Patience is the key to fight hard times – ধৈর্য এর ফল | Modern Islam

Patience is the key to fight hard times – ধৈর্য এর ফল | Modern Islam

যখন আমরা আমাদের জীবনের কোন কঠিন সময় পার করি তখন আমাদের ধৈর্যের প্রয়োজন হয়। আর আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেছেন ইন্না মা’আল উস্রি ইউসরো। নিশ্চয় কষ্টের পরে সুখ আছে। আমাদের নবিজি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কেও আল্লাহ্‌ তায়ালা অনেক কষ্টের পরে সুখ দিয়েছেন। উদাহারন স্বরূপ আমরা বলতে পারি, যখন তিনি একাধারে পিতা আব্দুল্লাহ, মাতা আমেনা, চাঁচা আবু তালেব, (যিনি তাকে তার পিতার মৃত্যুর পর সর্বদা বুকে আগলে রাখতেন) এবং বিবি খাদিজা (রাঃ) সবাই এক সাথে হারান। তখন তিনি অনেক ভেঙ্গে পরেন। এবং ঐ সময় তায়েফবাসীরা ও তাকে পাথর মেরে রক্ত ঝরিয়েছিল। একটি কষ্ট শেষ না হতেই আরেকটি কষ্টের শুরু।  এরপর সব কষ্টের দিন শেষ হওয়ার পর আল্লাহ্‌ তায়ালা তাকে মে’রাজ নামক একটি বিস্ময়কর যাত্রা উপহার দেন।

যখন আপনি সুখে থাকেন তখন আপনার ধৈর্য ধরার প্রয়োজন হবেনা। কিন্তু যখন আপনি দুঃখী হবেন তখন আপনাকে অবশ্যই ধৈর্য ধরতে হবে। যখন খারাপ কিছু হয়, বা যখন খারাপ সময় জেতে থাকে,

তখন আল্লাহ কে স্মরণ করুন। উনি বলেছেন, ওয়া বাশশিরিস সবিরিন।

তাদের কে সাধুবাদ জানাও যাদের ধৈর্য আছে বা যারা ধৈর্য ধারন করে। সুবহানাল্লাহ!

কিন্তু কেন? কারন যারা এটা বিশ্বাস করে যে, ধৈর্যের ফল সর্বদা ভাল হয়, তাদের আচার আচরন সব কিছুই অন্যদের থেকে ভিন্ন। জীবনের যখন কঠিন অধ্যায় গুলো আসে, তখন সব কিছুই কেমন যেন বেমানান হতে থাকে। কোন কিছুই তখন ঠিক হয় না। দেখবেন তখন ভালো জিনিশগুলো ও কেমন যেন রঙ বদলাতে থাকে।

আর ঐ সময় যা কিছু ঘটছে এর পিছনে নিশ্চয় কোন না কোন উদ্দেশ্য থাকে। তাই ঐ সময় সবাই ধৈর্য ধারন করুন। যদি আপনি ঐ সময় ধৈর্য ধারন করেন, তবে নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তায়ালা আপনার জন্য রেখেছে মহা পুরষ্কার। আমরা মনে করি যে, আমরা এই পৃথিবীতে যা কিছু দেখি, যা কিছু চাই,এটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। যেমন, একজনের চাওয়া বা উদ্দেশ্য হল চাকরি পাওয়া। এদিকে আবার অপর একজনের উদ্দেশ্য হল, বিক্রি করা, অর্থাৎ সে আজ তার মালামাল বিক্রি করবে।

কিন্তু আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেন, যখন তোমাদের ভাল সময় আসে তখন তোমাদের ধৈর্য শিক্ষা নেয়া উচিৎ। যাতে কষ্টের দিন গুলো তে এগুলো তোমাকে ভেঙ্গে না দেয়।

আর ধৈর্য এর চাইতে বড় শিক্ষা আর কিছুই হতে পারেনা।  কারন এই ধৈর্যের ফল সর্বদা মধুর হয়। সুবহানাল্লাহ!

আর আমাদের মধ্যে কেউ যদি এই শিক্ষা নিয়ে ফেলে  তবে সে সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। কারন আপনি যা কিছুই আপনার জীবনে পাবেন বা পেয়ে থাকেন সবি আপনার জন্য জন্য উপহার স্বরূপ। কারন আপনি  যা কিছু পেয়েছেন বা অর্জন করেছেন আপনি কখনো ভাব্বেন না যে সেটা আপনি নিজে অর্জন করেছেন।  বরং ধৈর্যের পর এটা একটি মহা পুরষ্কার যা আল্লাহ্‌ তায়ালা আপনাকে দিয়েছে

তাই যখন জীবনে কোন ভাল জিনিষ বা ভাল সময় থাকবেনা তখন মনে করবেন যে, সেটা আপনার জন্য চিরস্থায়ী ছিলনা। ব্যাপার না এমন টা হাওয়া টা স্বাভাবিক। কারন এই দুনিয়াতে কিছুই আমার না। তাই ধৈর্য এবং কষ্ট আমরা একে অপরের সাথে হাত মিলিয়ে নিলাম সারা জীবনের জন্য। যেমন কিনা হাত আমাদের সাথে থাকে, চোখ আমাদের সাথে থাকে, নাক আমাদের সাথে থাকে, আমাদের জিহ্বা আমাদের সাথে থাকে।

কিছু বিষয় যেগুলো আপনাদের  সামনে উপস্থাপন করার কারন হল যাতে আপনারা বুঝতে পারেন যে, ধৈর্য আর কষ্ট কত টা ওতপ্রোত ভাবে জড়িত।

আমি আপনাদের আজ যে কথা গুলো বলছি এগুলো আমার কথা না। এই সব উপদেশ গুলো আল্লাহ্‌ তায়ালা আমাদের দিয়েছেন যাতে আমরা নিরাশ না হই।

১ম যখন খারাপ সময় আসবে তখন সর্বদা ইন্না লিল্লাহ পড়ুন। কারন আল্লাহ্‌ তায়ালা আমাদের এই জ্ঞান দিয়েছেন যে, যখন খারাপ সময় আসবে তখন আমরা কি করব।

২য় টি হচ্ছে ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আর এতে কোন সন্দেহ নেই যে, আমরা আল্লাহর নিকট এই পুনরুত্থান হব। এবং এটা গুরুত্বপূর্ণ কেন?

কারন আপনার এখন যে সমস্যা গুলো আছে, বা আপনি এখন যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন এগুলা একটাও চিরস্থায়ী না।

এটা হতে পারে অর্থনৈতিক সমস্যা, হতে পারে শারীরিক সমস্যা, হতে পারে পারিবারিক সমস্যা, এবং হতে পারে আবেগ সঙ্ক্রান্ত সমস্যা।  এটা যে ধরণের সমস্যাই হোক না কেন এগুলো একটাও চিরস্থায়ী না।  কেন জানেন? কারন আমারা কেউ এই দুনিয়াতে চিরস্থায়ী না।

শেষ করার আগে

আজকের পুরো লেকচার টি পুনরাবৃত্তি করছি,

১ম জিনিষ হচ্ছে, যখন খারাপ সময় আসে বা খারাপ কিছু ঘটে তখন আপনার জিহ্বা কে শিক্ষা দিন আপনার হৃদয় কে শিক্ষা দিন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

২ আপনার সাথে যত খারাপ কিছুই ঘটুক না কেন কখনো আল্লাহ্‌ কে দোষারোপ করবেন না।

আর এই কথা কাউকে বলবেন ও না। যদি আপনি এমন কিছু কাউকে বলতে চান আগে নিজের ব্যাপারে ভাব্বেন। কারন আপনার নিজের সাথে কি হচ্ছে না হচ্ছে এই ব্যাপারে আপনি নিজেইতো সঠিক টি জানেন না। তো অপর কে তার জীবন সম্পর্কে  কি জানাবেন। কারন কিছু জিনিষ ঘটে ভাগ্যের বিবর্তন থেকে, কিছু ঘটে  আল্লার পক্ষ থেকে। তাই আল্লাহ্‌ কি করেছে না করেছে এই ব্যাপারে আপনি সিদ্ধান্ত দেয়ার কেউ না। কারন উনি আপনার কাছে কোন কিছু বিস্তারিত বলেনি যে উনি এই কাজ টি অপরের সাথে কেন করেছেন।  এবং আপনার কাছে কোন প্রমাণ বা অনুমুতি নেই যে, অন্যের ভাগ্যের সাথে কি হচ্ছে না হচ্ছে কেন হচ্ছে,  এই ব্যাপারে আপনি তাকে সিদ্ধান্ত দিবেন বা আপনার ব্যক্তিগত মতামত দিবেন।

এবং যখন এমন কিছু আমাদের সাথে ঘটবে তখন আমরা একটি পার্থক্য করতে পারি ২ টি জিনিষের ভিতরে,

১ একটির নিয়ন্ত্রন আমার হাতে।

২ আরেকটির নিয়ন্ত্রন আমার হাতে না।

ধরুন এমন কিছু হয়েছে তা কোন কিছুই আমার হাতে নেই। জেটা আমার হাতে নেই সেটার আমার পক্ষে নিয়ন্ত্রন করাও সম্ভব ছিলনা। কারন ভাগ্যের খেলা তো আর আমার হাতে না। যেহেতু আমরা জানিনা বা আমাদের নিয়ন্ত্রনে কোন কিছুই নেই তাই আমরা তখন বলব ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

আর জেটা আপনার নিয়ন্ত্রনে থাকবে, এবং এরপর ও যদি অন্য কিছু ঘটে তবে এর দায়ভার আপনার নিজেকে নিতে হবে। কারন এটির নিয়ন্ত্রন আল্লাহ্‌ আপনার হাতে দিয়েছিল।

আপনার নিয়ন্ত্রনে সব কিছু থাকার পর ও যদি খারাপ কিছু হয় তখন এটা আপনাকে মেনে নিতে হবে যে, এটার জন্য দায়ী আমি।

এবং একমাত্র আপনি একজন ছিলাম যে, আরেকটু ভাল ভাবে বিবেচনা করলে আপনি আরো ভাল কিছু করতে পারতেন। এবং এই যে খারাপ ফলাফল টা আসছে এটা আপনার নিজের ব্যর্থতার জন্যই আসছে।

তাই আসুন আমরা সর্বদা আল্লার নিকট দোয়া করি যে, আল্লাহ্‌ তায়ালা আমাদের ঐ লোকদের অন্তর্ভুক্ত করুক যারা এই জীবন ধাঁদার পরিক্ষায় সফলতা অর্জন করেছে।

আসুন আমরা আমাদের দেয়া আদর্শ অর্থাৎ রাসুল (সাঃ) কে অনুসরন করি। তার জীবনি সিরাত, তার আচার আচরন, কথা, কাজ সব কিছু কে অনুসরন করি। যাতে বিচার দিবসে তার নূরের আলো তে অন্তত আমার আপনার স্থান টা যাতে হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here