মে’রাজ ও ইসরা ২য় পর্ব। Meraj 2nd Episode

রাসূল (সাঃ) বললেন আমার জন্য আকাশ টা উম্মুক্ত হয়ে গেল। এবং তিনি জিবরাঈল (আঃ) এর সাথে আকাশ পানে ভ্রমন করতে লাগলেন।

আলেম ওলামাদের মতে, আমরা আমাদের মহা বিশ্ব বলতে যা কিছু বুঝি অগনিত সব গ্রহ উপগ্রহ এবং নক্ষত্র দিয়ে সাজানো এই প্রকান্ড জগত সব কিছুই প্রথম আসমানের অংশ।

কেননা আল্লাহ তায়াল সূরা মুল্ক এ বলেন, ওয়ালা কাদ ঝাইইনাস সামা আদ দুন ইয়া বিমা স বিহ।

আমাই নক্ষত্র দিয়ে সা মা আদ দুন ইয়া অর্থাৎ নিম্ন স্তরের আসমান কে সাজিয়ে দিয়েছি।

এর মানে এই মহা বিশ্বে জত দূর পর্জন্ত নক্ষত্র রয়েছে অন্তত তত দূর পর্জন্ত প্রথম আসমানের বিস্তার।

অকল্পনিয় এই দূরত্ব জিবরাঈল (আঃ) এর সাথে পারি দিয়ে রাসূল (সাঃ) পৌঁছালেন ২য় আসমানের দার প্রান্তে।

এবং সেখানে জাওার পর ২য় আসমানের রক্ষি ফেরেশ্তারা তাদের পরিচয় জানতে চায়।

জিব্রিল (আঃ) বললেন আমি জিব্রিল। এবং তারা বলে তোমার সাথে কি কেউ আছে?

তিনি বললেন হ্যা, আমার সাথে আছে মুহাম্মাদ (সাঃ)।  উত্তরে প্রশ্ন আসে তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? এবং জিব্রিল (আঃ) বললেন হ্যা।

এরপর ২য় আসমানের দরজা খুলে যায়। এবং এই দরজা কেমন কিভাবে খুলে এবং কত টা প্রকান্ড টা আমাদের কল্পনা জগতের বাইরে। আমরা সুধু এতুটুকু জানি যে, আল্লাহর অনুমুতি ছাড়া আমরা কখনো প্রথম আসমান থেকে ২য় আসমানে জেতে পারবনা।

নতুন এই জগতে প্রবেশ করার সাথে সাথে রাসূল (সাঃ) দেখলেন তার জন্য একজন লম্বা মত ব্যক্তি অপেক্ষা করছেন।

জিবরাঈল (আঃ) বললেন, ইনি তোমার বাবা আদম। উনাকে সালাম দাও। নবিজি (সাঃ) আদম (আঃ) কে সালাম দিলেন।

এবং তিনি সালামের উত্তর দিয়ে বললেন মারহাবান বি লিবনুস সলিহ। ওয়া নাবিউস সলিহ।

স্বাগতম হে পবিত্র সন্তান হে পবিত্র নবী। এরপর রাসূল (সাঃ) জিবরাঈল (আঃ) এর সাথে একে একে ৭ টি আসমান পারি দিলেন।

এবং প্রতিটি আসমানের দার প্রান্তে ফেরেশতারা তাদের পরিচয় জানতে চায়। এবং পরিচয় জানার পর তাদের জন্য সেই আসমানের দরজা খুলে তাদের স্বাগত জানায়।

এবং প্রতিটি আসমানেই আল্লাহ তায়ালা রাসূল (সাঃ) কে স্বাগত জানানোর জন্য কোন না কোন নবী কে উপস্থিত রেখে ছিলেন।

এবং রাসূল (সাঃ) এর সাথে একে একে দেখা করেন ইয়াহ ইয়া ও ঈসা (আঃ), ইউসুফ (আঃ) জাকে দেখে রাসূল (সাঃ) বলেছিলেন তাকে জেন সউন্দর্জের এক অর্ধেক দিয়ে দেয়া হয়েছিল।

ইদ্রিস (আঃ), হারুন (আঃ), মূসা (আঃ) এবং সব শেষে সপ্তম আসমানে পৌঁছে তার সাথে দেখা হল ইব্রাহিম (আঃ) এর সাথে। জিনি বাইতুল মামুর এর সাথে হেলান দিয়ে বসে ছিলেন। এবং ইব্রাহিম (আঃ) ও আদম (আঃ) এর মত রাসূল (সাঃ) কে বললেন, মারহাবান বিলিবনুস সলিহ ওয়া নাবিউস সলিহ। এই পর্ব থেকে আমরা কিছু গুরুতপুর্ন পয়েন্ট পাই এবং টা হলঃ

১। আখিরাতে নবী ও রাসুলদের স্থান উচ্চতর স্থানে।

২।  রাসূল (সাঃ) কে স্বাগত জানানোর জন্য আল্লাহ তায়ালা এক একজন নবী কে এক এক আসমানে পাঠিয়েছেন মাত্র।

আমরা জেন কেউ মনে না করে যে, আদম (আঃ) এর অবস্থান ঈসা (আঃ) এর নিচে।

ঈসা (আঃ) এর অবস্থান ইউসুফ (আঃ) এর নিচে।

নাউজুবিল্লাহ।

আল্লাহ আমাদের আখিরাতে নাবী রাসুলদের জান্নাতের উচ্চতর স্থানে থাকার তৌফিক দান করুন।

২য় তো রাসূল (সাঃ) তার জীবনের সবচাইতে কষ্টকর অধ্যায় পার করার পর এই যাত্রায় এমন সব নিবীদের সাক্ষাত পেলেন জাদের সাথে সাক্ষাতের সাথেই জেন আল্লার হাবীব রাসুল (সাঃ) কে কিছু শিক্ষা দিচ্ছিলেন। প্রথমে তিনি দেখা করলেন আদম (আঃ) এর সাথে জাকে সৃষ্টি করা হয়েছিল জান্নাতে বাস করার জন্য। কিন্তু তাকে জান্নাত ছেড়ে চলে জেতে হয়। কিন্তু সেই প্রস্থান চীরস্থায়ী ছিলনা।

তিনি আবার ও জান্নাতে ফিরে গিয়েছিলেন। তেমনি ভাবে ঈসা (আঃ) ও ইয়াহ ইয়া (আঃ) কে তাদের নিজেদের লোকেরাই হত্যা করার চেষ্টা করেছিল।

একি ভাবে ইউসুফ আঃ ছিলেন তাকে তার আপন ভাইয়ে রাই হত্যা করার চেষ্টা করে ছিল।

একে একে নবী করিম (সাঃ) এমন সব নবীদের সাথে সাক্ষাত করলেন। জারা প্রত্যেকেই কোন না কোন বড় পরীক্ষার মধ্য দিয়েই গিয়েছিলেন।

এবং তাদের জীবনি থেকে রাসুল (সাঃ) জেন শান্তনা পেলেন, অনুপ্রেরণা পেলেন।

জীবনের পরীক্ষা গুলো জতই বড় হোক না কেন সগুলো কেটে যাবেই। ভাল দিন আসবেই।

এবং ভবিশ্যতে যখন রাসূল (সাঃ) কে মক্কা ছাড়তে হল। তিনি যখন মদিনা তে থেকে ইসলাম প্রচার করলেন, অবশেষে তিনি যখন বিজয়ী হয়ে মক্কায় ফিরলেন।

এবং মক্কায় ফিরে যারা তাদের উপর অত্যাচার করেছিল তাদের কি বললেন। তিনি সেই কথাগুলোই বললেন যা বহু জুগ আগে ইউসুফ (আঃ) তার ভাইদের বলেছিল।

যখন তারা তার কাছে ক্ষমা চেয়ে ইসলামে ফিরে আসতে চেয়েছিল।

আজকে তোমাদের উপর কোন পাপ নেই, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন। রাসুল সাঃ এর এই বিশয়কর যাত্রায় তার আরো অনেক অবিশ্বাসকর অভিজ্ঞতা হল সেই ঘটনা গুলো আগামি পর্বে বলা হবে ইন শা আল্লাহ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here