শেষ দিবসের নিদর্শন সমূহ – রাসুলুল্লাহ ﷺ এর মু’জিজা | *kiyamoter alamot | Modernislam

1211

ইবনে মাসুদ বলেন, আমি একদিন নবি করিম (সাঃ) কে জিজ্ঞাস করলাম, শেষ বিচারের দিনের আলামত সম্পর্কে আপনার কোন জ্ঞান আছে কি ? নবি করিম (সাঃ) বললেন, হ্যা ইবনে মাসুদ এবং মুসলমানদের এসব জানতে হবে যাতে তারা আলামতগুলো দেখে বিচার দিবসকে চিনতে পারে ।এবং এ সম্পর্কিত আরো অনেক নিদর্শন রয়েছে যা তাঁরা বুঝতে পারে।
তাদের মধ্যে একটি হল বাচ্চারা ভীষণ বদমেজাজি হবে। এসিড বৃষ্টি হবে। তুমি দেখতে পাবে সব জায়গায় খারাপ লোকেরা ছড়িয়ে পড়েছে । ও ইবনে মাসুদ ঐ আলামতগুলোর মধ্যে আরও একটি হল সকলে বিশ্বাসঘাতকদের বিশ্বাস করবে এবং বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের বিশ্বাসঘাতক বলে মনে করবে।সত্যবাদীদেরকে মিথ্যাবাদী বলে সাব্যস্ত করা হবে। আর মিথ্যাবাদীদেরকে সত্যবাদী বলা হবে । এসবই হল কিয়ামত দিবসের নিদর্শন ।

এটা আমার কাছে নবি করিম (সাঃ) এর স্পষ্ট মজিজা । তিনি বলেছিলেন যে, সকলে ডিস এন্টেনার মাধ্যমে ক্রমাগত একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করতে থাকবে। এবং নবী করিম ( সাঃ) এর যথার্থ শব্দটি ব্যবহার করেছেন বর্তমানে যা স্যাটালাইট যোগাযোগ বোঝাতে ব্যবহার করা । এবং লোকেরা তখন পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন করবে। অন্যথায়, তাঁরা নিজ বাসায় অবস্থান করে ও টিভি দেখবে। এমনকি তাঁরা প্রতিবেশিদের কাছেও যাবে না।

এটি আমার কাছে এক বিস্ময়কর হাদিস!
হে ইবনে মাসুদ, তুমি আরো দেখতে পাবে, মুনাফিকেরা দেশ শাসন করবে।এবং সবচেয়ে খারাপ লোকেরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। মসজিদের সাজসজ্জা বৃদ্ধি করা হবে, কিন্তু মানুষের অন্তরগুলো হবে কুৎসিত! অর্থাৎ মসজিদে ইবাদতরত মুসুল্লিদের কোন তাজকিয়্যাহ থাকবে না। মসজিদ্গুলো হবে খুব সুন্দর!

বিশ্বাসীদের অপদস্থ করা হবে কুৎসিত ছাগলের চেয়েও বেশি! যেন তাঁরা কিছুই না এমনটা মনে করা হবে। তুমি এ ও দেখবে যে, নারী ও পুরুষের মাঝে সমকামিতা বেড়ে যাবে। এবং অল্পবয়স্ক মানুষেরা অনেক ধন-সম্পদের মালিক হবে। যেমন জুকারবার্গ ৩০ বছর বয়সের আগেই সে মাল্টি বিলিওনার হয়ে গেছে।
নারীদের নীতি আদর্শ থেকে দূরে সরাতে তাদের দিয়ে আন্দোলন করানো হবে। তুমি দেখতে পাবে, মানব সভ্যতার ধ্বংস হয়ে যাবে ও পৃথিবীতে শুরু হবে ধ্বংসাত্মক সভ্যতা।তবে সে সভ্যতাই পৃথিবীকে আরও ধ্বংসাত্মক করবে এবং এভাবেই পৃথিবী ধ্বংস হবে। তখন চারিদিকে গান বাজনা অধিক হারে ছড়িয়ে পরবে। গান বাজনার যন্ত্র গুলো তাদের মাথার উপর চড়ানো থাকবে ।

 

তিনি কিভাবে এটি জানলেন? এটি যা বলেছে আমি মটেও বানিয়ে বলছি না। তিনি বলেছিলেন তাদের মাথায় থাকবে বাদ্যযন্ত্র। কে ভেবেছিল? রাসুলুল্লাহ সাঃ এর সময়ে কে বা কিভাবে জানত এই কথাগুলোর মানে কি হবে?

কিন্তু এখন আমরা জানি এরকম মানুষগুলোকে আজ আমরা ঠিক সেই জায়গায় দেখতে পাচ্ছি । রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছিলেন, অনেক বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেখতে পাবে ।এবং লোকেরা অধিক পরিমানে ঠাট্টা তামাসা ও বিদ্রূপে লিপ্ত হবে। বর্তমানে টিভি শো গুলোর দিকে একটু খেয়াল করুণ, সেই শোগুলোর কাজই হচ্ছে একে অন্যকে ব্যঙ্গ বিদ্রূপ করা ।

তোমরা দেখবে, বিবাহ বন্ধন ছাড়াই অনেক শিশু জন্মর হবে। আমার নিজের দেশেই এখন এর হার বৃদ্ধি পাচ্ছে । এটি খুব বিস্ময়কর! নবী করিম (সাঃ) বলেছিলেন, সে সময় ফিতনাসমূহ মাদুরের আকৃতিতে সকলের সামনে প্রদর্শিত করা হবে। এটি দুটি রেখায় সীমাবদ্ধ থাকবে। এর একটি হচ্ছে টেলিভিশন সেট যা দেখতে মাদুরের মত দেখায়। এবং নবী করিম (সাঃ ) এজন্যই বলেছিলেন ফিতনাসমুহ তাদের সামনে মাদুর আকৃতিতে দেখানো হবে । এবং ঠিক এভাবে শয়তান আমাদের অন্তরকে কে প্রতিনিয়ত ধ্বংস করে দিচ্ছে। টেলিভিশন এবং চলচিত্র গুলো ফিতনাসমূহ প্রদর্শনের অন্যতম মাধ্যমে। এসব এখন খুবই স্বাভাবিক বিষয় মানুষগুলো ফিতনাসমূহে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে , কিন্তু তাঁরা এখন ফিতনা দ্বারা ব্যথিত হয় না।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছিলেন, জাহান্নামে দুই প্রকারের লোক আছে যাদের আমি এখনও দেখিনি। তুমি গরুর লেজের মত চাবুক হাতে কিছু লোকদেরকে দেখবে তাঁরা ঐ চাবুক দিয়ে অন্যদেরকে মারবে। আর সে সময় নারীরা পোশাক পরার পরেও উলঙ্গ অবস্থায় থাকবে। তাঁরা কোমর দুলিয়ে দুলিয়ে হাঁটবে। এবং অন্যদেরকে নিজেদের দিকে আকর্ষণ করাবে।

ইয়া আল্লাহ্‌! আজ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কথাই সত্যি হয়েছ।

তিনি (সাঃ) বলেছিলেন, ঐ নারীদের চুল হবে ‘বখতের লোমশ উটের মতো। সেই উটগুলো আরব বাসীদের ছিল না। সেই উটগুলো পারস্য থেকে এসেছিল, একারণে আরবেরা তা দেখেছে।

সুতরাং এই লোকগুলো জান্নাতে প্রবেশ করবে না। আল্লাহর কসম, নবী করিম (সাঃ) সত্য কথাই বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমার উম্মাহর মধ্যে কিছু মানুষ মদপান করবে। এবং সেই মদকে তাঁরা অন্য নামে ডাকবে। ঠিক এগুলোর অনেক নাম থাকবে। আয়ুজুবিল্লাহি মিনাশশাইতানির রাযিম।

হে আল্লাহ্‌, আমি আপনার বার্তা সকলের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। আমিন।