মে’রাজ ও ইসরা ৪র্থ পর্ব – Meraj episode 4

এবং জিবরাঈল (আঃ) আকারে এতো বড় ছিলেন যে তার শরীর দিয়ে গোটা প্রান্তর ঢেকে যায়। এবং তার আছে ৬০০ টি ডানা। জেই ডানার পালক থেকে অনবরত মনি মুক্তা ঝরতে থাকে। এবং আল্লার এই পবিত্র প্রকান্ড সম্মানিত সৃষ্টি আকারে জিনি হয়তো মহাকাশের গ্রহ গুল থেকেও বড় শক্তি এবং ক্ষমতার দিক থেকে। জার সাথে তুলনা করা যায় আল্লার এমন বান্দা খুজে পাওয়া দূষকর।

আল্লার এই মহান সৃষ্টির দিকে রাসুল (সাঃ) একটি আশ্চর্য দ্রিশ্য দেখতে পেলেন।

সিদ্রাতুল মুন্তাহা তে পোউছানোর কারনে তারা আল্লার এতটা কাছে চলে এলেন যে, এই উচ্চতায় এসে জিবরাঈল (আঃ) আল্লার মাহাত্ত আর বরত্ত তার অসীম ক্ষমতা তার অকল্পনীয় কুদরত তার সীমাহিন রহমত সব কিছু জেন নতুন ভাবে উপলব্ধি করতে পারলেন। এবং এই উপলব্ধির কারনে আল্লার এতো মহান একটি সৃষ্টি হলেও তিনি এতো টা অসহায় ভাবে পরে রইলেন যে, তাকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি একটি ফেলে রাখা ভেজা নেকরার মত।

এবং এটা কোন ভাবেই তাকে ছোট করে দেখার জন্য নয়। বরং তার অন্তরে আল্লার মাহাত্তের উপলব্ধি এতোটা প্রবল ছিল যে, সিদ্রাতুল মুন্তাহা পর্জন্ত এসে তার এই পরিস্থিতি হয়েছিল। ভেবে দেখুন এই আল্লার সামনেই আমরা প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজে দাড়াই।

এবং নামাজে দাঁড়িয়ে কত কথা ভাবি, কত অন্য মনস্ক হয়ে সালাত আদায় করি।

তাও আমাদের রব আমাদের উপর রাগ করেন না। বরং আমাদের গাফেলতি গুলো সারাক্ষণ ক্ষমা করতে থাকেন।

ইন্নাল্লাহা আর হামুর রাহিমিন।

জিবরাঈল (আঃ) কে সেই অবস্থায় রেখে এরপর মুহাম্মাদ (সাঃ) সিদ্রাতুল মুন্তাহা থেকেও উপরে উঠতে লাগলেন।

এবং তিনি পৌঁছে গেলেন এমন উচ্চতায় যেখানে আমাদের জানামতে আল্লার আর কোন সৃষ্টি পৌঁছায়নি।

এবং তিনি এতো টা নিকটে চলে গেলেন যে, তিনি আল্লার প্রথম সৃষ্টি কলমের লিখার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলেন।

এরপর তিনি আল্লার সাথে সরাসরি কথা বলেন, যদিও পরবর্তিতে যখন সাহাবীরা জানতে চেয়েছিলেন যে, রাসুল (সাঃ) আল্লাহ্‌ তায়ালা কে সরাসরি দেখেছিলেন কিনা এবং বলেছিলেন তিনি সুধুই আল্লার হিজাব কে দেখেছিলেন।

এবং আল্লার হিজাব ছিল নূরের তৈরি। তার মানে আল্লাহ্‌ কে সরাসরি দেখার সৌভাগ্য সুধু জান্নাতেই হবে।

আল্লাহ্‌ তায়ালা রাসুল (সাঃ) কে ৩ টি বিশেষ উপহার দিলেন।

১মত ফরজ নামাজ

২য়ত সূরা বাকারার শেষ ২ আয়াত।

৩য়ত তার উম্মতের জন্য একটি বিশেষ রহমত

জারাই আল্লার সাথে শিরক না করে মৃত্যুবরণ করবে তাদের বড় গুনাহ গুলো আল্লাহ্‌ ক্ষমা করে দিবেন।

এরপরি সে বিখ্যাত ঘটনা ঘটে যেখানে রাসুল (সাঃ) ৫০ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের আদেশ নিয়ে ফেরার সময় মূসা (আঃ) এর সাথে দেখা হয় এবং তিনি তাকে উপদেশ দেন আল্লার কাছে ফিরে গিয়ে অনুরোধ করতে জেন নামাজের এই আদেশ টি আল্লাহ্‌ কমিয়ে আনেন কারন ৫০ ওয়াক্ত নামাজ তার উম্মমতের জন্য অনেক কঠিন হয়ে পরবে।

তখন রাসুল (সাঃ) জিবরাঈল (আঃ) এর দিকে তাকালেন এবং তিনি ও ইশারা করে বললেন হ্যা, তার উচিৎ হবে আল্লার কাছে ফিরে গিয়ে এই অনুরোধ টুকু করা।

রাসুল (সাঃ) ফিরে গেলেন এবং ৫০ ওয়াক্ত নামাজ কে ৪০ ওয়াক্ত করা হল।

এরপর আবার ও মূসা (আঃ) তাকে ফিরে যাওয়ার উপদেশ দেন এভাবে করে নামাজ কমতে কমতে ৫ ওয়াক্তে নামিয়ে আনা হল।

এবার ও মূসা (আঃ) রাসুল (সাঃ) কে আগের মত ফিরে যাওয়ার উপদেশ দেন কিন্তু এবার রাসুল (সাঃ) নিজেই বললেন তার আবার ও ফিরে জেতে লজ্জা করছিল।

আল্লাহ্‌ তায়ালা তার উপর এতো টা অনুগ্রহ করেছেন তিনি কি করে বলবেন যে, ৫ ওয়াক্ত সালাত ও তার উম্মতের জন্য কষ্ট হয়ে পড়বে। এবং সেই মুহুর্তে এক্টী কন্ঠ বেজে উঠে এবং তা ছিল স্বয়ং আল্লাহ্‌ তায়ালার কন্ঠ।

এবং তিনি বলেন আমার ফরজ প্রতিষ্ঠিত হল। এবং আমি আমার বান্দাদের ইবাদাত সহজ করে দিলাম।

এবং যদিও সালাত ৫ টির এর প্রতিদান হবে ৫০ টির। এর অর্থ হল আল্লাহ্‌ তায়ালা রাসুল (সাঃ) এর অনুরোধে ফরজ নামাজ ৫০ ওয়াক্ত থেকে ৫ ওয়াক্তে নামিয়ে এনেছেন ঠিকি কিন্তু নামাজের পুরস্কার তিনি কমিয়ে দেন নি বরং নামাজের পুরস্কার ৫০ ওয়াক্তের সমানি থাকছে সুবহানাল্লাহ।

কিন্তু আল্লাহ্‌ এভাবে আমাদের কাছে নামজ ফরজ করলেন কেন? তিনি অতীত ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সবি জানেন। এর মানে তিনি তো আগে থেকেই জানতেন।

যে রাসুল (সাঃ) কে ৫০ ওয়াক্ত নামাজের আদেশ দেয়ার পর উনি কয়েক বার ফিরে এসে তার কাছে নামাজের আদেশ কমিয়ে আনার অনুরোধ করবেন। তাহলে তিনি সরাসরি ৫ ওয়াক্ত সালাতের সরাসরি আদেশ দিলেন না কেন?

আল্লাহ্‌ তায়ালা এভাবে আমাদের উপর নামাজ ফরজ করার মাধ্যমে আমাদের কে একটি অত্যান্ত গুরুত্তপুর্ন শিক্ষা দান করেছেন। আমাদের উপর যদি ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হত আমাদের প্রতি আধা ঘন্টা পরপর সালাত আদায় করতে হত।

অর্থাৎ আমরা সারাদিন ইবাদাত ছাড়া আর কিছুরি সময় পেতাম না।

এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি আমাদের সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্য হল আল্লার ইবাদাত করা।

ঠিক যেমন ফেরেশতারা ক্লান্তিহীন ভাবে তাদের ইবাদাত করতে থাকে। কিন্তু আমাদের দুর্বলতা মাথায় রেখে আল্লাহ্‌ আমাদের কাজ কে সহজ করে দিয়েছেন।

এবং পুরস্কার গুলো কে বহু গুনে বৃদ্ধি করে দিয়েছেন।

ইসরা ও মেরাজ সিরিজের শেষ পর্বে আমরা রাসুল (সাঃ) এর ফেরার জাত্রা ও ফেরার পরে তার এই অভিজ্ঞতা গুলো বর্ননা করার প্রতিক্রিয়ার ঘটনা গুল শুনব। এবং অবিস্মরণীয় এই ঘটনা থেকে কি কি শেখার আছে তা নিয়ে আলোচনা করব ইনশা আল্লাহ্‌।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here