স্বপ্ন নিয়ে ইসলাম কি বলে Last Part | 3 kinds of Dreams in Islam | Modern Islam

স্বপ্ন নিয়ে ইসলাম কি বলে Last Part – 3 kinds of Dreams in Islam – Modern Islam

গত পর্বে আমরা আলোচনা করছিলাম ২য় প্রকার স্বপ্ন অর্থাৎ “নাফাস” নিয়ে যেই স্বপ্ন গুলো শয়তানের পক্ষ থেকে এসে থাকে। প্রসঙ্গ যেহেতু আসছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাক।

ধরুন ধরুন কেউ একজন কোন অশ্লীল স্বপ্ন দেখল, অথবা তার স্বপ্ন দোষ হল, এই ধরণের স্বপ্ন ও শয়তানের পক্ষ থেকে এসে থাকে। আর এই ধরণের স্বপ্ন দেখতে একজন নারী বা একজন পুরুষ এর কোন দোষ নেই।

এবং আমরা সবাই এই বিষয়ের মাসায়ালা সম্পর্কে জানি যে, স্বপ্ন দেখার পর এরুপ অবস্থা হলে আপনাকে গোসল করতে হবে। যদিও এই স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে আসে, এবং এতে আপনার কোন দোষ নেই কারন এই স্বপনের নিয়ন্ত্রন আপনার হাতে না

এ কারনে নবীদের কখনো স্বপ্ন দোষ হতোনা, এমন কি কোন নবীদের এই এটি হয় নি।

কারন এই স্বপ্ন এরকম নির্লজ্জতা শয়তানের পক্ষ থেকে আসে।

এবং এটি হচ্ছে সম্পুর্ন প্রাকৃতিক তাই এতে নিজেকে অপরাধবোধ মনে করার কোন প্রয়োজন নেই।

একজন মানুষের জন্য এরকম টি অনুভব করা স্বাভাবিক।

আমাদের সর্বদা উপলব্ধি করা দরকার যে এমন স্বপ্ন আমাদের শয়তান এই দেখায়। সুতারাং এটি কে ও আমরা বলতে পারি এটি এক প্রকার হুলম অর্থাৎ অশুভ স্বপ্ন।

একটু ভেবে দেখুন আমরা কিন্তু এই স্বপ্ন দেখলে কাউকে বলে বেড়াইনা।

তো আমরা কি শিখলাম স্বপনের প্রথম প্রকার ছিল “হাদিসুন নাফস” জেটি আপনার কল্পনা থেকে আসে। আর ২য় স্বপ্ন টি হচ্ছে, “আল হুলম” অর্থাৎ অশুভ স্বপ্ন জেটি শয়তানের কাছ থেকে আসে।

এখন আলোচনা করি ৩য় প্রকার স্বপ্ন নিয়ে যার নাম হচ্ছে “ মুবাসশিরাত”

আর এটাকে আরবি ভাষায় বলা হয় হচ্ছে “রু’ইয়া” আর রু”ইয়া হল আল্লার পক্ষ থেকে দেখানো স্বপ্ন, এমন কি এটি হচ্ছে একটি ইতিবাচক স্বপ্ন।

আল্লার পক্ষ থেকে যখন আপনি স্বপ্ন দেখবেন তখন ভয় পেয়ে জেগে উঠবেন না। আপনি আতঙ্কিত হবেন না। যদি এমন হত তাহলে তো একে আর মুবাশশির বলা হতোনা। অর্থাৎ সুসংবাদ বলা হত না।

মুবাশশির শব্দ টি কি? মুবাশশির শব্দ টি বাশির- বাশারা থেকে এসেছে, যার অর্থ সুসংবাদ, ভাল সংবাদ। যদি এটি ইতিবাচক নাও হয়, তবে ও এটি হবে প্রকৃত সত্য কোন স্বপ্ন, ভয়ংকর কিছু নয়।

এখন এ ধরণের স্বপনের লক্ষন গুলো কি হতে পারে?

আপনি স্বপ্নে কি দেখেছেন তা আপনি স্পষ্ট ভাবে মনে রেখে জেগে উঠবেন। কিন্তু এটা হাদিসুন নাফস নয়। আপনি আতঙ্কিত অবস্থায় জেগে উঠবেন না। যদি এই দুটি স্বপ্ন পুরন করা হয়। তবে এটা কে মুবাশশির বলা জেতে পারে। কখনো কখনো আপনি ইতিবাচক কিছু দেখে জেগে উঠেন। আবার কখনো কখনো আপনি স্বাভাবিক পক্ষপাতহীন অবস্থায় জেগে উঠেন। আপনি ভীত নন, আবার খুশিও নন, আপনি হয়তো কিছু টা দ্বিধান্বিত যে আমি কি দেখলাম! কিন্তু এই ধরণের স্বপ্নে আপনি কখনো ভীত অবস্থায় জেগে উঠবেন না। যদি আপনি ভীত অবস্থায় জেগে উঠেন তবে সেটা আল্লার পক্ষ থেকে নয়। তবে এটা কার কাছ থেকে? এটা শয়তানের কাছ থেকে আসে।

আল্লার পক্ষ থেকে আগত স্বপ্ন ২ রকমের হতে পারে। প্রথম প্রকার হচ্ছে জেটা সাধারণত কম দেখা যায়। আপনি সরাসরি যে কোন একটি ঘটনা দেখেন। যেখানে আপনি রয়েছেন কোন প্রকার সাংকিতিক চিহ্ন ব্যতিত। আপনি এমন কোন ঘটনা দেখেন যা ভবিশ্যতে দেখবে। আর এতে কোন সাংকিতিক চিহ্ন নেই, সরাসরি ভবিশ্যতের কোন ঘটনার বাস্তব রুপ।  ঠিক এটাই ঘটবে। যেমন রাসুল (সাঃ) স্বপ্ন দেখেন তিনি কাবা ঘর চার পাশে তাওাফ করছেন, কোন বছর তিনি এই স্বপ্ন টি দেখেন?

৬ষষ্ঠ হিজরিতে তিনি এই স্বপ্ন টি দেখেন। তিনি কি দেখলেন? তিনি দেখলেন যে, তিনি কা’বা শরীফের চারপাশে তাওাফ করছনে।

এবং লক্ষ করে দেখুন এই স্বপ্নে কিন্তু কোন প্রকার সাংকিতিক চিহ্ন ছিলনা। যখন তিনি এটি দেখতে পেয়েছিলেন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, এটা কোন সাংকিতিক স্বপ্ন নয়। তাই তিনি বলেছিলেন যে, ও মুসলিম আমি স্বপ্ন দেখেছি আমি কাবার চারপাশ তাওাফ করছি, চল ওমরাহ্‌ করতে চল।

সে বছর কি ঘটে ছিল? কুরাইশ্রা তাকে বাধা দিল ফলে হুদায়বিয়ার সন্ধি হয়। এই ব্যাপারে আমরা কোন একটি পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করব ইনশা আল্লাহ্‌।

কিভাবে রাসুল (সাঃ) কে মক্কায় জেতে বাধা দেয়া হয়। তিনি সরাসরি একটি স্বপ্ন দেখেন যাতে কোন সাংকিতিক চিহ্ন ছিলনা।

আমি নিজেকে তাওাফ করতে ও মাথা মুন্ডন করতে দেখেছি। এবং এটা অবশ্যই ঘটবে।

আল্লাহ্‌ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, যে স্বপ্ন আপনি দেখেছেন এটা একটি সত্য স্বপ্ন। “লাকাদ সাদাকাল্লাহু রাসুলাহুর রু’ইয়া বিল হাক্ক, লাতাদ খুলুন্নাল মাসজিদাল হারম।“আপনি অবশ্যই মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করেন এবং এটা অবশ্যই ঘটবে, এ বছর না পরের বছর।

তাহলে এটি ছিল আল্লার পক্ষ থেকে আগত ২ ধরণের স্বপনের প্রথম প্রকার।  এই স্বপ্ন গুলো খুবি কম সঙ্খ্যক লোক দেখতে পায়, কিন্তু এটি বেশির ভাগ সময় নবীদের সাথে ঘটে।

যেমন ইব্রাহীম (আঃ) দেখেছিলেন, “ইন্নি আরা ফিল মানামি আন্নি আজবাহুক” আমি স্পনে দেখেছি যে, আমি তোমাকে জবেহ করেছি। এবং এটি কোন সাঙ্কিতিক চিহ্ন ছিলনা।

এবং এর দ্বারা আমরা বুঝতে পারে যে, এই ধরণের স্বপ্ন খুবি স্পষ্ট ও পরিষ্কার। আর এই ধরণের স্বপ্ন নবীদের মাঝে বেশি দেখা যায়।

এই ধরণের স্বপ্ন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে আমাদের রাসুল (সাঃ) বলেন, আয়েশা (রাঃ) আমাদের বলেন, কুরআন নাজিলের ৬ মাস আগে থেকে রাসুল (সাঃ) প্রতি রাতে এই ধরণের স্বপ্ন গুলোর কোন একটি দেখতে পেতেন। টানা ৬ মাস তিনি এই ধরণের স্বপ্ন দেখেছিলেন।

রাসুল (সাঃ) ঘুমুতে গেলেই দেখতেন যে, আগামিকাল কি ঘটবে। তিনি হয়ত স্বপ্ন দেখেন যে, তিনি বাজার থেকে কিছু ক্রয় – বিক্রয় করছেন, পরের দিন ঠিক তাই ঘটে।   তিনি স্বপ্ন দেখেন যে তিনি কোন এক লোকের সাথে দেখা করছেন, পরের দিন ঠিক সেই লোক এসে তার সাথে সাক্ষাৎ করে। দিন, বার, তারিখ, সময় সব কিছুই একি রকম থাকে ঠিক স্বপ্নে যেমন ছিল, কোন পরিবর্তন হয়না।

এখন একটি প্রশ্ন আসে ক্রমাগত টানা ৬ মাস কেন দেখেন? কেননা আল্লাহ্‌ তাকে বলেছেন যে, বিশেষ কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। আল্লাহ্‌ তাকে অহী নাজিলের জন্য প্রস্তুত করছিলেন। ৬ মাস যাবৎ এরপ ঘটনার পর “ইকরা” অবতির্ন হয়।

তাহলে এটা হল এই ধরণের স্বপনের একটি উদাহারন। আমরা বলেছি যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে ২ ধরণের স্বপ্ন দেখানো হতে পারে। প্রথম প্রকার, কোন প্রকার সাংকেতিক চিহ্ন ছাড়া। আর ২য় প্রকার হল, সাংকেতিক চিহ্ন সহ। এ ধরণের স্বপ্ন বেশি দেখা যায়, আর এটা আমাদের কাছে খুবি পরিচিত। কোন কোন সময় নবীরা দেখেন, কিন্তু অধিকাংশ সময় এমন কি সাধারণ মানুষ ও এই ধরণের স্বপ্ন দেখেন।

এবং এই ধরণের স্বপ্নে আপনি যা দেখেন তার প্রত্যেক টি বস্তু দ্বারা অন্য কিছু বুঝায়।

যেমন, ইউসুফ (আঃ) এর স্বপনের শস্যের একটি পাতা এক বছরের পানি নির্দেশ করে। খুব মোটা গাভী নির্দেশ করে চাশাবাদে অতিরিক্ত ফলন। আর চিকন গাভী নির্দেশ করে কম ফলন। এবং এখানে অন্য কিছু ও নির্দেশ করতে পারে। গাছ নির্দেশ করে এটা, কাবা নির্দেশ করে ওটা, এবং আলো অন্য কিছু নির্দেশ করে। এক হাদিসে রাসুল (সাঃ) বলেছেন, আমি পুরুষদের বিভিন্ন মাপের পোশাক পরিধান করতে দেখেছি। কারো পোশাক গলা পর্যন্ত, কারো পেট পর্যন্ত। আর আমি ওমর ইবনে কাত্তাব কে দেখেছি তার পোশাক এতো বড় যে, তার শরীর ছাড়িয়ে পিছনে ঝুলছে। তারা জিজ্ঞেশ করলেন, কিভাবে আপনি এটা ব্যাক্ষা করবেন? তিনি বলেন, এর মানে হল ধর্ম। ধর্মের প্রতি মানুষের আনুগত্য বিভিন্ন সাইজের। কারো বড়, কারো ছোট। ধর্মের প্রতি ওমর (রাঃ) এর আনগত্য এত বেশি যে, তা তার শরীর ছাড়িয়ে পিছনে ছড়িয়ে গেছে। সুতারাং এই স্বপনের পোশাক মানে ধর্ম। এর মানে এই নয় যে, সকল স্বপ্নে পোশাক মানে ধর্ম। কিন্তু সুধু এই স্বপনের মানে হচ্ছে পোশাক।

তাই এই ধরণের স্বপ্ন কে বলা হয় সাংকেতিক স্বপ্ন। আমরা ইউসুফ (আঃ) এর ঘটনায় এটা দেখেছি। তিনি ১১ টি তাঁরা দেখেন এবং চাঁদ ও সূর্য কে দেখেন। এটা হচ্ছে সাংকেতিক। যা কিছু আপনি দেখেন প্রতিটি হচ্ছে রঙ, আর প্রতিটা হচ্ছে প্রাণী।

প্রতিটা ছবি, প্রতিটা গাছ, প্রতিটা বস্তু যা আপনি স্মরণে রাখেন এর দ্বারা অন্য কিছু বুঝায়।

আর এই ধরণের সাংকেতিক স্বপ্ন সবাই ব্যাখা করতে পারবে না। তাই যদি এই ধরণের স্বপ্ন দেখে দ্বিধা দন্দে পড়ে জান, তখন কোন একজন বড় আলেমের সান্নিধ্যে যাবেন। জিনি আপনাকে সঠিক ব্যাক্ষা দিতে পারবে।

সম্মানিত শ্রোতাদের উদ্দ্যেশে কুরআন ও হাদিসের আলোকে স্বপ্ন নিয়ে

একটি বিস্তারিত সিরিজের আয়োজন আমরা করেছিলাম। আশা করি এখন আমরা ভ্রান্ত ধারণা থেকে দূর হয়ে ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী সব কিছু মানতে পারব।

আল্লাহ্‌ আমাদের সর্বদা ইসলামের পথে চলার তৌফিক দান করুক। আমিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here