Ramadan Mubarak 2019 | মাহে রমজানের প্রস্তুতি | Modern islam

সারাদিন পর যান্ত্রিক জীবন থেকে যখন ঘরে ফিরতে থাকি কখনো হতাসা কাজ করে, কখনো মন মেজাজ অত্যাধিক খারাপ থাকে, কখনো খুশি মনে ফিরি।

খুসি মনে ঘরে তখনি ফিরি যখন আমি নিজে আনন্দিত হই কোন কারনে। আর দুঃখী মনে তখনি ঘরে ফিরি যখন নিজে দুঃখী হই।

কখনো কি ভেবে দেখেছি যে, মানুষের জন্য ভাল কিছু করলে বা কোন মানুষ নিজের দ্বারা উপকৃত হলে আমাদের রুহ কত টা শান্তি পায়?

যখন আপনি নিজে আনন্দিত হন তখন কি কখনো ভেবেছেন যে আমার সামনে বা পাসে যে মানুষটা দুঃখী মনে ঘরে ফিরছে বা পথে বসে আছে বা আমার কাছে সাহায্য প্রার্থী তার কেমন টা লাগছে?

কখনো আমরা তা ভাবিনা, আমরা ভাবিনা বিধায় বর্তম্মান সময়ে আমাদের জীবনের একটি দুর্দশা না শেষ হতেই আরেকটি চলে আসে। কারন আমি তো আমার আনন্দের সময় অন্যের কথা ভাবিনি যে তখন দুঃখী ছিল। তাহলে এখন কেন কোন মানুষ আপনার খারাপ সময় আপনার কথা ভাব বে?

অথচ আমাদের নাবী রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ওয়াসাল্লাম তিনি সবার খোজ নিতেন। রাসুল (সাঃ) এক বুড়ির সর্বদা খোজ খবর নিতেন। উনার ইন্তিকালের পর একদিন ঐ বুড়ি কে দেখার জন্য হযরত আবু বকর (রাঃ) ও হজরত ওমর (রাঃ) গেল। গিয়ে দেখেন ঐ বুড়ি অঝরে কাদতেসে উনাকে কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছেনা। পরে হযরত ওমর ও আবু বকর (রাঃ) বলতে লাগল আরে রাসুল (সাঃ) তো একা আপনার সেবা করতো। এখন আমরা দুজন মানুষ আছি আপনার সেবার জন্য আপনি কান্না থামান হে বুড়ি মা!

তখন ঐ বুড়ি বলতে লাগল আরে আমি তো এই জন্য কান্না করছিনা যে আমার সেবার জন্য কেউ নেই। আমিতো কান্না করছি এই জন্য যে, এখন আসমানের দরজা আমাদের জন্য সারাজীবনের জন্য বন্ধ্য হয়ে গেসে। এখন আর কোন সমস্যার সমাধান সরাসরি আসমান থেকে আসবেনা। আগে তো কিছু হলেই আমরা রাসুল (সাঃ) এর কাছে যেতাম উনি আল্লার কাছে ফরিয়াদ করলে আল্লাহ্‌ তায়ালা সরাসরি সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিতেন। এখন তো ঐ দরজাটা চীরতরে বন্ধ্য হয়ে গেসে। বুড়ির এই কথা শুনে হজরত আবু বকর ও ওমর (রাঃ) দু জনি কাদ তে লাগলেন। কথা টি সাধারন কিন্তু একটু ভেবে দেখুন কথার মর্মাথ কত টা গভীর।

রাসুল (সাঃ) তো আমাদের জন্য একটি মডেল ছিলেন যে আমরা কিভাবে চলব। আর উনার কাজ কর্ম কথা বার্তা সব কিছু হচ্ছে আমাদের জন্য আদর্শ স্বরূপ। যে আমরা কিভাবে নিজেকে পরিচালনা করব। তাই আমরা যখন অন্যের দিকে আঙ্গুল তুলে কথা বলব আমাদের এটি বুঝা উচিৎ যে, আমাদের দিকে আরো ১০ আঙ্গুল তাক করে আছে আমার ভুল ধরার জন্য।

প্রতিদিন আমরা নিজেকে অন্তত ১৫ মিনিট একা সময় দেই, নিজেকে নিজে জিজ্ঞেশ করি যে সারা দ্বীন আমি কি করেছি? কেউ আমার দ্বারা কষ্ট পেয়েছে? আমি নিজে ঠিক আছি? আমি যে নিজে অন্যের দিকে আঙ্গুল তুলি? এই প্রশ্নের উত্তর গুলো দেখুন তো নিজের ভিতর খুজে পান কিনা?

এবং যখন এই উত্তর গুলো খুজে পাবেন তখন নিজেকে আয়নার সামনে গিয়ে দ্বারা করান দেখুন তো তখন নিজের চেহারা টা দেখতে ইচ্ছা করে কিনা?  চিন্তা করুণ আমরা এমন গুনাহ করি যার দরুন নিজের চোখে নিজে পচা যাই। এরপর ও আল্লাহ্‌ তায়ালা আমাদের অনবরত ক্ষমা করতে থাকেন।

চলুন আমরা এই পবিত্র রমজান মাস আসার পুর্বে কিছু আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করি।

১ এই রোজার মাসে এবং সর্বদা শত কষ্ট হলেও আমরা নামাজ এর জন্য সময় বের করব। নামাজ আর কখনো কাজা করবনা। কেননা পবিত্র কুরআনে আছে, ইন্নসা সালাতা তানহা আনিল ফাহশা ঈ ও্যাল মুঙ্কার। নিশ্চয় নামাজ সর্বদা আমাদের গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে।

২ কারো সাথে মিথ্যা বলবনা।

৩ এমন কোন কাজ কাজ করবনা যার দ্বারা আমাদের রোজা উপোষ এর মত হয়ে যায়। রোজা হিসেবে গন্য না হয়। যেমন, আপনি রোজা রেখেছেন কিন্তু গান শুঞ্ছেন নিয়মিত, টিভি দেখছেন, নাচ গান তো আছেই। এবং নামাজ ও পড়ছেন না। এবং মিথ্যেও বলছেন। তাহলে এটি কি সিয়াম হল নাকি উপোষ হল কোন টি?

৪ কাউকে কষ্ট দিবনা, কারো ক্ষতি সাধন চেষ্টা করবনা

৫ দান সাদকাহ এর শুরু টা আমাদের এই রামজান থেকেই শুরু হোক। কেননা মৃত্যুর পর আপনার সাথে কিছুই যাবেনা, না সম্পদ না কোন আপন মানুষ। জেই মানুশটির সাথে এক সাথে কিছুক্ষন আগ মুহুর্ত পর্যন্ত ছিলেন তার নিঃশ্বাস বন্ধ্য হওয়া মাত্রই তাকে অন্য একটি পরিচয় দিতে বিন্দু পরিমান দ্বিধা করবেন না। এবং সেই অজ্ঞাত পরিচয়টির নাম নাম হচ্ছে লাশ। একটু ভেবে দেখুন আমরা কতটা অসহায় এই দুনিয়াতে।

৬ পুর্বের গুনাহ এর জন্য আল্লার কাছে ক্ষমা চাওয়া, তাওবা করা। কেননা আল্লাহ্‌ তায়ালা এই মাসে সবাই কে ক্ষমা করার জন্য অপেক্ষা করছেন কখন তার বান্দা ক্ষমা চাবে কখন তাকে মাফ করে দিয়ে বলবে। যাও তোমার সকল গুনাহ মাফ করা হয়েছে। শুরু কর এই বছর টাকে আবার নতুন করে। গুছিয়ে নাও তোমার এই সুন্দর জীবন কে আল্লাহ্‌ ও তার রাসুলের অনুসরন মোতাবেক।

এই ৬ টি বিষয়ে আমরা দৃঢ় ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। দেখা যাক কি হয় মাস শেষে।

তাই এই রোজার মাস থেকেই নিজেকে সময় দেয়া শুরু করুণ নিজের ভিতর পরিবর্তন আসবেই। যখন নিজে পরিবর্তন হয়ে যাবেন তখন আসে পাসের লোক জন আপনার জন্য কাদা মাটি হয়ে যাবে। তাই নিজেকে নিয়ে ভাবতে শিখুন।

ওয়াল্লাহু গফুরুর রহিম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here