রামাদান কি তোমাদের হৃদয় কে জাগাতে পারে?

রমাদান মাস হচ্ছে একটি পবিত্র মাস তা আমরা সকলেই জানি। আমার একটি প্রশ্ন আছে আপনাদের কাছে, আপনাদের হৃদয় কি স্পর্শ করে এই মাসের আধ্যাত্মিকতা? এবং এই মুহূর্তের, যা অতি মহিমান্বিত ও অতি মহান। নাকি এটি একটি সাধারণ মাসের সাধারণ দিন মনে হচ্ছে?

আমার মনে হয় যারা আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়াতা আলা কে বিশ্বাস করে তাদের জন্য এই রোজার মাস একটি চমৎকার সময় যখন মানুষের মন নরম হয়। আর আমাদের উচিৎ এই মাসে আল্লাহ্‌ তায়ালার নিকট আমাদের গুনাহ গুলো কে মাফ করানো। কেননা এরকম সুযোগ হয়তো আমাদের জীবনে আর না ও আসতে পারে।

একবার রাসুল (সাঃ) মিম্বারে উঠলেন যেখানে তিনি খুৎবা দিতেন। এবং সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি ৩ বার আমিন, আমিন বললেন। যখন তাকে জিজ্ঞেসা করা হল আপনি কেন ৩ বার আমিন বললেন? তিনি বললেন, জিবরাঈল (আঃ) এসে দুয়া করেছেন আর আমি তার দোয়ার জন্য আমিন আমিন বলেছি।

সেই দোয়া গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে, ধ্বংস হোক সেই লোকেরা যারা রমজানের মত একটি পবিত্র উপহার পেল কিন্তু সে তার গুনাহ ক্ষমা করাতে পারল না। যার অর্থ হল, এটা মাগফিরাতের মৌসুম চলছে। ধরে নিন এই পবিত্র মাসে আল্লাহ্‌ তায়ালা আপনাকে একটি অফার দিচ্ছে

যেই পন্য টি একটি সময় বাজারে খুব চড়া দাম ছিল সেটিকে সেটিকে ১০ ভাগের এক ভাগ দামে ছেড়ে দিচ্ছে। আর এটি কিনতে কোন অর্থ লাগেনা। লাগে শুধু ইবাদাত ও দোয়া, যার মাধ্যমে আল্লাহ্‌ গুনাহ ও মাফ করবেন এবং আপনার দোয়া ও কবুল করবেন। এক্টির সাথে আরেকটি ফ্রি দিচ্ছে। এরপর ও যদি আমরা তা না নিতে পারি তবে আমাদের মত অধম জাতী আর এই পৃথিবীতে থাকবে বলে মনে হয়না।

তাই সম্মানিত শ্রোতাদের উদ্দেশ্য করে বলছি আমরা যেন এই পবিত্র রোজার মাসে আমাদের সকল ভুলের জন্য আল্লার কাছে ক্ষমা চাই।

আমরা মানুষ তাই আমাদের ভিতর আল্লাহ্‌ তায়ালা “নাফস” নামক একটি বস্তু দিয়ে রেখেছেন। এটি হচ্ছে ২ রকম একটি খারাপ নাফস আরেকটি ভাল নাফস। কিন্তু আফসোসের সাথে জানানো যাচ্ছে যে, আমরা আমাদের খারাপ নাফস এর কথায় অনেক বেশি উঠা নামা করি। তাই এই খারাপ নাফস এর কথা মানতে গিয়ে আমরা বেশির ভাগ সময় ছোট গুনাহ করতে গিয়ে বড় গুনাহ করে ফেলি। যাকে ইসলামের ভাষায় বলা হয়ে থাকে কবিরা গুনাহ। আর এই গুনাহ গুলো কে মাফ করানোর জন্য আমাদের নিদ্রিশট একটি মাধ্যম প্রয়োজন। আর সেই মাধ্যমটির নাম হচ্ছে তাওবা। আর আমরা সর্বদা ছোট গুনাহ ও করতে থাকি যার নাম হচ্ছে সগিরাহ গুনাহ। এর জন্য ও আল্লার কাছে আমাদের ক্ষমা চাইতে হবে।

আর এই পবিত্র রমজান হচ্ছে আমন একটি পাইকারি মাগফিরাতের মৌসুম যেখানে পাইকারি তে আল্লাহ্‌ তায়ালা নেক আমল সেল করেন ও ফ্রি তে মাগফিরাত দিয়ে দেন। এমন কি হেরে যাওয়া মানুষ গুলো কে ও আল্লাহ্‌ তায়ালা এই মাসে সব দিয়ে দেন। এরপর ও যারা মাগফিরাত নিতে পারেন তাদের মত হত ভাগা আর কেউ নেই।

সম্মানিত দর্শকবৃন্দ এই মাসে সফল ব্যক্তি সেই যে মহান আল্লাহ্‌ তায়ালার কাছে নিজের গুনাহ কে মাফ করিয়ে দোয়ার মাধ্যমে ভাগ্য কে পরিবর্তন করাএ পারে।

হজরত আয়েশা (রাঃ) যখন শেষের ১০ টি রোজায় পোউছাল, তিনি মুহাম্মাদ (সাঃ) কে একটি প্রশ্ন করলেনঃ আমার কি করা উচিৎ যদি আমি লাইলাতুল কদরের মত পবিত্র একটি রাত পাই?

তিনি বললেন, “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুও্বুন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি” অর্থাৎ।

হে আল্লাহ্‌ আপনি ক্ষমা করতে ভালবাসেন, আপনি ক্ষমাশীল। সুতারাং আমাকে ক্ষমা করুন।

এরপর আমাদের একটি মিনতিও যদি কবুল হয়, আমরা নিশ্চয় তাদের ভিতর একজন হব, যারা এই রমজানে সফলতা অর্জন করেছে।

সম্মানিত দর্শকবৃন্দদের বলছি, কুরআন আমাদের কে বলেছে যে, কিভাবে এই মাস টিকে আমাদের জন্য নির্ধারন করা হয়েছে। যাতে আমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারি। “ইয়া আইইউ হাল্লাজিনা আমানু কুতিবা আলাইকুমুস সিয়ামু কামা কুতিবা আলাল্লাজিনা মিন কব্লিকুম লাআল্লাকুম তাত্তাকুন”

অর্থাৎ, হে ইমানদারগণ! সিয়াম তোমাদের জন্য নির্ধারন করা হয়েছে, যেভাবে তোমাদের পুর্ববতীদের উপর নির্ধারন করা হয়েছিল। কারন তোমরা যাতে তাকওয়া অর্জন করতে পা

সম্মানিত দর্শকবৃন্দ চলুন আমরা এই পবিত্র মাসে তাকওয়া ও ক্ষমা অর্জন করি।

সত্য হচ্ছে এটিই কারই কোন গেরেন্টি নেই যে, সে কি আরেকটি রোজা পাবে কিনা।

এটাই হতে পারে আপনার জীবনের সর্ব শেষ রোজা যা আপনি পাবেন।

কেউ এটির ও গ্যারান্টি দিতে পারবেনা যে, সে এই মাসের শেষ টুকু অন্তত দেখতে পাবে।

তাই সর্বদা আল্লার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন। হে আল্লাহ্‌ আমাদের ক্ষমা করুন।

আমারা এটা ও জানিনা যে আমরা এই সপ্তাহ টা পাব কিনা, এমন কি আজকের দিন টা পাব কিনা তার ও কোন ভরশা নেই। না আমাদের এই টুকু গ্যারান্টি আছে যে, এখন মসজিদে ঢুকলাম বের হতে পারব কিনা।

অতএব যত দ্রুত সম্ভব আল্লার সাথে হিসাব মিলিয়ে নিন। যত দ্রুত সম্ভব আল্লার থেকে ক্ষমা নেয়াই আমাদের জন্য বাঞ্ছনীয়।

আল্লাহ্‌ যেন আমাকে সেই দিন আশির্বাদ করেন যেদিন তিনি আমাকে নিয়ে যাবেন তার কাছে। এবং আমরা দোয়া করছি তিনি যাতে আপনাদের ও আশির্বাদ করেন যেদিন তিনি আপনাদের কাউকে নিয়ে যাবেন।

কিন্তু সত্য হচ্ছে আমরা জানিনা আমরা কবে যাচ্ছে। সুতারাং এটা হচ্ছে আল্লার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পুরষ্কার স্বরূপ। কারন তিনি আমাদের কে অনেক ভালবাসেন।

তিনি আমাদের ভালবাসেন বিধায় তিনি প্রতিটি দিন আমাদের জন্য একি রকম করেন নি। কোন টি দিয়েছেন কশটের আবার কষ্টের পর দিয়েছেন সুখ। নয় তো নিজের জীবন টাকে আমরা উপভোগ করতে পারতাম না।

 

আপ্নারা কি এটি বিশ্বাস করেন না যে রোজার মাসে যে, আমাদের মন নরম হয়ে যায়?

একটু ভেবে দেখুন তো

আমরা কিন্তু বেশি বেশি দান খায়রাত করি এই মাসে অন্য মাস গুলোর তুলনায়। আমরা বলছিনা যে আমরা অন্য মাসে এক দমি করিনা।

কিন্তু এর দ্বারা এটাই বুঝা যায় যে, এটি হচ্ছে আমাদের হৃদয়ের একটি অবস্থা যা আল্লাহ্‌ তায়ালা এই পবিত্র রোজার মাসে আমাদের উপহার দিয়েছেন। এই সমস্ত কথা বার্তা বলে কোন লাভ নেই যে, যে অমুক ইমামাএর কুরআনের তিলাওয়াত দারুন। আমরা সর্বদা অমুকের লেকচার শুনি কিন্তু নিজেকে বদলাই না। একের পর এক ভাল ভাল লেকচার শুনে লাভ কি যদি আমরা নিজেদের পরিবর্তন করতে না পারি?

এই মাসে আল্লাহ্‌ তায়ালা আমাদের সামনে এতো সুন্দর একটি ব্যাবসায়িক চুক্তি রেখেছেন। অথচ আমরা এটা তে অংশগ্রহন ও করছিনা ও তার থেকে যে মুনাফা আসবে তাও নিচ্ছিনা।

সম্মানিত দর্শকবৃন্দ এখন এটা আপনাদের উপর নির্ভর করছে যে, কবে থেকে আপ্নারা আল্লার সাথে লেন্দেন শুরু করবেন।

তাই আসুন আমরা আজ থেকে নিজেদের জীবন কে বদলাতে শুরু করি।

স্বপ্ন মূলত কি? এটা কখন কেন এবং কার থেকে আসে? এটি কত প্রকার? এটি আমাদের সবার কাছেই একটি আগুনের মত প্রশ্ন। তাই আমরা এবার এই স্বপ্ন সম্পর্কিত সর্ব মোট ২ টি পর্বের ধারাবাহিক আয়োজন করছি, যেখানে সপম্পুর্ন কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তাই সঠিক ও রহস্য জনক বিষয় গুলো জানতে পুরো পর্ব জুড়ে আমাদের সাথে থাকুন। ইনশা আল্লাহ্‌ স্বপ্ন নিয়ে আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও ধারণা বদলে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here