রাসুল (সাঃ) বিচার দিবস সম্পর্কে কি বলেছিলেন | The Prophet ﷺ | কিয়ামত – বিচার দিবস

886
হাশরের ময়দান,বিচার দিবস,কিয়ামত,kiyamat,হাশরের দিন,islamic waz,judgement day,ক্বিয়ামত,bangla islamic reminder

বিষয়ঃ রাসুল (সাঃ) কিয়ামতের শেষ দিনটি সম্পর্কে যা বলেছিলেন –

কেয়ামত বা বিচার দিবস কি? এর ধারণা এবং এর আলামত সমূহ নিয়ে আমাদের ধর্মে এবং পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআন এবং হাদিস শাস্রে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

হাদিসে জিবরাঈল এ বর্নিত আছে,  একদিন জিবরাঈল (আ) এসে নবী করিম (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, ইসলাম কি? ইমান কি? এহসান কি?  এরপর জিবরাঈল (আঃ) নবী করিম (সাঃ) কে আরও একটি প্রশ্ন করেছিলেন কখন কিয়ামত সংগঠিত হবে?  নবী করিম (সাঃ) বলেছিলেন আমি জানি না। তুমিও জান না। জিবরাইল বলেছিল, “ফা আখ বিরনি আন আলা মাতিহাহ”

হে আল্লাহ্‌র রাসুল আপনি আমাকে কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে বলে দিন। এখন এখানে অনেক গুলো বিষয় আছে, যখন জিব্রিল (আঃ) এই প্রশ্ন টি করেছিল, তখন সময় টি খুবি সঙ্কীর্ণ ছিল। রাসুল (সঃ) এর পুরো সীরাত জীবনের এর ভিতরে মাত্র একবার জিবরাঈল (আঃ) সরাসরি সবার সামনে নিচে নেমে আসবে। আর এটা সবচাইতে বিশেষ একটি মুহূর্ত, যখন সবাই তাকে দেখতে পাবে। এবং ইতি পূর্বে এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি, আর কখনো ঘটবেও না। এবং প্রতিটি প্রশ্নই ছিল সরাসরি আল্লাহ্‌ তায়ালার পক্ষ থেকে।

আর জিবরাঈল (আঃ) সর্বদা আল্লাহ্‌ তায়ালা যখন চাইতো তখনি আসতো, কখনো এমন টি হয় নি যে, উনি নিজ ইচ্ছায় এসেছেন। “ওমা নাতা নাজ্জালু ইল্লা বি আমরি রাব্বিক” এবং হাদিস শেষে রাসুল (সাঃ) বলেছিলেন,  তোমরা কি জানো তিনি কে ছিলেন? তিনি ছিলেন জিবরাঈল (আঃ) … তিনি এসেছিলেন তোমাদের শিখানোর জন্য। কিন্তু তিনি কি শিখানোর জন্য এসেছিলেন? তিনি এসেছিলেন ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জানাতে যা ইসলামের মৌলিক কিছু বিষয়ের উপর বিদ্যমান ছিল।

এবং এই বিষয় গুলো তিনি না জানালে কখনই কেউ জানতোনা। এই খানে সব গুলো প্রশ্নই ছিল ধর্মের মৌলিক বিষয়ের উপরে, কিন্তু সেখানে একটি প্রশ্নই ছিল যেখানে কেয়ামতের আলামত সম্পর্কে বলা হয়েছে।

আর এটি ইঙ্গিত দেয় যে বিচারের দিনের আলামতগুলো আমাদের বিশ্বাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আমাদের নবী (সা:) কিয়ামতের আলামতগুলো বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছেন।

কিন্তু আমরা তা কিভাবে জানব? আবু যায়েদ আল আনসারী সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে ফজরের সালাত আদায় করলেন। এবং তারপরে তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন। যেটা তিনি সাধারণত করতেন না। তিনি কখনও ফজরের নামাজের পরে মিম্বরে উঠেনি। “ফখ ‘ত’ বানা ইলার জোহর”। এবং তিনি যোহর পর্যন্ত বক্তিতা দিলেন । অতঃপর তিনি নেমে আসলেন এবং তিনি আমাদের সাথে জোহরের নামাজ আদায় করলেন। এরপর আবার তিনি মিম্বরে উঠে গেলেন এবং তা আসর পর্যন্ত অনবরত বক্তিতা চলল। পরে তিনি আমাদের সাথে আছরের নামাজ আদায় করলেন। তারপর তিনি মিম্বরে উঠে গেলেন এবং মাগরিব পর্যন্ত কথা বললেন। মুলত তিনি  একটানা  বক্তৃতা দিয়েছিলেন।  কি বিষয়ে বক্তৃতা  দিয়েছিল? আবু জায়েদ আল আনসারি বলেছিলেন, কিয়ামতের আগ পর্যন্ত কি কি হবে সেই সম্পর্কে আমাদের বলেছিলেন। কিয়ামতের দিনের আলামত সম্পর্কিত এই হাদিসটি সহিহ মুসলিম শরীফের বর্ণনায় এবং বুখারী শরীফের বর্ননায় আছে।

সুতরাং এটি একটি মূল্যবান আলোচনা ছিল। যা কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে  ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত করা হয়েছিল। এই সিরিজে পরে আমরা ছোট ও বড় আলামত গুলোর বিস্তারিত আলোচনা করব।

আমরা কি ইয়াজুজ – মাজুজ সম্পর্কে কিছু জানি? তাঁরা কোথায় আছে? তারা কোথায় বাস করছে? এরপর দাজ্জাল, তিনি জীবিত নাকি মৃত? এবং কেন আল্লাহ্‌ তায়ালা তাকে এক অসীম ক্ষমতার অধিকারী করে এই দুনিয়াতে পাঠাবেন? এর অর্থ কি দাজ্জাল কি কোন রহস্যময় শক্তি? নাকি সে আসল সত্তা?

আসলে ইসলাম সম্পর্কে বা ইসলামিক টেকনোলজি সম্পর্কে শিক্ষা নেয়ার ফলাফল টা কি?আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলাহ পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন যে, কিয়ামত দিবস খুব নিকটে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াআত’আলা আরো উল্লেখ করেছেন, যে লোকেরা আপনাকে কিয়ামতের দিবস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। “ইয়াস আলুনাকা আনিস-সা আহ” তারা আপনাকে বিচারের দিন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। আল্লাহ বলেন, “ফা-কাদ জা আ, আশ র’তুহা”।

কিয়ামতের আলামত ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করছে কিয়ামত কখন? আমি আপনাকে এবং পূর্ববর্তীদের জানিয়ে দিচ্ছি যে সতর্কতামূলক নিশানাগুলি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন , “ইক তা’রবাতিস সা আহ”
বিচার বন্ধ রয়েছে।  আল্লাহ কুরআনে ইরশাদ করেছেন যে, “ইক তা’র বাতিন নাসি হিসা বুহুম”  মানবজাতির কিয়ামত খুব নিকট থেকে নিকটে এসে গেসে।

আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, “ইন্নাহুম ইয়ারাও নাহু বা-ই-দা, ওনারাহু করিবা” তারা মনে করে কিয়ামত দিবস অনেক দূরে, তবে আমি জানি যে এটি খুব নিকটেই রয়েছে।

আর আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম আঙ্গুলের ইশারা করে বলেছিলেন, “বুয়িসতু আনা ওয়া সা-আ কাহাতাইন” আমি এবং কিয়ামত আমাদের এভাবেই প্রেরণ করা হয়েছিল।

এখন ইসলামিক স্কলারস রা বলেছেন,  আমাদের কে যে অর্থে পাঠানো হয়েছে সেটি হ’ল রাসুল (সাঃ) এবং কিয়ামত।

তাই ১ম আঙ্গুল এবং ২য় আঙ্গুলের মাঝে পার্থক্য দ্বারা কি বুঝিয়েছেন?

সুতরাং আপনার দুই আঙ্গুলের মধ্যে যতটা দূরত্ব ঠিক কিয়ামতের দূরত্ব ততটুকু আমাকে কিয়ামতের জন্যই প্রেরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ রাসুল (সাঃ) এর আগমন কিয়ামতের আলামতগুলোর প্রথম সূচনা।

তাঁর আগমন, তাঁর জন্ম , তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য এবং তাঁর ইন্তিকাল, এর সাথে কিয়ামতের আলামতের বিষয়গুলো এমন ভাবে যুক্ত যা আমাদেরকে সত্যিকার কিয়ামতের বাস্তবতায় জাগ্রত করে। মুসনাদে ইমাম আহমাদ এর একটি হাদিসে বলা হয়েছে,   রাসুল (সাঃ) বলেছেন যে, ”আমাকে কিয়ামত সহ প্রেরণ করা হয়েছিল এবং আমি কিয়াতের আগে এসেছি আর আমার পরই কিয়ামত আসবে”

সহীহ মুসনাদে ইমাম আহমাদ এর একটি হাদিসে উল্লেখ আছে, “রাসুল (সাঃ) বলেছেন,  আল্লাহ আমাদের উভয়কে একত্রে প্রেরণ করেছেন এবং আমি কিয়ামতকে কিছুটা পরাজিত করে আগে চলে এসেছি”

রাসুল (সাঃ) এর এই কথা গুলোর উপর দিয়ে প্রায় ১৪৪০ বছর অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে, সুতরাং একটু গভীর ভাবে ভেবে দেখুন, আজ তাঁর প্রতিটি কথা যেন মুক্তার মত চোখে ভেসে থাকে।

১৪৪০ বছর যা রসিকতা নয় যা হাজার বছরেরও বেশি সময় যা মানব ইতিহাসের বিশাল পদক্ষেপ যা মানব ইতিহাসে রেকর্ড।

যদি আমরা চার হাজার বছরের বেশি পিছিয়ে যাই তাহলে দেখতে পাব আমাদের কাছে কোনও সভ্যতার  4,000 বছরের পুরানো বাস্তব রেকর্ড রয়েছে কিনা সর্বোচ্চ।

এবং আপনি যদি দেখেন যে এই পৃথিবীটি এখানে কত দিন রয়েছে। বিলিয়ন-বিলিয়ন বিলিয়ন বছর এবং মানুষ এখানে কতদিন ধরে চলেছে খুব কমপক্ষে 40,000 বছর ধরে।

রাসুল (সাঃ) বলেছে যে, ”আমার মৃত্যু থেকেই কিয়ামতের প্রধান আলামত গুলোর সূচনা হতে চলেছে” এবং আল্লাহ সুবহানাহ তাআলা মনে করিয়ে দেয় যে, “হাল ইয়াঞ্জুরুনা ইল্লাস সা’আ” তারা কি বিচারের দিনটির অপেক্ষায় আছে? “ফকদ জা আ’আশরাতুহ” তারা দেখতে পাবে না যে কিয়ামতের আলামত ইতিমধ্যে এসেছে এবং আল্লাহ তায়ালা উল্লেখ করেছেন যে ইসা ইবনে মারিয়াম ও কিয়ামতের অন্যতম আলামত । ঈসা (আঃ) এর আগমন কিয়ামতের অন্যতম একটি প্রধান চিহ্ন। এটি ঈসা (আঃ) এর ২য় আগমন ইনশা আল্লাহ্‌ তিনি আসতে যাচ্ছেন যা ঈসা (আঃ) এর প্রথম আগমন নয়।

কোরআনে আরও উল্লেখ আছে  ইয়াজুজ এবং মাজুজ আসার কথা । “হাত্তা  ইজা  ফুতিহাত ইয়া’জুজ ও মা’জুজ” সুতরাং এই সমস্ত আলামত যা কোরআনে কিয়ামত সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা এই আলামত  অধ্যয়ন করার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। প্রাথমিক কারণ হল, রাসুল (সাঃ) এর সত্যতার প্রশংসা করা। যখন আমরা এমন কিছু দেখতে পাই যা সে কখনও জানার পক্ষে সম্ভব ছিল না।

নবীজি (সাঃ) যেই ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন আজ আমরা এখন সেই ভবিষ্যত টি তে বেঁচে আছি। কেন আমাদের ইমান বৃদ্ধি পায় না?

কেন আমাদের ইমান দৃঢ় হয় না,

কেন আমরা নিশ্চিতভাবে ইমান মজবুত করতে পারিনা যে,

“ওয়ামা ইয়ান্তিকু আনিল হাওয়া”

মানুষটি নিজের মন থেকে কথা বলছেন না, কোনো সাধারণ মানুষের কথাও বলছেন না ,

তিনি আল্লাহ্‌ সুবাহানা তাআলার বলা কথাগুলো বলছেন।

তিনি তাকে অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন এবং আমরা যখন এই ভবিষ্যতবাণী গুলো শুনি যখন আমরা নির্দিষ্ট খুব আকর্ষণীয় ভবিষ্যতবাণী গুলো  দেখি কেউ তা অস্বীকার করতে পারে না এবং তিনি  আমাদের যা বলছিলেন। আমরা আমাদের চোখের সামনে ভবিষ্যতবাণী গুলো  দেখতে পাই কোরআন সুন্নাহ এর আলোকে তখন আল্লাহর প্রতি আমদের ঈমান বহুগুণ বেড়ে যায়।

সুতরাং এটি আমদের জন্য জাগ্রত হবার বানী যা থেকে আমরা বুঝতে পারি কিয়ামতের ছোট আলামতগুলো খুব নিকটেই রয়েছে এবং আমাদের নিজেদের প্রস্তুতি গ্রহণ করা দরকার।

এবং এই কারণগুলির জন্য আমরা কিয়ামতের আলামত সমূহের অধ্যয়ন করি ঠিক যেভাবে করে সাহাবীরা মসজিদে বসে আলোচনা করছিল। এই প্রসঙ্গে বিচার দিবস সিরজের প্রথম পর্বে আলোচনা করা হয়েছিল।

যার ফলে আলহামদুলিল্লাহ আমাদের প্রশান্তি দেয়।

আমদের সৎ হতে দেয়। আমরা হতাশার সময়ে বেঁচে থাকি।

আসুন এখানে আমরা নিজেরা সৎ ভাবে জীবন যাপন করি।

বিশ্বজুড়ে যা ঘটছে কোথায় এবং কখন এটি শুরু হয়ে যাবে, এবং পরবর্তীতে  তা আল্লাহ্‌ সুবহানা তাআলার কাছে নিয়ে যাবে ।  এখন আপনি এগুলি হাদিস পড়লে আপনি বুঝতে পারবেন যে,

এর আসলে কি ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল। এর সত্যই কি ভবিষ্যতবাণী করা হয়েছিল।

আমি আপনাকে ডাক্তারের একটি উদাহরণ দিই। আপনি অসুস্থ হয়ে ডাক্তারের কাছে গেলেন । ডাক্তার বললেন আপনার অসুখ এক সপ্তাহে সেরে যা যাবে । ডাক্তারের কথা শুনে আপনার খারাপ লাগতে পারে কারন আপনার এই এক সপ্তাহ জন্য কঠিন হতে চলেছে।

আপনি জানেন, ভবিষ্যতবাণী করা কঠিন ।  ডাক্তার উচিত ছিল  যে পূর্বাভাস বলে আপনাকে প্রশান্তির দেয়।

আপনি কি জান আপনি কবে ভালো হবেন? আমরা যখন বিচারের দিন সম্পর্কে একটি হাদীস অধ্যয়ন করি  সেখানে অনেক সতর্কতা রয়েছে , কিছু ভাল খবরও রয়েছে। তারও কিছু বাশারাহ আছে।  সুতরাং সেই সতর্কতাগুলি আমাদের হতাশাগ্রস্থ করে না বরং আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত হই। আমাদের প্রস্তুতি নেওয়া দরকার এবং যখন আমরা আলামত গুলো ঘটতে দেখি তখন ঈমান আরও বৃদ্ধি পায়।

আমরা আল্লাহ্‌ সুবানাহ তাআলা কাছে ফিরে আসি এবং আমরা  প্রশান্তি অনুভব করি। ইনশাআল্লাহ্‌ আল্লাহ্‌ আমাদের যত্ন নেবেন কারণ আপনি  ভাবছেন হাদীস এগুলি আমাদের নবী (সাঃ) কেন আমাদেরকে বলেছেন?

কেন তিনি আমাদের বললেন যে আমার উম্মত বিভক্ত হয়ে যাবে? কেন আমাদের বলেছিলেন যে এই ঘটনাটি ঘটবে? যাতে আমরা হতাশ না হই । হতাশাবোধ করলে তিনি সান্ত্বনা দিতে বলেছেন। উৎসাহ ও সমর্থন দিয়েছেন । তিনি আমদের কিয়ামতের আলামতগুলো জানিয়েছিলেন যখন ঘটবে ইনশাআল্লাহ্‌  আমরা  যেন মোকাবেলা করার শারীরিক ও মনসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে পারি। সুতরাং এই সকল কারণে কিয়ামতের আলামতগুলির উপর শিক্ষাগ্রহন করব।