রমাদানের প্রচলিত ভুল | রমজান ২০২০|Modern Islam

717
12 Shares

রমাদানের প্রচলিত ভুল

লিখেছেন শাইখ আহমাদ মুসা জিবরিল

بسم هللا الرمحن الرحمي

রমাদান আসলো বলে । ঠিকভাবে সিয়াম পালন করা এবং রমাদানের হক পালন করার জন্য রমাদানের ইলম অর্জনের গুরুত্ব অনেক।

রমাদানে আমাদের ভুলও কম হয় না। ছোটো ছোটো কিছু বিষয়ে আমরা প্রায়ই ভুল করে থাকি।

এমনই কিছু ভুল ও এর সংশোধন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হলো “Common Mistakes During Ramadan” এর বাংলা “রমাদানে প্রচলিত ভুল”

১, খাবারের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ দেয়া, যার ফলে মানুষ সাওম থেকে খাবার নিয়ে বেশি চিন্তা-ভাবনা শুরু করে।

এর ফলে ইফতারের পেছনে হাজার হাজার টাকা অপচয় করা হয় যদিও একজন মানুষের এত পরিমান খাবারের দরকার হয়না।

২, ফজরের সালাতের অনেক আগে সাহরী করা, কেউ কেউ তারাওয়িহ অথবা এশার সালাতের কয়েক ঘণ্টা পরেই সাহরি খেয়ে ফেলেন, এটা ঠিক নয়।

ফজরের সালাতের কাছাকাছি সময়ে সাহরী করা উচিত।

৩, রমাদানে সাওম রাখার জন্য মানুষ নিয়ত করে না, এটা ভুল। আর নিয়ত মনে মনে করলেই চলে; মুখে বলার দরকার নেই। নিয়াত রামাদানের শুরুতে একবার করলেই হয় প্রতিদিন করার দরকার নেই।

৪, যদি আপনি দেরিতে বুঝতে পারেন যে,সেহরি শেষ আর রমাদান শুরু হয়ে গেছে, তাহলে আপনার উচিত।

তখনই খাওয়া বন্ধ করে দিয়ে ওই দিন সাওম রাখা এবং পরবর্তীতে রমাদান ঈদের শেষে ওই সাওমের কাযা আদায় করে নেয়া।

৫, এমন অনেক লোক আছেন যারা মনে করেন, রামাদানের প্রথম রাতে তারাওয়িহ পড়তে হয় না।

তারা মনে করেন, যেদিন সাওম রাখা হয়, সেদিনের রাত থেকে তারাওয়িহ পড়তে হয়।

কিন্তু তারা ভুলে যান, আরবি মাসের হিসাব চাঁদের সাথে, মাগরিবের পর থেকেই নতুন দিন শুরু হয়।

৬, অনেক লোক মনে করেন,ভুলবশত কিছু খেয়ে ফেললে কিংবা পান করে ফেললে সাওম ভেঙ্গে যায়;

না এটা ভুল ধারণা। যদি ভুলবশত এমনটি হয়ে যায়।

তবে সাওম চালিয়ে যাওয়া উচিত এবং এর কাযা আদায় করতে হবে না।

৭, কিছু মানুষ এরকম দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন- কাউকে কিছু খেতে বা পান করতে দেখলে তাকে মনে করিয়ে দেয়া উচিত নয় যে সে সাওম অবস্থায় আছে।

শায়খ বিন বায (রহিমাহুল্লাহ) এর মতে এটা ভুল, কারণ আল্লাহ তাআলা আমাদের সৎকাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ নিষেধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

কাজেই আমরা তাকে বিরত থাকতে বলব, কারণ এভাবে আমরা অসৎ কাজে নিষেধ করছি।

৮, অনেক বোন মনে করেন, সাওম রাখা অবস্থায় তারা মেহেদি ব্যবহার করতে পারবেন না; এটাও ভুল। রমাদানেও তারা মেহেদি ব্যবহার করতে পারবেন।

রমাদানে প্রচলিত ভুল

৯, কিছু লোকের বিশ্বাস,সাওম অবস্থায় রান্নাবান্নার সময় মসলা বা ঘ্রান ঠিক আছে কিনা বোঝার জন্য স্বাদ চেখে দেখা যাবে না, এটা ভুল।

ইসলামে এরকম স্বাদ চেখে দেখা বৈধ, যদি না রাধুনী খাবার খেয়ে ফেলেন।

খাবারে আরও লবণ বা মসল লাগবে কিনা তা বোঝার জন্য স্বাদ চেখে দেখা যাবে।

১০, অনেকে মনে করেন, সাওম থাকাকালীন অবস্থায় মেসওয়াক বা টুথব্রাশ ব্যবহার করা যাবে না। এ ধারণাটি ভুল; কারণ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমাদানের সময় মেসওয়াক ব্যবহার করতেন। আপনি টুথপেস্টও ব্যবহার করতে পারেন।

এর যুক্তি হিসেবে আলেমগণ বলেছেন, মেসওয়াক এ ফ্লেভার থাকে, তাই টুথপেস্ট ব্যবহারেও বাধা নেই (যদি না আপনি তা খেয়ে ফেলেন)।

১১,কেউ কেউ ফজরের আজান তাড়াতাড়ি দিয়ে ফেলেন যাতে লোকেরা ফজরের আগে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয় ।

এবং তাদের সাওম যাতে অশুদ্ধ না হয়। এটা ভুল এবং এরকম করা অনুচিত।

১২, কিছু লোক মাগরিবের আজান দেরি করে দেন,

যাতে লোকেরা দেরিতে ইফতার শুরু করে। যদি মাগরিবের সময় তখনও না হয়ে থাকে ।

এই ভেবে তারা এমনটি করে থাকেন। এটাও ভুল এবং এরকম করাও আমাদের জন্য অনুচিত।

১৩, অনেক লোক মনে করেন,পুরো রমাদান মাসে কেউ তার সহধর্মিণীর সাথে সহবাস করতে পারবেন না। এরকম ধারণা ভুল।

আপনি কেবল সাওম থাকাকালীন অবস্থায় এমনটি করতে পারবেন না কিন্তু মাগরিব থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত আপনার জন্য তা বৈধ।

১৪, অনেক মহিলা বিশ্বাস করেন যে, যদি তাদের ঋতুস্রাব সবেমাত্র শেষ হয় আর তারা যদি গোসল না করেন,

তাহলে সাওম রাখতে পারবেন না।(এমন ভেবে যে,তাদের ঋতুস্রাব রাতে শেষ হলো আর তারা গোসল না করে ঘুমাতে গেলেন ।

এবং এমন সময় উঠলেন যখন আর গোসল করতে পারলেন না)। এটা ভুল ধারণা; যদি কোন মহিলা গোসল না করে থাকেন তবুও তিনি সাওম রাখতে পারবেন।

১৫, অনেক পুরুষ মনে করেন,স্ত্রীর সাথে সহবাস করার পর যদি তারা গোসল করতে না পারেন।

(উপরে অবস্থার মতো), তাহলে সকালে সাওম রাখতে পারবেন না; এটাও ভুল। গোসল না করে থাকলেও তিনি সাওম রাখতে পারবেন।

রমাদানে প্রচলিত ভুল

১৬, কেউ কেউ রমজানের সময় যোহর ও আসরের সালাত একসাথে পড়েন ।

(বিশেষ করে আরব দেশগুলোতে) এটা ঠিক নয়, এমনটি পরিহার করা উচিত।

১৭, কিছু মানুষ মনে করেন,মুয়াজ্জিন মাগরিবের আযান শেষ না করা পর্যন্ত ইফতার শুরু করা যাবে না; এটা সঠিক নয়।মোয়াজ্জিনের আজান শুরুর মুহুর্ত থেকেই ইফতার করা যাবে।

১৮, অনেকে ইফতারের আগে দোয়া করেন না।

অথচ এটি হলো সেই তিনটি বিশেষ সময়ের একটি সময় যে সময় গুলোতে আল্লাহ বান্দার দোয়া কবুল করেন।

১৯, অনেকে রমাদানের শেষ সময় রমাদান কে অবহেলা করে ঈদের প্রস্তুতির কাজে অহেতুক সময়ের অপচয় করেন; এটি ঠিক নয়। আসলে ওই লোকেরা রমাদানের প্রকৃত ধারণাই খুইয়ে বসেছে।

২০, অনেক পিতামাতা তাদের বাচ্চাদের সাওম রাখা থেকে বিরত রাখেন; এটি বাচ্চাদের জন্য ভালো নয়।ছোটবেলা থেকেই সাওম রাখার অভ্যাস গড়ে তুললে সে বুঝতে শিখবে যে বিষয়টি পালন তাকে করতেই হবে।

২১, অনেক লোক মনে করেন, রমাদানের মানে কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকা। তারা নিজেদের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে ভুলেলে যান।

এবং নিজ জিব্বা কে সংযত রাখার ধার ধারেন না; অথচ রমাদানে আমাদের মেজাজ আর জিব্বাকে আরো বেশি সংযত রাখার কথা ছিল।

২২, লোকেরা প্রায়ই রমাদানের মূল্যবান সময়কে অহেতুক অপচয় করেন। সাওম রেখে তারা ঘুমিয়ে থাকেন, কোন আমল করেন না।

বেশি বেশি নফল ইবাদত করার মাধ্যমে আমাদের উচিত এই মহামান্বিত মাসের পরিপূর্ণ ব্যবহার করা।

২৩, কিছু লোক রমাদানের সময় সফর করেন না। তারা মনে করেন, ভ্রমণ করলে তাদেরকে সাওম ভাঙতে হবে।

এটি আসলে ইচ্ছাদিন বিষয়। আপনি যদি ভ্রমণের সময় সাওম রাখতে না চান তাহলে তা ভাঙতে পারবেন।

(পরে এর কাযা আদায় করতে হবে) আর আপনি যদি সাওম ভাঙতে না চান, তাহলে সেটাও করতে পারেন।

২৪, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অনেক লোক মসজিদে এতেকাফ করেন না। আমাদের নিজেদের সুস্বাস্থ্যের ফায়দা উঠানো দরকার।

এবং মসজিদে বেশি সময় পার করা উচিত বিশেষ করে রমজানের শেষের দশদিনে।

রমাদানে প্রচলিত ভুল

২৫, কিছু লোক মনে করেন, রমাদান মাসে চুল বা নখ কাটা যাবে না; এটাও ভুল ধারণা।

২৬, কিছু লোককে বলতে শোনা যায়, রামাদানের সময় নিজের থুথু গেলা যাবে না; এটা ভুল ধারণা। তবে মুখে আসা শ্লেষ্মা গেলা উচিত নয়।

২৭, কিছু লোককে বলতে দেখা যায়, রমাদানের সময় সুগন্ধি, তেল বা আতর ব্যবহার করা যাবে না; এটাও ভুল ধারণা।

২৮, কিছু লোক মনে করেন, রক্তপাত সাওমকে ভেঙ্গে ফেলে; এটি ঠিক নয়।

২৯, কিছু মানুষ মনে করেন যে, অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে ও সাওম ভেঙে যায়; এটা ঠিক নয়। তবে আপনি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে তা করেন তাহলে সাওম ভেঙ্গে যাবে।

৩০, কিছু লোক মনে করেন, রমাদানে ওযুর সময় মুখ কিংবা নাকে পানি নেওয়া যাবে না; এটাও ঠিক নয়


FAQ’s About the Facts of Ramadan – রমজান সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

ফজরের সালাতের অনেক আগে সাহরী করা, কেউ কেউ তারাওয়িহ অথবা এশার সালাতের কয়েক ঘণ্টা পরেই সাহরি খেয়ে ফেলেন, এটা ঠিক নয়। ফজরের সালাতের কাছাকাছি সময়ে সাহরী করা উচিত।

রমাদানে সাওম রাখার জন্য মানুষ নিয়ত করে না, এটা ভুল। আর নিয়ত মনে মনে করলেই চলে; মুখে বলার দরকার নেই। নিয়াত রামাদানের শুরুতে একবার করলেই হয় প্রতিদিন করার দরকার নেই।

অনেক লোক মনে করেন,ভুলবশত কিছু খেয়ে ফেললে কিংবা পান করে ফেললে সাওম ভেঙ্গে যায়; না এটা ভুল ধারণা। যদি ভুলবশত এমনটি হয়ে যায়, তবে সাওম চালিয়ে যাওয়া উচিত এবং এর কাযা আদায় করতে হবে না।

অনেকে মনে করেন, সাওম থাকাকালীন অবস্থায় মেসওয়াক বা টুথব্রাশ ব্যবহার করা যাবে না। এ ধারণাটি ভুল; কারণ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমাদানের সময় মেসওয়াক ব্যবহার করতেন। আপনি টুথপেস্টও ব্যবহার করতে পারেন। এর যুক্তি হিসেবে আলেমগণ বলেছেন, মেসওয়াক এ ফ্লেভার থাকে, তাই টুথপেস্ট ব্যবহারেও বাধা নেই (যদি না আপনি তা খেয়ে ফেলেন)।

অনেক লোক মনে করেন, পুরো রমাদান মাসে কেউ তার সহধর্মিণীর সাথে সহবাস করতে পারবেন না। এরকম ধারণা ভুল।আপনি কেবল সাওম থাকাকালীন অবস্থায় এমনটি করতে পারবেন না কিন্তু মাগরিব থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত আপনার জন্য তা বৈধ।

অনেক পুরুষ মনে করেন,স্ত্রীর সাথে সহবাস করার পর যদি তারা গোসল করতে না পারেন (উপরে অবস্থার মতো), তাহলে সকালে সাওম রাখতে পারবেন না; এটাও ভুল। গোসল না করে থাকলেও তিনি সাওম রাখতে পারবেন।