রাসুল সাঃ দেখতে কেমন ছিলেন | Prophet Muhammad SM | ModernIslam

668

রাসুল সাঃ দেখতে কেমন ছিলেন

“রাবেক” আপনি সাধারণত যে রাস্তায় যান এটি সে রাস্তা নয় এটি একটি পুরানো রাস্তা। আর তখন সেই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সকলে ক্ষুদা অনুভব করে।

তারা একটি তাবু দেখলেন। সেখানে ছিলেন আবু বকর রাঃ এবং তার গোলাম আমির ইবনে ফাহেরা রাঃ ও তাদের গাইড আবদুল্লাহ ইবনে ওরাইকাত [ যিনি মুসলমান ছিল না তখনও পর্যন্ত সে কাফের ছিল] এবং আমাদের প্রিয় নবী রাসুলুল্লাহ সাঃ ।

তাবুতে গিয়ে দেখলেন একজন বুড়ি মা সেখানে বসে আছে। তাকে বললেন মা কিছু খাবার পাওয়া যাবে? সে বুড়ি মা বললেন, বাবা অভাবের সময় কোনো খাবার তো নেই। তবে সেখানে রুগ্ন ও দুর্বল একটি বকরি দাঁড়িয়ে ছিল।

নবী করিম সাঃ বললেন, আমরা কি এই বকরি থেকে দুধ দুয়ে নিতে পারি?

বুড়ি মা বলল, এই বকরির শরীরে কোনো গোস্তই নেই তাহলে দুধ আসবে কিভাবে ?

রাসুলুল্লাহ সাঃ বললেন, মা আপনি শুধু অনুমতি দেন বাকি কাজ আমার উপর ছেড়ে দিন।।
বুড়ি মা বলল, আচ্ছা ঠিক আছে নিয়ে নাও। যে কাজটি হওয়া সম্ভব নয় রাসুল সাঃ কে তা করতে দেখে বুড়ি মা অবাক হয়ে তা দেখতে লাগল।

নবীজি বকরিটিকে ধরে কাছে আনলেন। এবং বকরিটির স্তনে হাত দিল তখনি স্তন নিচে চলে আসলো। আর বকরিটির স্তন থেকে দুধ বের হতে লাগল। সাধারণত কোন বকরি থেকে এক পোয়া দুধ পাওয়া যেত।

বুড়ি মা বলল আমরা গ্রামে থাকি আমাদের গ্রামে চারদিকেই অনেক বকরি দেখতে পাওয়া যায়। সেগুলো থেকে এক পোয়ার বেশি দুধ দোয়ানো যায় না। আর আপনি পুরো হাড়ি ভরে দিলেন।

তারপর রাসুল সঃ বুড়ি মার কাছে গিয়ে উপস্থিত হলেন, বুড়ি মার নাম ছিল উম্মে মা’আবাদ। রাসূলুল্লাহ সাঃ বুড়ি মাকে দুধ পান করালেন,এবং তার তিনজন সাথীকেও দুধ পান করালেন তারপর নিজে পান করলেন।

রাসূল সাঃ

এরপর রাসুল সাঃ আবারো সেই বকরি থেকে হাঁড়ী ভরে দুধ দোয়ালেন। তা দেখে বুড়ি মা আরও চিন্তিত হয়ে গেল। ভাবলেন কিভাবে এই রুগ্ন ও দুর্বল বকরি থেকে এতো দুধ পাওয়া সম্ভব। বুড়ি মা বিস্মিত হয়ে গেল।

সাধারণত একটি বকরী বা ছাগলের গড় আয়ু ৭ বছর থাকে। আমাদের দৃষ্টিতে সাত বয়সে বকরিটির মরে যাওয়ার কথা।

আল্লাহ সুবহানা তাআলার প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ সাঃ কুদরাতি হাতের স্পর্শের বরকতে বকরিটি ২২ বছর বেঁচে ছিল সুবহানাল্লাহ।

আর সে বকরিটিকে জবাই করা হয়নি, সে মারা গেছে। হযরত উসমান রাঃ এর সময় কালে গিয়ে বকরিটি মারা গেছে।

বুড়ি মার স্বামী সন্ধায় যখন সে তাবুতে আসে । সে দেখে হাঁড়ীতে দুধ ।

উনি বলে দুধ কোথা থেকে এলো?

বুড়ি মা বলল, দুধ ঐ বকরি থেকে এসেছে।
তার স্বামী বলল, তোমার মাথা কি খারাপ হয়ে গেছে। এই রোগা দুর্বল বকরি থেকে এত দুধ বের হল।

রাসূল সাঃ

এই বকরির শরীরে তো গোস্ত নেই দুধ আসলো কিভাবে?
তখন বুড়িমা বলল, আজ এক বরকতময় যুবক এসেছিল। তার হাতেই এমন বরকত।

তার স্বামী বলল, সে যুবক কেমন ছিল আমাকে তার বর্ণনা দাও।
বুড়ি মা তখন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর চমৎকার বর্ণনা করলেন-

*রাইতু রাজুলান
*ফা..হিরল ওয়াদ..’তা
*আব্লাজাল ওয়াজ
*হাসানাল খাল্ক

*লান তা’ইব ওয়া ফাজালা
*লাম তঝ রি বিহি সা’লা
*আঝাজ্জু আক্রান
*ওয়াসি..মুন কসিম

*ফি আইনাই হি দা’আজ
*ফি সওতিহি সাহাদ
*ফি লিহ্ ইয়াতিহি কাফাফাহ
*ফি উনুকিহি সাত’আ

*ইন তাকাল্লাম আ’লা হুল বাহা
*ওয়া ইন সাকাতা আলহুল ওয়াকার
*ফাও ওয়া আন্দারুস সালাতাহ

সে কি অপরূপ সৌন্দযের অধিকারী ছিল সে যুবক!
সেই বুড়ি মা আমাদের প্রিয় নবীর অপরূপ সৌন্দয্যের বর্ণনা উপস্থাপন করলেন।
সে বলল, আমি এমন আশ্চর্য এক যুবকে দেখেছি।

রাসূল সাঃ

আমার কাছে মনে হয়েছে, যেন পূর্ণিমার চাঁদ সুন্দর সুসজ্জিত পোশাকে পৃথিবীতে নেমে এসেছে।

পূর্ণিমার চাঁদ যেন নিজ ইচ্ছায় পৃথিবীতে নেমে এসেছে।
*পূর্ণিমার চাঁদের নুর চমকানো তার চেহারা

অপরূপ তার শারিরিক গঠনে।
*তার পেট বেশি বড় ছিল না।
*তার মাথায় চুলগুলো উশকো খুশকো ছিলনা, বরং অসাধারণ ছিল
*মাথা থেকে পা পর্যন্ত নুরের আলো ঝলমল করছিল।

*যে দিক থেকেই দেখি তার অপরূপ সৌন্দর্য চোখে পড়ে।
কাশীম! এর মানে হচ্ছে যত দেখি ততই দেখার ইচ্ছা জাগে।
ওয়াসিম! পৃথিবীতে অনেক সুন্দর সৃষ্টি আসবে যাবে । কিন্তু পৃথিবীতে ওয়াসিম আর কাসিম একসাথে একবারই এসেছে সেই যুবকের মাঝে। এর আগে বা পরে কারো মাঝে কখনো

ওয়াসিম এবং কাশিম একসাথে আসবে না।
ইউসুফ আঃ পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ব্যক্তি ছিলেন কিন্তু ওয়াসিম আর কাসিম শুধু একজনের মাঝেই ছিল ।

সে আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাঃ । যাকে একবার দেখলে বার বার দেখতে ইচ্ছে করে এটাকেই ওয়াসিম বলা হয়।
চোখের পলক পড়তে চায় না। নিস্পলক তাকিয়ে থাকতে মন চায়। তার চেহারার নুরের ঝলকানি দুচোখ জুড়িয়ে যায়। তাকে একবার দেখলে মন তৃপ্ত হয় না বারবার দেখতে ইচ্ছে জাগে মনে।

রাসূল সাঃ

পৃথিবীর সুন্দর কিছু সৃষ্টি একবার দেখলে খুব ভালো লাগে। দ্বিতীয় বার দেখলে একটু কম ভালো লাগাটা একটু কমে যায়। তৃতীয় আরও কম। শেষবার তো আপনারা বলেন অনেক হয়েছে আর না।

কিন্তু আমাদের পেয়ারে নবী করিম সাঃ নুরানি মুখখানি সারা জীবন ধরে দেখলেও আমাদের অন্তর এতোটুকুও তৃপ্ত হয় না শুধু দেখার ইচ্ছাই জাগে।
যাকে সারা জীবন দেখলেও মন ভরে না তাকে ওয়াসিম বলে।

কাসিম হচ্ছে তাকে যেদিক থেকেই দেখা হোক না কেন তার অপরূপ সৌন্দর্য ফুটে উঠে।
সে যুবকটির মাথা থেকে পা পর্যন্ত , মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত সবকিছু অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর। এটাকেই বলা হয় কাসিম।

বুড়ি মা বলল, আমি সেই পূর্ণিমার চাঁদের মতো মানুষটির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে পারি।

সে রাসূলুল্লাহ সাঃ কে নিয়ে কি বর্ণনা টাই না করল। সে বলতে লাগল, মানুষটিকে দেখে মনে হয় যেন পূর্ণিমার চাঁদ রাজকীয় পোশাক পরে মাটিতে নেমে এসেছে।
তার কাছে মনে হয়, পূর্ণিমার উজ্জ্বল চাঁদ যেন জমিন থেকেই উদিত হয়েছে। মানুষটিকে যেভাবেই দেখি শুধু সৌন্দর্য আর সৌন্দর্য চোখে পড়ে। আর যতই দেখি দেখার সখ মিটে না।

রাসূল সাঃ

বুড়িমা বলল, আমি যেই মানুষটি দেখেছি তার চোখগুলো অদ্ভুদ সুন্দর ছিল।

আমরা একটি হাদিস থেকে জানতে পারি, আমাদের চোখে ৭টি বিশেষ গুনাগুন রয়েছে। যেমন, আদ’আয, আশকাল, আক’হাল, আহ’ওয়ার, আহ’দাব, আনজাম, এবং আবরাজ এ সাতটি বিশেষ গুনাগুন। আর এই সাত বিশেষ গুনাগুনের একটাই অর্থ।

আল্লাহ সুবহানা তাআলা এই পৃথিবীর এমন মায়াবি জাদুময় সুন্দর চোখ কাউকে দেন নি। তিনি এমন দৃষ্টি নন্দন মায়াবি চোখ শুধু মাত্র তার হাবির রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে দিয়েছিলেন।

তার চোখগুলো ছিল মোটা, লম্বা, অপলক সুন্দর, তীক্ষ্ণ, স্বচ্ছ সাদা। তার ভ্রুদ্বয় লম্বা, বক্র, সরু ও ঘন ছিল। চোখের পাপড়ি অতুলনীয় সুন্দর ছিল, যা সুরমা থেকেও অসাধারণ ছিল। চমৎকার সুন্দর নূরের আলোর মত ঝলমল করছিল চোখ ।

তার চোখে চোখ রেখে কেউ কখনো কথা বলতে পারতো না। তার চোখের দিকে তাকালে কেউ তাকে সহ্য করতে পারতো না। নূরের আলোর চাইতেও বেশি উজ্জ্বল ছিল তার চোখ।

তিনি সব সময় নিচে দিকে তাকিয়ে কথা বলত। কখনো কখনো চোখ উঠাত ।
আমাদের প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ সাঃ অনেক লাজুক ছিলেন। তিনি পুরুষদের দিকে ঠিক মত তাকাতেন না। এতোটাই লাজুক ছিলেন তিনি

মহিলা তো অনেক দুরের কথা লজ্জার কারণে পুরুষদের দিকেও কখনো চোখ ভঁরে তাকাতেন না।

কখনো কখনো সে যখন তার চোখ উঠাত সকল সাহাবীরা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতো। কারন সহ্য করতে পারতেন না, আপনার মায়া ভরা চোখের চাহুনি।

কেবল মাত্র দুজন ব্যক্তি তা সহ্য করতে পারতেন, তাদের একজন হলো আবু বকর রাঃ আর অন্যজন উমর রাঃ । কেবল মাত্র রাসুল সাঃ চোখ এরা দুজনই সহ্য করতে পারতো, বাকি সব সাহাবীরা সহ্য করতে পারতেন না।

রাসূল সাঃ

সেই বুড়ি মা বলতে লাগল, এতো অপরূপ সুন্দর চোখ ছিল তার। লম্বা গোল গোল। ঠিক যেন ধনুকের মতো।
কথার মধ্যে কেমন জানি এক মায়াবি জাদু মিশে আছে।

তার কথায় আকর্ষণ আছে, ছন্দ আছে, সুর মিশে আছে। তার কণ্ঠে এক বিশেষ গুণ রয়েছে।

কারো কারো কণ্ঠে ছন্দ থাকে সুর থাকে না আবার সুর থাকে ছন্দ থাকে না।
কিন্তু আমাদের নবী করিম সাঃ এর কণ্ঠে সুরও ছিল ছন্দও ছিল।
তার কণ্ঠে অনেক আকর্ষণও যাদুও ছিল। যখন তিনি কথা বলতেন সকলে মুগ্ধ হয়ে শুনত।

তার কণ্ঠ এত শ্রুতি মধুর ছিল যে তার মুখে বলা প্রতিটি কথাকে আলাদা আলাদা শব্দে ভাগ করা যেত।
জীবনে একটি ইচ্ছে যার এতো অপরুপ বর্ননা শুনলাম তাকে এই দুনিয়াতে বেচে থাকতে একটি বার স্বপ্নে দেখা।

এই চেহারা টি একটি বার স্বপ্নে আসা মাত্রই জাহান্নাম হারাম হয়ে যাবে।
আল্লাহু আকবার