Empathy – রাসূল (স) এর এক অসাধারণ গুণ | Modern Islam

Empathy – রাসূল (স) এর এক অসাধারণ গুণ

যখন আমি এই পর্ব টি অনুবাদ করতে বসেছি, কখনো কেদেছি, আবার কখন ও হেসেছি। যখন আমরা এই পর্ব টি শুনব চোখ বন্ধ্য করে অনুভব করার চেষ্টা করব। সেই ১৪০০ বছর আগের মানুষ টি কেমন ছিলেন । কত টা সম্মান ও ভালবাসা আল্লাহ্‌ তাকে দিয়েছিলেন। যে, সকল মাখলুকাত তার প্রতি অনুগত ছিল। এতো টা দয়ালু তিনি ছিলেন, তিনি আমাদের কখনো দেখেন নি এরপর ও আমাদের তিনি নিঃসার্থ ভাবে ভালবেশে গিয়েছেন। তিনি আসলেই সর্বকালের সেরা একটি চরিত্র। কে ছিলেন তিনি? তিনি ছিলেন আমাদের প্রিয় নবী রাসুলুল্লাহ (সাঃ)  যাকে আমরা অনুসরন করলে আমাদের জীবন বদলে যাবে।

পর্ব টি শেষ পর্যন্ত শুনুন ইনশা আল্লাহ্‌। নিজের ভিতর পরিবর্তন আসবেই।

আমরা empathy এর ধারণা থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছি। আর চর্চা করার কথা না হয় বাদ এই দিলাম। বেশির ভাগ সময় আমরা জানিনা আসলে এটা দ্বারা কি বুঝায়। কিন্তু আমরা এটা বুঝতে পারি যে, এটা দ্বারা sympathy বা এই ধরনের একটা কিছু বুঝায়।

sympathy অর্থ হল এটা বুঝতে পারা যে একজন মানুষ কোন পরিস্থিতি থেকে কোথায় উঠে এসেছে। অর্থাৎ কার খারাপ সময়ের বা দুঃখ কষ্টের স্বীকৃতি দেয়া।

আর empathy হল, সরাসরি তাদের ব্যাথা অনুভব করা, তাদের অবেগ, অনুভুতির সাথে একাত্ম হওয়া, বা তাদের সাথে মিলে যাওয়ার ক্ষমতা রাখা।

আমাদের প্রিয় নবী রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এই empathy শব্দটির একটি আদর্শ ছিলেন।

empathy শব্দটির অসাধারণ ও অবিশ্বাস্য সুন্দর বৈশিষ্ট্য তিনি প্রদর্শন করেছিলেন।

আমি আপনাদের কাছে খুবি দ্রুত এই সুন্দর ঘটনা বা বার্তা পৌঁছে দিতে চাচ্ছি। তাই আমার সাথে শেষ পর্যন্ত থাকার চেষ্টা করুন। আমি এই  empathy শব্দটির কিছু চমৎকার উদাহারন পেশ করতে যাচ্ছি যা বিভিন্ন মানুষের সাথে সম্পর্কিত।

কিভাবে আমাদের নবীজি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বিভিন্ন মানুষের ক্ষেত্রে এই empathy চর্চা করতেন। এখন ঐ ব্যক্তি টি যেই হোক না কেন।

যখন ইকরিমা ইবনে আবু জাহেল রাসুল (সাঃ) এর সাথে দেখা করতে এলেন, তিনি ছিলেন ইসলামের প্রকাশ্য ও সবচেয়ে বড় শত্রু আবু জাহেল এর ছেলে। ইকরামা বিন আবু জাহেল এর ঘটনায় যাওয়ার আগে আমরা আবু জাহেল এর কার্যকলাপ সম্পর্কে জেনে নেই।

আবু জাহেল ছিল সেই ব্যক্তি যে আমাদের নবিজী রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর ও ইসলাম এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। সুধু ঈমান আনার কারনে সেই অভিশপ্ত ও লাঞ্ছিত আবু জাহেল মুসলমানদের হত্যা করেছিল, তাদের উপর নির্যাতন করেছিল। এবং আবু জাহেল এই সেই ব্যক্তি যিনি আমাদের প্রিয় নবী রাসুল (সাঃ) কে গোপনে হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করেছিলেন।

সেই হতভাগা আবু জাহেল শেষ পর্যন্ত এক সেনাবাহিনী নিয়ে যুদ্ধ ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয় এই আশায় যে, রাসুল (সাঃ) কে হত্যা করা হবে এবং যত মুসলমান আছে তাদের সবাই কে হত্যা করবে। এই লোক তার অবস্থান খুবি পরিষ্কার ভাবে তুলে ধরেছিল যে, ইসলাম ও রাসুল (সাঃ) এর প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং চিন্তাধারা কেমন ছিল।

কিন্তু মজার ব্যাপার ছিল, এই অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।

তার ছেলেই হল ইকরামা, যে তার পিতার পাশে থেকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। এমন কি তার পিতার মৃত্যুর পর ও বিরোধিতা চালিয়ে গিয়েছিল।

মক্কা বিজয় হওয়ার পরে তিনি রাসুল (সাঃ) এর সাথে দেখা করার জন্য রওনা হলেন। রাসুল (সাঃ) এর যখন এই সংবাদ পৌছায় যে, ইকরামা মক্কায় প্রবেশ করেছে, এবং সে আপনার সাথে দেখা করার জন্য আসছে।

তখন রাসুল (সাঃ) সাহাবীদের দিকে ফিরলেন এবং বললেন, প্রসঙ্গক্রমে বলতে হচ্ছে, ইকরিমার বাবার নাম ছিল আমর ইবেন হিসাম। আর তাকে বলা হত, আবুল হাকাম অর্থাৎ জ্ঞানীর পিতা। কারন সে ছিল তাদের গোত্র নেতা। কিন্তু মুসলমানরা তাকে আবু জাহেল অর্থাৎ মূর্খের পিতা নামে সম্বোধন করতেন তার অপকর্মের কারনে।

আমরা আবার আগের কথায় যাচ্ছি, রাসুল (সাঃ) সাহাবীদের দিকে ফিরলেন এবং বললেন, “ইকরিমা আসছে আর আমি ধারণা করছি যে, তিনি ইসলাম গ্রহণ করবেন”

তার উপস্থিতিতে কেউ যেন তার পিতা কে আবু জাহেল বলে সম্বোধন না করে।

কারন এতে সে কষ্ট পাবে। যদিও সে পরবর্তিতে ইসলাম গ্রহণ করে, এবং বুঝতে পারে যে, তার পিতা ভুলের উপর ছিল। এবং তার পিতার বিশ্বাস, ধারণা, কাজ সবই ভুল ছিল। তারপরেও সে তার পিতা ছিল, আর এতে সে অবশ্যই মনে কষ্ট পাবে।

আজ তার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে, তার  বন্ধু হচ্ছে মুসলমান ও ইমান্দার ভাই ও বোনেরা। কিন্তু এরপর ও তার পিতা কে কেউ যদি মূর্খের পিতা বলে সম্বোধন করে সে মনে কষ্ট পাবে।

সুতারাং ইকরিমার উপস্থিতিতে তার পিতা কে কেউ আবু জাহেল বলে সম্বোধন করবে না।

এমনি মহানুভব ছিলেন আমাদের প্রিয় নবী রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তার এই empathy যেন আমাদের গোটা দিন কে বুঝার একটি ব্লু প্রিন্ট একে দিল। ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনার ব্যাপারে জতই জানি ততই হৃদয় প্রকম্পিত হয়ে উঠে একটিবার বার আপনাকে দেখার জন্য। আপনাকে অনেক ভালবাসি ইয়া রাসুলাল্লাহ। যদিও আপনাকে কখনো দেখিনি শুধুই শুনেছি। এখনো প্রতিটি একটি আশায় বেঁচে থাকি যে, দুনিয়াতে একটি বার আপনার সাক্ষাৎ পাব ইয়া রাসুলাল্লাহ।

 

এমনি ছিল তার empathy কারন তিনি আগেই নিজেকে তার জায়গায় বসিয়ে কল্পনা করে নিয়েছিলেন যে তাকে কেউ এমন টি বললে তার কেমন লাগবে।

মুনাফিক নেতা আব্দল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সলুল এর মৃত্যু। তিনি ছিলেন রাসুল (সাঃ) এর বিরুধে প্রধান ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ছিলেন মদিনার মুনাফিক সর্দার।

যখন তার ছেলে রাসুল (সাঃ) এর কাছে এসে বললেন, আমার পিতা মৃত্যুবরন করেছেন, আর আমি জানি যে সে সম্পূর্ণ রুপে আপনার বিরোধিতা করতো। আর সে আপনার সম্পর্কে ভয়াবহ, জঘন্য কথা বার্তাও বলেছে। কিন্তু সে তো আমার পিতা আমি তাকে নিয়ে খুবি উদ্বিগ্ন।

রাসুল (সাঃ) ঐ জায়গায়, ঐ অবস্থায়, তার জামা খুলে আব্দুল্লাহ কে দিলেন আর বললেন, এই জামা কে কাফন বানিয়ে জড়িয়ে তাকে কবর দাও।

রাসুল (সাঃ) এর জামা পেলে আমরা কি করতাম? ধারণা করতে পারেন যে, রাসুল (সাঃ) এর জামায় আবৃত হয়ে কবরে যাওয়া!

কি এক অসাধারণ সম্মান, কি এক অসাধারণ সৌভাগ্য। যদিও আল্লাহ্‌ তায়ালা পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন যে, এটা তার পাপ বা সে যা অন্যায় করেছে তা ক্ষমা করবেনা।

কিন্তু রাসুল (সাঃ) সেই সময় তার ছেলের কথা চিন্তা করেছিলেন। নিজেকে সে তার জায়গায় রেখে বুঝতে পেরেছিলেন যে, নিজের পিতাকে হারিয়ে সে কেমন অনুভব করেছিলেন। আর এইটাই একটি দৃষ্টান্ত আমাদের নবীজি উপস্থাপন করে গিয়েছিলেন যে, কিভাবে অন্যের আবেগে ও অনুভূতির সাথে একাত্ম হওয়ার ক্ষমতা মানুষ রাখে।

রাসুল (সাঃ) তার জীবনের খুবি স্পর্শকাতর একটি ঘটনা। তার নাতী হযরত আলী ও ফাতেমা (রাঃ) এর সন্তান ছিলেন, হযরত হুসাইন (রাঃ)।

২ ভাই এর মাঝে তিনি ছিলেন ছোট, হাসান ও হুসাইন। আল্লাহ্‌ তাদের উভয়ের উপর সন্তুষ্ট হন। ছোট ভাই তোতলাতেন, তার এতো বেশি তোতলামি ছিল যে তিনি একটি বাক্য ও শেষ করতে পারতেন না।

একটি বাক্য শেষ করতে তার অনেক সময় লাগতো। তার উপর সে ছিলেন একজন ছোট শিশু।

একটি শিশুর বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে এটা খুবি কষ্টদায়ক এবং বেদনাদায়ক ছিল। তার উপর তার বড় ভাই হাসান (রাঃ) অসাধারণ বাগ্মী ও সুভাষী।

এবং আল্লাহ্‌ প্রদত্ত তিনি বিশেষ গুনের অধিকারী ও বক্তা ছিলেন। চিন্তা করে দেখুন তো ছোট ভাই হোসাইন (রাঃ) কেমন চাপ অনুভব করতেন যিনি এতো বেশি তোতলাতেন।

আমরা জানি যখন বাচ্চারা একটু বড় হতে শুরু করে, ৪ বা ৫ বছর বয়সের সময় তাঁরা তখন কিছু টা সাহস অর্জন করে। এবং সে সময় তাঁরা অনেক কথা বলতে পছন্দ করে। একদিন রাসুল (সাঃ) কিছু সাহাবীর সাথে বসে ছিলেন, আর তার ২ নাতী ও তার সাথে বসে ছিলেন। তখন ছোটজন যে তোতলাতো সে কিছু একটা বলার চেষ্টা করছিল।

কারন তাঁরা তাদের নানা কে ভালোবাসতো। তাঁরা তার সাথে অনেক কথা বলতো। তো সে কিছু বলার চেষ্টা করছিল। আর রাসুল (সাঃ) সবাই কে এতো বেশি সম্মান করতেন যে, কেউ যদি কিছু বলা শুরু করতো তিনি চুপ করে থাকতেন। তিনি সেই ব্যক্তির দিক থেকে তার চেহারাই ফিরাতেন না। এবং বক্তার কথা বলার সময় তার দিকে তাকিয়ে থাকতেন।

এরপর হুসাইন (রাঃ) কথা বলা শুরু করলেন, আর রাসুল (সাঃ) থেমে গেলেন তার দিকে ফিরলেন। ফলে সেখানকার সবাই ও তার কথা শুনতে লাগলেন।

কিন্তু শিশু টি এতো বেশি তোতলাতে শুরু করলেন যে, পরিস্থিতি কিছু টা বে মানান হয়ে উঠল। তাই কিছু মানুষ প্রকৃতিগত ভাবে বদমেজাজি হয়ে নয়, বিদ্বেষ পরায়ণ হয়ে নয়, বরং কিছু মানুষ প্রকৃতিগত ভাবে একে অপরের দিকে তাকাতে লাগলেন বাচ্চাটার জন্য খারাপ লাগছে ভেবে। কারন সে একটি বাক্য ও শেষ করতে পারছেনা। পরিস্থিতি আসলেই কিছু টা বেমানান হয়ে উঠলো। অন্য দিকে রাসুল (সাঃ) তাকে একটি বারের জন্য ও থামালেন না। বা তিনি তার জন্য বাক্যের শেষ অংশ ও বলে দিলেন না। এদিকে সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) রাসুল (সাঃ)  এর দিকে লক্ষ্য করতে লাগলেন যে, তিনি কেমন আচরন করেন তা দেখার জন্য। তাঁরা বর্ননা করেন যে, তিনি মুচকি হাসি দিয়ে হুসাইন (রাঃ) এর দিকে তাকিয়ে থাকলেন।

আর চুপ করে তার কথা শুনতে লাগলেন। এটা শেষ করতে যদি ৫ মিনিট সময় ও লেগে যেত তাও তিনি তোয়াক্কা করতেন না। তিনি হুসাইন (রাঃ) কে তার বক্তব্য শেষ করতে দিলেন। হুসাইন (রাঃ) যখন তার কথা শেষ করলেন, রাসুল (সাঃ) অন্য সবার দিকে ফিরলেন, কারন সবাই তখন কিছু টা অপ্রস্তুত ও বেমানান হয়ে আছেন।

তিনি সবার দিকে ফিরলেন এবং বললেন যে, সে তার চাঁচা মুসা (আঃ) থেকে এই গুন পেয়েছে। মুসা (আঃ) দিকে নির্দেশ করলেন কারন তিনি ও তোতলাতেন।

এই শিশুর জন্য খারাপ অনুভব করোনা, বরং তাকে দেখে ঈর্ষা কর যে, সে আল্লার একজন মহানবী হযরত মুসা (আঃ) একটি বৈশিষ্ট্য ধারন করে আছে।

রাসুল (সাঃ) কি সুন্দর করে নিতিবাচক একটি জিনিষ কে ইতিবাচক করে দিলেন।

তিনি নিজেকে ঐ বাচ্চার জায়গায় কল্পনা করে বুঝতে পারলেন যে, ঐ বাচ্চার জন্য কোন বিষয় টা ঐ সময় দরকার ছিল। তার দরকার ছিল ভালবাসা, সমর্থন এবং গ্রহণযোগ্যতা। সে তখন যেমন ছিল এবং যেভাবে কথা বলতো তার জন্য।

Empathy নিয়ে সর্বশেষ যে ঘটনা টি আমি বলতে চাচ্ছি তা হল খুবি আবেগ প্রবনিয় একটি ঘটনা।

রাসুল (সাঃ) এর একজন সাহাবী ছিলেন বাশির (রাঃ), তিনি ছিলেন একজন আনসারি। তিনি একটি সামরিক অভিজানে গমন করেন। রাসুল (সাঃ) এই অভিযান টি তে অংশগ্রহণ করেন নি। তাঁরা যখন অভিযান শেষ করে মদিনায় ফিরে আসতেন, তিনি মদিনার বাইরে গিয়ে তাদের স্বাগত জানাতেন।

তখন সকল বাচ্চারা যাদের পিতারা এই সব অভিযানে অংশগ্রহণ করতো, তারাও এগিয়ে যেত, তাদের পিতাকে, ভাই কে, চাঁচা কে স্বাগত জানানোর জন্য।

তো সবাই মদিনার বাইরে গিয়ে অপেক্ষা করছে তাদের আগমনের জন্য। আস্তে আস্তে সবাই এগিয়ে আসছে। রাসুল (সাঃ) সবার এগিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন। এবং সবার শেষে একদম সেনাবাহিনির পিছন থেকে সবার দিকে লক্ষ্য রাখতেন।

এদিকে বাশির (রাঃ) এর ছোট ছেলে একটি উঁচু পাথরের উপরে উঠে তার বাবা কে খুজতে লাগলেন। তিনি দেখছেন সবাই এগিয়ে আসছে। তিনি সবাই কে জিজ্ঞেশ করতে লাগলেন, তোমরা কি আমার বাবা কে দেখেছ? কিন্তু তার বাবা কে দেখা যাচ্ছেনা। কাফেলার একদম শেষে তিনি যখন রাসুল (সাঃ) কে দেখলেন, তিনি বুঝতে পারলেন যে, এর মানে হল তার বাবা ফিরে আসেনি। এবং ছোট শিশু টি কাদতে শুরু করলেন।  তিনি বুঝতে পারলেন যে, তার পিতা ফেরৎ আসেনি শহীদ হয়ে গেছেন। রাসুল (সাঃ) এটা দেখে থামলেন, তিনি তার বাহনে চড়ে আসছিলেন। তিনি থামলেন, বাচ্চাটি কে কোলে তুলে নিলেন, তাকে জড়িয়ে ধরলেন।

তিনি বাচ্চাটি কে এভাবে জড়িয়ে ধরে রাখলেন যতক্ষণ না বাচ্চাটির কান্না থামল। তিনি তাকে সান্ত্বনা দিলেন এবং বললেন, “কান্না করো না, চিন্তা করো না”

তোমার যদি একজন পিতার দরকার হয় তোমার পিতা এবং আয়েশা হবে তোমার মাতা। এভাবে তিনি অন্য একজনের সন্তান কে আলিঙ্গন করে নিলেন।

এটাই হল মূলত empathy. লক্ষ্য করে দেখুন কিভাবে এটা একজন মানুষের আচার – আচরন এবং চরিত্র কে সুন্দর করে তোলে। এই গুন্টি ছিল নবুওতি চরিত্রের একটি কেন্দ্রিয় দিক।

আসুন আমরা আজ থেকেই নিজের ভিতরের empathy কে জাগ্রত করার চেষ্টা করি। যাতে মৃত্যুর পর এই empathy আমাকে যেন অন্তত সাময়িক সময়ের জন্য হলেও কবরের ভয়ংকর আজাব থেকে রক্ষা করে।

ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনার ব্যাপারে জতই জানি ততই হৃদয় প্রকম্পিত হয়ে উঠে একটিবার বার আপনাকে দেখার জন্য। আপনাকে অনেক ভালবাসি ইয়া রাসুলাল্লাহ। যদিও আপনাকে কখনো দেখিনি শুধুই শুনেছি। এখনো প্রতিটি একটি আশায় বেঁচে থাকি যে, দুনিয়াতে একটি বার আপনার সাক্ষাৎ পাব ইয়া রাসুলাল্লাহ।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here