনাদেরকে মনে করিয়ে দিতে চাই রমজানের বিধান আসার আগে যদি কেউ রোজা করতে অক্ষম হতো সেটা দুইটি উপায়ে আদায় করা যেত।

আল্লাহ সুবহানা তাআলা মুসলিমদেরকে কি বলেছেন? 

তিনি বলেছেন যে, তোমরা দুটি কাজ করতে পারবে, প্রথমটি হলো আপনি যদি রামাদানে রোজা রাখতে না পারেন

তাহলে পরে সেটা আদায় করে নিতে পারবেন। 

আর দ্বিতীয় যে কাজটি আপনি করতে পারেন সেটি হলো গরীবদের খাওয়ানো। এই দুই  উপয়ে আপনি রোজা না রাখার কাফফারা আদায় করে নিতে পারেন ।

কিন্তু এই দুই উপায়ে কাফফারা আদায় করার বিধান কি রমজানের বিধান আসার আগে ছিল নাকি পরে? 

না এটা রমজান বিধান আসার আগেই ছিল।  রমজান সম্পর্কিত আয়াত এটি নয়। এই আয়াত হলো মুসলিমরা এখনও রমজান সম্পর্কে জানেই না।

তারা শুধু জানে ইহুদীরা যেভাবে রোজা রাখে ঠিক সেভাবে রোজা রাখা যায়।

আপনি  যদি রামজানের ওই কয়দিন যদি রোজা রাখতে না

পারেন তাহলে, আপনি সেটা পরে আদায় করে নিতে পারেন, রোজা রেখে ।

কিংবা গরিব  কাওকে খাওয়ানোর মাধ্যমে কাফফারা আদায় করে নিতে পারেন। তবে আপনি  নিজে যদি রোজা রাখেন আপনার জন্য সেটাই ভালো। 

Ramadan

যদিও আপনার জন্য দুটো পথই খোলা আছে। কিন্তু আপনি নিজে রোজাগুলো করতে পারলে সবচেয়ে ভালো।

কিন্তু আপনি গরীবদের খাওয়ানোর মাধ্যমে সেটা আদায় করতে পারেন। তাতে কোন সমস্যা নেই। সাহাবাদের সময়কালে ওনারা এটাই পালন করতেন।

আর যদি আপনি রোজা রাখেন তবে তা আপনাদের জন্য বিশেষ কল্যাণকর হবে। এখন রমজানের কথায় আসছি ।

আমি প্রথমে আপনাদের রমজানের পটভূমিটা বলতে চাইছি। প্রথম যখন মুসলিমরা রোজার কথা শুনল। যখন সাহাবারা  রোজার কথা জানত তা দশ দিনের কম সময় ছিল।

এটা হল প্রথম কথা আর দ্বিতীয় কথা হলো কেউ যদি রোজা করতে অক্ষম হতো তাহলে সেটা আদায় করার দুইটা বিধান ছিল।

আপনি যদি রোজা করতে পারেন তাহলে সেটা নিজেই করে ফেলুন।

কিন্তু এখানে আপনার জন্য আরেকটি বিধান আছে। এখন আল্লাহ সুবহানা তাআলা বলছেন,শাহ্রু রমাদান । অর্থাৎ রোজার মাস পরের আয়াত । এটি হচ্ছে কোরআনের আয়াত।  রমজানের রোজা রাখা বিষয়ক একমাত্র আয়াত। একমাত্র এটি।

ramadan2020

আগের পর্বেও বলেছি যখন আমাদের রমজানের কথা চিন্তায় আসে তখন  প্রথম কোন বিষয়টা আমাদের মাথায় আসে?

তা হলো ইফতার। যেমন বেগুনি আলুর চপ ইত্যাদি বাসায় যথেষ্ট পরিমানে আছে কিনা সেটা দেখতে হবে।  

আপনি অতিরিক্ত পরিমানে কার্বো হাইড্রেড জাতীয় জিনিস কিনেন।

আমারা মুসলিমরা রমজানের সময় আমাদের ওজন কমাই না বরং ওজন বাড়াই। এখন এটাই আমাদের নিয়ম হয়ে গেছে।

আপনি যখন রমজান মাসের কথা ভাবেন সর্বপ্রথম যে বিষয়টা আপনার মাথায় আসে

সেটা হলো রোজা রাখা।  

আপনি যদি খাবারের কথা চিন্তা নাও করেন তারপরও আপনি বলেন, 

রমজান তো এই বছর গরমের সময় কি যে হবে? আপনি শুধু এই ধরনের চিন্তাই করতে থাকেন।

আল্লাহ সুবহানা তাআলা পবিত্র কোরআনে বলছেন, রমজান কথাটি শুনলেই প্রথম যেই বিষয়টা আপনার চিন্তা করার কথা ছিল তাহল আল্লাহ সুবহানা তাআলা এটা  বলেননি, যে তাতে তিনি রোজা ফরজ করেছেন।

তিনি বলেছেন । “রমজানে সেই মাস যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছিল”।

সেই কারণে রমজান একটি বিশেষ ফযিলতপূর্ণ মাস। শুধু রোজা নয় রমজান মাস বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এই মাসেই কুরআন নাযিল হয়েছিল।

আল্লাহ সুবহানা তাআলা আমাদের এটাই বলছেন।

এখন আপনি আপনার নিজেকে প্রশ্ন করুণ রমজানে রোজা তো রাখছেন কিন্তু আপনি কি কোরআন পড়ছেন? না আপনি শুধু রোজাই রাখছেন।

কিন্তু পুরো রমজানের ৩০ দিনে এক পৃষ্ঠা কোরআনও আপনি মুখস্থ করেননি। একপৃষ্ঠা আধা পৃষ্ঠা, এমন দুটো আয়াতও তো আপনি কুরআন থেকে মুখস্থ করেননি। তাহলে আপনি কিভাবে বুঝবেন আল্লাহ সুবহানা তাআলা আপনাকে কি বলছেন।

আসলে কোরআন নাজিল হওয়াটা উদযাপন করাই ছিল রমজানের প্রধান উদ্দেশ্য।

আমি আগের পর্বে আপনাদের বলেছি একটা জাতির জন্য প্রথম যে জিনিসটা থাকা দরকার তা হল রাজধানী।

আর এখন আমাদের নতুন রাজধানী হচ্ছে কাবা।

ramadan

দ্বিতীয় যে বিষয়টা একটি জাতির থাকা দরকার সেটি হল সংবিধান। আমাদের সংবিধান কি কোরআন?

আর সংবিধান যখন লিখা হয় এবং তা অনুমোদিত হয় সেটা প্রত্যেক জাতি উদযাপন করে থাকে। প্রত্যেক জাতি যাদের সংবিধান আছে তাদের একটি সংবিধান দিবসও রয়েছে। যেদিনটিতে তাদের সংবিধান কার্যকর হয়েছিল।

এই রমজান মাসে আমাদের সংবিধান পবিত্র কুরআন নাযিল হয়েছিল। আল্লাহ সুবহানা তাআলা আমাদের কে শুধু একটি দিন দেননি।

বরং উদযাপন করার জন্য আমাদেরকে পুরো রমজানের ৩০টা দিন দিয়েছেন।

এখন আমাদের নিজস্ব রাজধানী ও সংবিধান দুটোই আছে। এবং রোজা রাখার আমাদের নিজস্ব দিনও রয়েছে।

ইয়াহুদিরা যেদিন রোজা রাখত এটা আর সেই দিন নেই । আল্লাহ সুবহানা তাআলা সেই দিনটি পুরোপুরি আলাদা করে ফেলেছেন।   

কোরআন নাজিল হওয়াটা উদযাপন করাই ছিল রমজানের মূল উদ্দেশ্য। এটা শেষ তাই আপনি যদি নিজেকে ইয়া আইয়ুহাল্লাজিনা আমানুর এর অন্তর্ভুক্ত করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই নামাজের দিক পরিবর্তন করতে হবে এবং আপনাকে রোজা রাখার দিনটিও পরিবর্তন করতে হবে।

এছাড়া আর অন্য কোন উপায় নেই। আপনাকে রুকু করতে বলা হয়েছিল, যারা রুকু করে তুমি তাদের মতো করে রুকু কর এবং তাতে কোন সমস্যা ছিল না।কারণ তখনও রুকু করার দিক একই ছিল।

কিন্তু এখন রুকু করার দিক পরিবর্তন হয়ে গেছে।  ইয়াহুদিরা কিভাবে ইবাদত করে, রুকু দেয় এই সম্পর্কে পবিত্র কুরআন বলেছেন ।

কেন আল্লাহ সুবহানা তাআলা ইয়াহুদিদের এটা বললেন?

বর্তমানে ইয়াহুদিরা সিজদা  জিনিসটা একদম হারিয়ে ফেলেছে । আর কিছু রুকু এখনো তারা করে । তাদের ইবাদত শেষ ভাগ হচ্ছে রুকু অর্থাৎ তাঁরা আগে সিজদা দেয় তারপরে রুকু  করে।

আল্লাহ সুবহানা তাআলা মারিয়াম আঃ কেউ বলেছিলেন। কারণ তাদের ইবাদতে সিজদা আগে করতে হয় আর রুকু পরে করে।  

এখন আবার আমাদের রমজানের বিষয়টিতে ফিরে আসি । আমার মনে হচ্ছে বড় একটা ধাক্কা খাওয়ার মত অবস্থা ।

ramadan2020

কারণ আল্লাহ সুবহানা তাআলা বলছেন, “কোরআন সকল মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক”  

এই আয়াতটি শুধু মুসলিমদের জন্য না। এটা মদিনার সকল ইহুদি সম্প্রদায়ের জন্যও নির্ধারিত ছিল।

তাঁরা ভাবে যে যখন ওহি আসে সেটা কাদের জন্য আসে? শুধুই তাদের জন্য আসে।

আল্লাহ্ সুবহানা তাআলা বলছেন, “না, এবার ওহি  শুধু তোমাদের জন্য না এটা সমগ্র মানবজাতির জন্য”। আল্লাহ সুবহানা তাআলা এটাও বলেননি যে,  না এটা সমগ্র মানব জাতির জন্য ।

এটাই আমাদের ধর্মের সবচেয়ে সুন্দর বিষয় বলা যায়। আপনি আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া বা পাকিস্তানের যে কোন মসজিদে গেলেই দেখতে পাবেন সকল জাতির ও বর্ণের মানুষ সবাই এক কাতারে দাঁড়ায়।

তাদের মাঝে কোন ভেদাভেদ থাকে না। এমনটা কখনো হয় না যে, ধনীরা সামনের কাতারে এবং মধ্যবিত্তরা মাঝের কাতারে আর গরিবরা শেষ কাতারে দাঁড়াবে।

সবাই এক কাতারে দাঁড়ায়। অফিসের বস আর  কর্মচারীরা সবাই একই কাতারে দাঁড়ায়।

কিন্তু এমন হতে পারে যে কর্মচারী কখনো প্রথম কাতারে দাঁড়ায় আর বস শেষ কাতারে।

আবার এমনও হতে পারে যে লোক আপনার নিকট কাজ করে সে ইমামতি করছে। আর আপনি ঠিক তার পিছনে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করছেন।

আল্লাহ সুবহানা তাআলা এমন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন সবার জন্য। আপনি জানেন এর মানে কি?

আল্লাহ সুবহানা তাআলা পবিত্র কুরআনের ও সালাত নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সবাইকে সমানভাবে সৃষ্টি করেছেন।

আমরা সকলে একত্রে সালাত আদায় করি এ কারণে আমরা বর্ণবাদী হতে পারি না। আমাদের মধ্যে তো জাত অভিমান থাকার কথা নয়। এ

কারণে আমরা কখনো কাউকে জাতি, রঙ,বর্ণ ভাষা ইত্যাদি দিয়ে আলাদা করতে পারি না।

আর জানেন যখন আমরা নামাযে দাঁড়াই ঠিক তখনই একটা বিষয় আমাদের আরো বেশি মনে পড়ার কথা বিলাল (রাঃ) ও  উসমান (রাঃ) এক কাতারে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন।

তার মানে আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় যে আমরা সমান এটাই হল হুদাল্লিন নাস। আমি এসব আপনাদেরকে বলছি কারন আমদের মাঝে এ ধরনের প্রবণতা আছে।

মুসলিমদের মধ্যে জাতীয়তাবাদ ও আছে আবার তাঁরা একে অন্য নিয়ে ঠাট্টা-তামাশাও করে।

একে অন্যদেরকে ছোট করে কথা বলে, তাদের সম্পর্কে বাজে কথা বলে, অন্যদের ভাষা নিয়ে বাজে কথা বলে।

আরবরা নন আরবদের নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করে।

আমাদের সাথে এমন হচ্ছে কেন? আমরা কি নামাজ পড়িনা? তাহলে নামাজ থেকে আমরা কি শিখছি?

আমরা কি কোরআন থেকেও  কিছু শিখতে পারছি না? আপনাকে দেখতে মুসলিম মনে হয়। মুসলিমরা যেভাবে কথা বলে আপনিও ঠিক সেভাবেই কথা বলেন।

কিন্তু আপনার দিনের জন্য আপনার হৃদয়ের ভিতর কোন ভালোবাসা নেই।

আপনারা যারা আমাদের এই ভিডিও টা দেখছেন ভিন্ন দেশ ভিন্ন ভাষার থাকতে পারেন। কিন্তু আমি জানি আমাদের মাঝে এমন একটা সম্পর্ক আছে যা রক্তের সম্পর্কের চেয়েও অনেক বেশি গাঢ়।

কেননা শুধুমাত্র আমরা সবাই লা-ইলাহা- ইল্লাল্লাহ বলার কারণে এটি রক্তের থেকেও গাঢ়।

শুধুমাত্র এ কারণেই পবিত্র কোরআন আমাদেরকে একটি সুতোতে গেঁথে রেখেছে ।

এবং ইহুদিদেরকে এই কথাটাই বলা হয়েছিল। কারণ তাঁরা বিশ্বাস করত যে তারা সবাই উঁচু শ্রেণির আর বাকি সবাই নিচু শ্রেণির ছিল। তাঁরা আরও মনে করত তারা হলো আল্লাহর নির্বাচিত বিশেষ জাতি।

আল্লাহ সুবহানা তাআলা বলছেন, “যে কেউ কুরআনের একজন অনুসারী হতে পারে” ।

সমগ্র মানবজাতির জন্য খোলা দাওয়াত এর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে সবধরনের বর্ণবৈষম্য জাতীয়তাবাদ,গোত্রবাদ এবং এই সবকিছু দূর করে দেয়।

সুবহানাল্লাহ! কি চমৎকার একটি দিন, কি চমৎকার ব্যাপার! আপনি যখন মসজিদে গিয়ে দেখবেন  সেটাকে মনে হবে যেন একটা আন্তর্জাতিক সম্মেলন চলছে।

বিভিন্ন জাতির মানুষ এক কাতারে দাঁড়ানো এমনকি তারা কেউ কারো ভাষাও জানে না ।

কিন্তু তারা একসাথে এক কাতারে নামাজ পড়ছে। যখন আমরা একত্রে নামাজে দাঁড়াই নামাজ আমাদের সবাইকে একত্রিত করে,

Ramadan2020

আবার কুরআনও আমাদেরকে এভাবেই একীভূত করে। “সুস্পষ্ট  পথ নির্দেশ আর অন্যায় ও ন্যায়ের  মাঝে পার্থক্য বিধানকারী”।

এই আয়াতটি তো রমজানের  হওয়ার কথা ছিল, ঠিক তাই না। আয়াতটি শাহ্‌রু রমাদান দিয়ে শুরুই হয়েছে অথচ এখন পর্যন্ত আল্লাহ সুবহানা তাআলা কি বলেছেন? 

তিনি বলেছেন, এই মাসে পবিত্র কুরআন নাযিল হয়েছিল। যা আল্লাহর তরফ থেকে পথপ্রদর্শক।

অর্থাৎ এই নির্দেশনাগুলো একেকটা আশ্চর্য ব্যাপার। “সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী”

আল্লাহ সুবহানা তাআলা এ পর্যন্ত রমজান নিয়ে একটি কথাও বলেননি। আয়াতের অর্ধেকের বেশি অংশের শুধু কোরআন নিয়ে আলোচনা করেছেন।

কেন আল্লাহ সুবহানা তাআলা এরকম টা করলেন?

কারণ আল্লাহ সুবহানা তাআলা এটা নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন যে পবিত্র রমজান হচ্ছে কুরআনেরই মাস। এটা যেন কোন মুসলিম ভুলে না যায়। পবিত্র রমজান কুরআনের মাস। আল্লাহ সুবহানা তাআলার নিকট হতে নাযিলকৃত সেই আশ্চর্য কিতাবের মাস।

আগামী পর্বে আমরা রমজান মাসের অত্যাবশ্যকীয় কাজগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।   

FAQs About Ramadan – রোজা সংক্রান্ত কিছু প্রশ্ন

রমজানে শয়তানকে আমাদের থেকে অনেক দূরে আটকে রাখা হয়। এর মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানা তাআলা আমাদের কাজকে অনেক সহজ করে দেন। যাতে আমাদের অন্তর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটা সুযোগ পাই।

তিনি বলেছেন যে, তোমরা দুটি কাজ করতে পারবে, প্রথমটি হলো আপনি যদি রামাদানে রোজা রাখতে না পারেন । তাহলে পরে সেটা আদায় করে নিতে পারবেন।
আর দ্বিতীয় যে কাজটি আপনি করতে পারেন সেটি হলো গরীবদের খাওয়ানো। এই দুই উপয়ে আপনি রোজা না রাখার কাফফারা আদায় করে নিতে পারেন ।

আল্লাহ সুবহানা তাআলা পবিত্র কোরআনে বলছেন, রমজান কথাটি শুনলেই প্রথম যেই বিষয়টা আপনার চিন্তা করার কথা ছিল তাহল আল্লাহ সুবহানা তাআলা এটা বলেননি, যে তাতে তিনি রোজা ফরজ করেছেন।
তিনি বলেছেন । “রমজানে সেই মাস যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছিল”
সেই কারণে রমজান একটি বিশেষ ফযিলতপূর্ণ মাস। শুধু রোজা নয় রমজান মাস বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এই মাসেই কুরআন নাযিল হয়েছিল।
তাই রমজানে আল্লাহ আদেশ সঠিক ভাবে পালনের জন্য পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করতে হবে।

কারণ আল্লাহ সুবহানা তাআলা এটা নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন যে পবিত্র রমজান হচ্ছে কুরআনেরই মাস। এটা যেন কোন মুসলিম ভুলে না যায়। পবিত্র রমজান কুরআনের মাস। আল্লাহ সুবহানা তাআলার নিকট হতে নাযিলকৃত সেই আশ্চর্য কিতাবের মাস।