৪ প্রকার লোক কে আল্লাহ্‌ তায়ালা ক্ষমা করবেন না | Ramadan Mubarak 2019 | Modern Islam

৪ প্রকার লোক কে আল্লাহ্‌ তায়ালা ক্ষমা করবেন না | Modern Islam

সম্মানিত ভাই বোনদের বলছি রমজান চলে এসেছে, আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফ করানোর সময় চলে এসেছে, কি করব আমরা এই মাসে? রোজা রাখব? সারাদিন খুদার্থ থাকব? আমাদের অনেকের অভ্যাস আছে ঘন ঘন পানি খাওয়ার কিন্তু খাবনা। কেননা আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেছেন সন্ধ্যায় আমি তোমাদের ক্ষুদা ও তৃষ্ণা দুটোই নিবারন করাব। অতএব আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেছেন, এখন খাওয়া ছেড়ে দাও, আমরাও ছেড়ে দিয়েছি। অতএব এই মাসে আমরা রোজা রাখব, তারাবী পরব, গীবত করবনা, মিথ্যা বলবনা, গালি দিবনা, খারাপ কিছু করবনা। ভুল কিছু দেখবনা, ভুল কিছু শুনবনা।

সিয়াম ও সাউম দুটি কিন্ত ২ রকম শব্দ এমন কি দুটির অর্থ ও ভিন্ন। সাউম অর্থ হল, খাওয়া দাওয়া সব কিছু বন্ধ, আর সিয়াম অর্থ হচ্ছে, পুরো মাথা থেকে পা পর্জন্ত পুরোটাই রোজা রাখা যেমন, চোখের রোজা, জবানের রোজা, পেটের রোজা, মস্তিস্কের রোজা অর্থাৎ এই প্রতিটি জিনিষ আলাহর সাথে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ। কারন এই চোখ সে কোন খারাপ কিছু দেখবেনা কারন সে রোজা রেখেছে, জবান সেই কোন খারাপ কিছু বলবে না, কারন সেও রোজা রেখেছে, মস্তিস্ক তিনি খারাপ কিছু ভাববেন না কারন তিনি ও রোজা রেখেছেন। তাই আমাদের একটি প্রতিশ্রুতি আমাদের জীবন কে বদলে দিতে পারে।

একটি বার ভেবে দেখুন তো যার চোখ বেহায়া হয়ে যাবে তার হৃদয় কিন্তু পাথর হয়ে যাবে। যার চোখে একটি বার লজ্জা চলে আসবে, সারা দুনিয়ার যত বড় শয়তান এই আসুক না কেন তাকে গোমরাহ করতে পারবেনা।

কানের ও রোজা রয়েছে যেমন সেও কিন্তু গান শুনছেনা, ঠিক তেমনি ভাবে পায়ের ও রোজা রয়েছে, অহংকার করে না চলা, পা দিয়ে কাউকে কষ্ট দিচ্ছেনা।

আল্লাহ্‌ তায়ালা আমাদের জন্য রোজা দিয়েছে, সকল আমলের প্রতিদান হচ্ছে জান্নাত, কিন্তু সকল রোজার প্রতিদান হচ্ছে  আল্লাহ্‌। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেন, রোজার বদলা স্বয়ং আমি।

রমজানের অর্থ হচ্ছে জলে যাওয়া, মুসলিম শরিফে আছে “সালাতুত তাও্বাবিনা হিনা তারমুজুল ফেসাল” আল্লাহর বান্দারা তখনি নামাজ পরে যখন পা এর ভিতরে জন্ত্রনা জালা শুরু হয়ে যায়। রোজা আর জলে যাওয়ার মধ্যে সম্পর্ক হচ্ছে, যেমন, আগুনে কাগজ জলে যায়, লাকড়ি জলে যায়, এমন কি সকল কিছুই জলে যায় যখন তা আগুনে পতিত হয়। ঠিক তেমনি খুদা আর তৃষ্ণার মাধ্যমে শরীরের ভিতরে এক ধরনের আগুন সৃষ্টি হয়। আর অই আগুনের ভিতরে আল্লাহ্‌ তায়ালা পিছনের বছরের সকল গুনাহ কে জালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়।

এমন করে সারা রামজান অল্প অল্প করে পিছনের বছরের গুনাহ গুলো কে শরীরের ভিতরের আগুনে জালাতে থাকে। যখন ২৯ রোজা এসে পরে তখন পিছনের বছরের সকল গুনাহ আল্লাহ্‌ তায়ালা জালিয়ে বাতাসে উড়িয়ে দেয়। এবং বলে যাও এবার তুমি জীবন টাকে আবার নতুন করে উপভোগ কর। কেননা পিছনের বছরের সকল গুনাহ কে মাফ করে দেয়া হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

লোহা জলে গিয়ে পরিষ্কার হয়, সোনা আগুনে জলে পুড়ে পরিষ্কার হয়, ধাতু জলে পরিষ্কার হয়, কাপর ধোয়ার মাধ্যমে পরিষ্কার হয়, ঠিক তেমনি ভাবে মানুষের গুনাহ ও পরিষ্কার হয়।

যখন আমরা কাপর ধুই কাপরের ময়লা কোথায় থাকে উপরে? কিন্তু সর্নের ময়লা ভিতরে থাকে উপরে না। তাকে ভিতর থেকে পরিষ্কার করতে হয়। ঠিক তেমনি ভাবে মানুষের ভিতরে ময়লা ও ভিতর থেকে পরিষ্কার হয়ে যায়, এই মিথ্যা, সুদ , ঘুষ, ফিতনা এই সব কিছুই মানুষের ভিতরে থাকে। আল্লাহ্‌ তায়ালা এই রোজার মাসে যখন বান্দা ক্ষমা চায়, অনুততপ্ত হয়, রোজা রাখে তখন ঠিক তার আগের গুনাহ গুলো কে ভিতর থেকে পরিষ্কার ফেলে যেমন কিনা সোনা কে ভিতর থেকে পরিষ্কার করে চক চকে পরিনত করে। এই ভাবেই আল্লাহ্‌ তায়ালা মানুষের গুনাহ দ্বারা কলুষিত হৃদয় কে পরিষ্কার করে তাকে পাক- সাফ করে দুনিয়াতে ছেড়ে দেয়।

এই রমজান মাসের শেষের দিকে শবে কদর আসছে, ২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ এই দ্বীন গুলোর যে কোন একটি দিনে শবে কদর ঘুরতে থাকবে। শুধু মাত্রই ২৭ রামজান শবে কদর নয়। বরং এই ৫ রাতের যে কোন একদিন শবে কদর হবে। আপনি আপনার জীবন থেকে এই পবিত্র রোজার মাসে ৫ টি রাত জেগে থাকুন ইন শা আল্লাহ্‌ আপনি শবে কদর পেয়ে যাবেন। আর এর ফজিলত হল আপনি ৮০ বছর জায়নামাজ বিছিয়ে বসে থাকেন আপনি যা সওয়াব কামাবেন এই এক রাতেই আপনি তার চাইতেও দিগুণ সওয়াব আল্লাহ্‌ তায়ালা আপনাকে উপহার দিবেন।

৪ প্রকার লোক কে আল্লাহ্‌ তায়ালা কোন দ্বীন ক্ষমা করবেন না, আর এদের শবে কদরেও আল্লাহ্‌ তায়ালা ক্ষমা করেন না।

১ যে মদ খায়

২ যারা পিতা-মাতাআর নাফরমান সন্তান

৩ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী লোকজন, যারা বলে আপনাকে একটা কথা বলি অমুকের নামে কাউকে বলবেন না, আবার আরেক জন কে গিয়ে বলে দেখসেন আপনার ব্যাপারে কি বলে এই প্রকার লোকেরা ক্ষমা পাবেন না। সবার সাথে ঝগড়া বাদিয়ে দেয়া লোকজন। যাদের মনের মধ্যে নর্দমার কীট থাকে অর্থাৎ মুখে এক মনে আরেক এই লোক জন গুলো।

৪   যারা অন্যের বিনাস করে মজা পায় তারা।

এই জঘন্য ৪ টি কাজ যারা করবেন শবে কদরে ও আল্লাহ্‌ তাকে ক্ষমা করবেন না। যদি অই ব্যক্তি রা আপনাকে ক্ষমা না করে।

আমাদের মাঝে যদি এমন কেউ থেকে থাকে তবে অবশ্যই আপনি আল্লার নিকট তাওবা করুন। আল্লাহ্‌ আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন। এই তাওবা এমন একটি জিনিষ যার দরুন সব মাফ হয়ে যায়। এই ৪ টি সেই জিনিষ জেগুলো আমাদের শবে কদর কে খারাপ করে দিবে।

তাই কারো ভিতরে যদি এর একটি জিনিষ ও থাকে সব তাওবার মাধ্যমে শেষ করে আমরা রামজানের এর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করি।

একটি কথা সর্বদা মানুষ বলে বা করে থাকে আর তা হল জখন মানুষ হজ্জ এ যায় তখন সবাই কে বলে, ভাই আমাকে মাফ করে দিয়েন কান্না কাটি নানান কিছু।

তাই এই হজ্জের মতনি একটি ফরজ হচ্ছে এই রমজানের রোজা।  রমজানের রোজা কে বাঁচানোর বা কবুল করার উপায় একটি আরা তা হল নিজের কলুষিত মন কে তাওবার মাধ্যমে পরিষ্কার করা।

এই কথা গুলো গভীর ভাবে উপলব্ধি করার চেষ্টা করুণ ইন শা আল্লাহ্‌ আপনার জীবনে পরিবর্তন আসবেই। আর এই সেই রোজার মাস যার অপেক্ষায় সকল মুসলমানরা থাকে সকল মুর্দার ও থাকে। তাই এই মাসে আমরা সকল মন্দ কাজ বাদ দিয়ে নিজের ভাগ্য কে দোয়ার মাধ্যমে পরিবর্তন করি। ও মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করি সবার জন্য দোয়া করি। যাতে নিজের হৃদয় টি শান্তি পায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here